চোখের বালি–তেত্রিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  পরদিন প্রত্যুষ হইতে ঘনঘটা করিয়া আছে। কিছুকাল অসহ্য উত্তাপের পর স্নিগ্ধশ্যামল মেঘে দগ্ধ আকাশ জুড়াইয়া গেল। আজ মহেন্দ্র সময় হইবার পূর্বেই কালেজে গেছে। তাহার ছাড়া-কাপড়গুলা মেঝের উপর পড়িয়া। আশা মহেন্দ্রের ময়লা কাপড় গনিয়া গনিয়া, তাহার হিসাব রাখিয়া ধোবাকে বুঝাইয়া দিতেছে। মহেন্দ্র স্বভাবত ভোলামন অসাবধান লোক; এইজন্য আশার প্রতি তাহার অনুরোধ ছিল ধোবার বাড়ি দিবার … বিস্তারিত পড়ুন

চন্দ্রনাথ– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ––চতুর্থ পরিচ্ছেদ

চন্দ্রনাথের মাতুলানী হরকালীর মনে আর তিলমাত্র সুখ রহিল না। ভগবান তাহাকে এ কি বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলিয়া দিলেন। এ সংসারটা কাহারো নিকট কণ্টকাকীর্ণ অরণ্যের মত বোধ হয়, তাহাদের চেষ্টা করিয়া এখানে একটা পথের সন্ধান করিতে হয়। কেহ পথ পায়, কেহ পায় না। অনেক দিন হইতে হরকালীও এই সংসার-কাননে একটা সংক্ষেপ-পথ খুঁজিতেছিল, চন্দ্রনাথের পিতার মৃত্যুতে একটা সুরাহাও … বিস্তারিত পড়ুন

আলো ও ছায়া— শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়– দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুরমা। যজ্ঞদাদা, সেই গল্পটা আবার বল না! যজ্ঞ। কোন্‌টা সুরো? সুরমা। সেই যে আমাকে যবে বৃন্দাবনে কিনেছিলে। কত টাকায় কিনেছিলে গো? যজ্ঞ। পঞ্চাশ টাকায়। আমার তখন আঠার বছর বয়স। বি. এ. এক্‌জামিন দিয়ে পশ্চিমে বেড়াতে যাই। মা তখন বেঁচে, তিনিও সঙ্গে ছিলেন। একদিন দুপুরবেলায় মালতী-কুঞ্জের ধারে একদল বৈষ্ণবী গান গাইতে আসে, তারই মধ্যে প্রথম তোমাকে … বিস্তারিত পড়ুন

ব্যবধান– রাগিব নিযাম জিসান

ডিজিএফআই হেডকোয়ার্টার। সেক্টর- এজেন্টস অব ডি। কপাল চেপে ধরে বসে আছেন এজেন্ট টাইগার। তাঁর চারপাশে এজেন্টরা রুদ্ধশ্বাসে কেস ফাইলটা ভাগে ভাগ করে অ্যানালাইজ করছে। এরকম জটিলতর কেস আগে হাতে পড়েনি। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র যুগ্ম সচিব খোদ নিজে এসে ধর্না দিয়েছেন হেডকোয়ার্টারে। -ইউ নো দিস ইজ ভেরি কনফিডেনশিয়াল সিন্স আই ফেস আ প্রবলেম। উপদেষ্টা … বিস্তারিত পড়ুন

হযরত আবদুল্লাহ খাফীফ (রঃ) – পর্ব ১

হযরত আবদুল্লাহ খাফীফ (রঃ) পারস্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধক। শরীয়ত ও মারেফাত বিদ্যার এই অগ্রগণ্য পণ্ডিত তরীকতের ইমামরূপে বিবেচিত হতেন। তাঁর সাধনাও ছিল বড় কঠিন প্রতি রাকআত নফল তিনি দশ হাজার বার সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। সমকালের বিখ্যাত সাধক হযরত রইয়াম (রঃ), হযরত ইবনে আতা (রঃ), হযরত মনছুর হাল্লাজ (রঃ), প্রমুখের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। অনেক সময় … বিস্তারিত পড়ুন

ইবলিসের চক্রান্তে মূর্তি পূজার সূচনা

হযরত ইদ্রীস (আঃ)-এর যুগ হতে পৃথিবীতে শিরক ও কুফরের সূচনা হয়েছে। এর পূর্বে দুনিয়াতে সকলেই এক ধর্মের অনুসারী ছিল। সকলেই তৌহিদের উপর কায়েম ছিল। অবশ্য পাপ ও অপরাধের সূচনা হযরত আদম আঃ এর পুত্র কাবিল স্বীয় ভ্রাতা হাবিলকে হত্যা করার মাধ্যমেই হয়। কিন্তু তা শিরক বা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তা মারাত্নক অপরাধ ও জঘন্য … বিস্তারিত পড়ুন

মণিহারা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-২য় অংশ

যন্ত্রটি, এই দিগ্‌দর্শন যন্ত্রণাশলাকাটি নির্বিচারে সর্বসাধারণের হস্তে দিয়াছেন। বিধাতার দোষ দিই না, তিনি মেয়েপুরুষকে যথেষ্ট ভিন্ন করিয়াই সৃষ্টি করিয়াছিলেন, কিন্তু সভ্যতায় সে ভেদ আর থাকে না, এখন মেয়েও পুরুষ হইতেছে, পুরুষও মেয়ে হইতেছে; সুতরাং ঘরের মধ্য হইতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিদায় লইল। এখন শুভবিবাহের পূর্বে পুরুষকে বিবাহ করিতেছি না মেয়েকে বিবাহ করিতেছি, তাহা কোনোমতে নিশ্চয় … বিস্তারিত পড়ুন

রামদীনের পোষা ভাল্লুক

রামদীনের কেউ নেই–মা নেই, বাবা নেই, ভাই-বোন নেই, আছে শুধু একটা পোষা ভাল্লুক । মা তার ছোট বেলাতেই মারা গেছে। বাবা অনেকদিন বেঁচে ছিল–এই তো বছর খানেক আগে মারা গেল। ঘরে এখন দুটি প্রাণী বাস করে–রামদীন আর ওর ভাল্লুক। মা’র আদর, স্নেহ-ভালোবাসার কথা ওর মনে আছে। তবে সে সব কথা সে আর মনে করতে চায় … বিস্তারিত পড়ুন

লাল সূতো আর নীল সূতো

এক জোলা একদিন তাহার স্ত্রীকে বলিল,‘আমি পায়েস কাব, পায়েস রেঁধে দাও।’ জোলার স্ত্রী বলিল, ‘ঘরে কাঠ নেই। কাঠ এনে দাও, পায়েস রেঁধে দিচ্ছি। জোলা কাঠ আনিতে গেল। পথেরা ধারে একটা বড় আম গাছ ছিল, তাহার একটা শুকনো ডালের আগায় বসিয়া জোলা তাহারই গোড়ার দিকটা কাটিতেছে। তাহা দেখিয়া পথের লোক একজন ডাকিয়া বলিল, ‘ওহে, ও ডাল … বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ–৪য় পর্ব–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কটাক্ষের আঘাত । কী অসীম ঐশ্বর্য , কী অনন্ত কারাগার । দুই দিকে দুই দাসী বলয়ের হীরকে বিজুলি খেলাইয়া চামর দুলাইতেছে । শাহেনশা বাদশা শুভ্র চরণের তলে মণিমুক্তাখচিত পাদুকার কাছে লুটাইতেছে ; বাহিরের দ্বারের কাছে যমদূতের মতো হাবশি দেবদূতের মতো সাজ করিয়া , খোলা তলোয়ার হাতে দাঁড়াইয়া । তাহার পরে সেই রক্তকলুষিত ঈর্ষাফেনিল ষড়যন্ত্রসংকুল ভীষণোজ্জ্বল … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!