। ভৌতিক ঘুড়ি ।।

মঙ্গলবার বড়দিন বলে আমি ঘুমাতে গেলাম দেরীতে, ‘বাটাভিয়া মেডিকেল জার্নাল’-এর জন্য একটি লেখা তৈরি করলাম দুপুর পর্যন্ত, তারপর গেলাম জাহাজঘাট। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য জাহাজের টিকেট কাটতে। সামারিন্ডায় কম দিন তো কাটালাম না। পুরো ছয় বছর। এখন এই জায়গা ছেড়ে চলে যাচ্ছি চিরতরে। অবশ্য এজন্য আমি মনে মনে খুশি।কাজটাজ সেরে ফিরে এলাম বাড়িতে। বাঁধাছাঁদা শুরু করলাম। … বিস্তারিত পড়ুন

ললাটের লিখন– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– দ্বিতীয় অংশ

“ ওটা তো খাঁটি লেখকের লেখা নয় । ভিস্তির জলকে ঝরনার জল বলে না । সমাজের আবর্জনা ঝাঁটাবার জন্যে কোমর বেঁধেছিলে । আন্দাজে চলে না ও কাজ । আবর্জনাও সত্য হওয়া চাই আর ঝাঁটা-গাছটাও , সঙ্গে চাই ব্যবসায়ীর হাতটা । ” পৃথ্বীশ যখন একটা ঝকঝকে জবাবের জন্যে মনের মধ্যে হাতড়াচ্ছে এমন সময় বাঁশরি বললে , … বিস্তারিত পড়ুন

তিতির কুকুর

তিতি স্কুলে যায়। কাঁটাবনের বাস্তায় দিয়ে। যাওয়ার পথে দেখে খাঁচার ভেতর বন্দি পশুপাখি। পশুপাখিগুলো বিভিন্ন রকমের শব্দ করে। পাখিগুলোর প্রতি তিতির খুব মায়া হয়। খাঁচার ভেতর কুকুর ঘেউ ঘেউ করে। তিতি ভাবে, এই কুকুরগুলো তো সঠিক সময় খাবার পাচ্ছে। পাচ্ছে যত্ন। কিন্তু রাস্তায় যে কুকুরগুলো ঘুরে বেড়ায়, তাদের কথা কি কেউ ভাবে। মনে হয় ভাবে … বিস্তারিত পড়ুন

বিন্দুর ছেলে– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় –পঞ্চম অংশ

ঠাকুরঝি দেখিতে বোকার মতন ছিলেন, কিন্তু সেটা ভুল। তিনি যেই দেখিলেন, নিঃসন্তান ছোটবৌর অনেক টাকা, তিনি তখ্‌খনি সেই দিকে ঢলিলেন, এবং প্রতি রাত্রে স্বামী প্রিয়নাথকে একবার করিয়া ভর্ৎসনা করিতে লাগিলেন, তোমার জন্যই আমার সব গেল। তোমার কাছে মিছিমিছি পড়ে না থেকে এখানে থাকলে আজ আমি রাজার মা। আমার এমন সোনার চাঁদ ফেলে কি আর ঐ … বিস্তারিত পড়ুন

যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ– দ্বিতীয় অংশ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  বৈশাখ মাসে বিবাহের দিন স্থির হইল । যজ্ঞেশ্বর তাহার স্বল্পাবশিষ্ট যথাসর্বস্ব পণ করিয়া আয়োজন করিয়াছে । নূতন আটচালা বাঁধিয়াছে , পাবনা হইতে ঘি ময়দা চিনি দধি প্রভৃতি আনাইয়াছে । জ্যাঠাইমা তাঁহার যে গোপন পুঁজির বলে স্বগৃহেই বিবাহপ্রস্তাবে জেদ করিয়াছিলেন তাহার প্রায় শেষ পয়সাটি পর্যন্ত বাহির করিয়া দিয়াছেন । এমন সময় দুর্ভাগার অদৃষ্টক্রমে বিবাহের দুই … বিস্তারিত পড়ুন

মুনিয়ার চারদিক —- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লেবুগাছের গোড়া থেকে মুখ তুলল কালো একটা সাপ। মুখ তুলে সে একটা অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখল। শীতের কুয়াশায় আবছা সকাল, রোদ এখনো নিস্তেজ সোনালি। সেই সুন্দর আলোয় ডালিম গাছের ডগায় একটি ছোট্ট ফলের দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুনিয়া। দু পায়ের আঙুলের ওপর ভর, দেহটি টান, উৎকণ্ঠ মুখটি ওপরে তোলা, দু কাঁধে এলো চুল ভেঙে … বিস্তারিত পড়ুন

খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-প্রথম পরিচ্ছেদ

রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো । যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল , বড়ো বড়ো চোখ , শ্যামচিক্কণ, ছিপ্‌ছিপে বালক । জাতিতে কায়স্থ । তাহার প্রভুরাও কায়সথ । বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল । সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–১৪তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘোষালদিঘির ধারে জঙ্গল সাফ হয়ে গেল— চেনা যায় না। জমি নিখুঁতভাবে সমতল, মাঝে মাঝে সুরকি দিয়ে রাঙানো রাস্তা, রাস্তার ধারে ধারে আলো দেবার থাম। দিঘির পানা সব তোলা হয়েছে। ঘাটের কাছে তকতকে নতুন বিলিতি পাল-খেলাবার দুটি নৌকো, তাদের একটির গায়ে লেখা ‘মধুমতী’, আর-একটির গায়ে ‘মধুকরী’। যে তাঁবুতে রাজাবাহাদুর স্বয়ং থাকবেন তার সামনে ফ্রেমে হলদে বনাতের … বিস্তারিত পড়ুন

পাপিষ্ট ফেরাউনের বিবরণ

ফেরাউন কোন রাজা বা বাদশাহর নাম নয় উপাধি। তৎকালে রাজতক্তে যে ব্যক্তিই আরোহন করত সে-ই ফেরআউন নামে আখ্যায়িত হত। এভাবে হজরত মুসা (আঃ)-এর যমানায় মিসরের সিংহাসনে যে সমাসীন ছিল তার উপাধি ফেরাউন ছিল। এ ফেরাউন হযরত মূসা (আঃ)-এর জন্মগ্রহণের বহু পূর্ব হতেই মিসরে রাজত্ব করছিল। ফেরআউনের পিতা ও দাদার নাম নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কারো কারো … বিস্তারিত পড়ুন

প্রতিহিংসা–তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিনোদবিহারী অম্বিকাচরণের উপর সম্পূর্ণ ভার দিয়া জমিদারির কাজ কিছুই দেখিতেন না। নিতান্তনির্ভর ও অতিনিশ্চয়তাবশত কোনো কোনো স্বামী ঘরের স্ত্রীকে যেরূপ অবহেলার চক্ষে দেখিয়া থাকে, নিজের জমিদারির প্রতিও বিনোদের কতকটা সেইভাবের উপেক্ষা ছিল। জমিদারির আয় এতই নিশ্চিত, এতই বাঁধা যে তাহাকে আয় বলিয়া বোধ হয় না, তাহা অভ্যস্ত, এবং তাহার কোনো আকর্ষণ ছিল না। বিনোদের ইচ্ছা … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!