চোরধরা—– প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত

রাত তখন দশটা-এগারোটা হবে। কিন্তু পাড়াগাঁর রাত-সবকিছু চুপচাপ, সুন্সান্। কালিকাপুরের সমস্ত ঝোপঝাড় থেকে ঝিঁঝি ডেকে চলেছে একটানা, পাঠশালার দাওয়ার বুড়ো অশত্থগাছটার পঁ্যাচাগুলো হুম্‌হুম্ করে শব্দ করছে। পথেঘাটে কোনো লোকজন নেই। কোনো কোনো বাড়ির জানলায় রেড়ির তেলের পিদিম জ্বলছে, কোনো কোনো বাড়ি একেবারে অন্ধকার। গোবিন্দ ঘোষালের বাড়িতে তখনো কাজপাট চুকে যায়নি। গোবিন্দবাবু সেই কবে মারা গিয়েছেন। … বিস্তারিত পড়ুন

কুকুল আর এলোমেলো—- গীতা বন্দ্যোপাধ্যা

জমি শুঁকে শুঁকে শেষে ওরা আমাদের বাড়িতেই এসে হানা দিল। আমি তো গোড়ায় অনুসন্ধানের ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। ফাঁদে পড়ে গিয়ে শেষে যা হয়-একেবারে বোকামুখ। রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছি-ঠিক সেই সময়েই বা ঘুরতে গেলাম কেন কে জানে- দেখি, নেড়িগেড়ি গোটাকয়েক কুকুর-ছানাকে একজন ফেরিওয়ালা বিস্কুট খাওয়াচ্ছে। আমরা কাছে গিয়ে দাঁড়াতে বলল, “আহা, ওদের মা-টা খানিক … বিস্তারিত পড়ুন

ফ্ল্যাট রেস— জরাসন্ধ

সেদিন শুনলাম কুহু আর কেকাতে আড়ি হয়ে গেছে। হামেশাই হয়ে থাকে। যেখানে যত ভাব, সেখানে তত আড়ি। ওরা তো ছেলেমানুষ। বড়রাও কম যান না। এই তো কদিন আগে মিসেস কাঞ্জিলাল বলছিলেন ওঁদের ‘গৃহলক্ষী ক্লাব’-এর মেম্বার ছিলেন পঞ্চান্ন, কমে কমে পঁয়ত্রিশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণটা কী? না, এর সঙ্গে ওঁর মুখ দেখাদেখি বন্ধ, সি ব্লকের সঙ্গে ডি … বিস্তারিত পড়ুন

নোট ভাঙালে কাঁঠালপাতা—- মনোজ বসু

সাধুচরণ দিনমানে রেজেস্ট্রি-অফিসে দলিলপত্র লেখে, সন্ধ্যার পর ঠাকুরঘরে খিল এঁটে জপতপ সাধন-ভজনে মেতে যায়। ওরই মধ্যে কিঞ্চিত্‌ ঘুমিয়েও নেয় বইকি-নইলে আবার বেলা দশটায় অফিসে গিয়ে কলম ঠেলবে কি করে? এক রাত্রে স্বপ্নের মধ্যে কে যেন বলল, জঙ্গলে কাঁটাবনের মধ্যে আমায় ফেলে দিয়েছে, বড্ড কষ্টে আছি। তুমি আমায় উদ্ধার করে নিয়ে যাও সাধুচরণ। ভোর হতে না … বিস্তারিত পড়ুন

পিসীমার পোষা বাঘ—- শরত্কুমার মুখোপাধ্যায়

আমার স্কুলের বন্ধুরা বিশ্বাস করে না, কিন্তু তোমরা ভাই নিশ্চয় করবে। আমার পিসীমার বাড়িতে একটা পোষা বাঘ আছে। সত্যিকারের বাঘ-পটুদা স্বচক্ষে দেখেছে। বাঘটা বাড়িতেই থাকে। চেন-টেন দিয়ে বাঁধা নয়, একেবারে খোলা। ঘরের কাজকর্ম করে। পিসীমারই ঘরের মেঝেয় মাদুর পেতে শোয় রাত্তিরবেলা। পিসীমা বলেন, ঘুসুড়ির মহারাজা রায়বাহাদুর নিঃশেষ চোধুরী বাঘটা তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বৌঠান আমরা … বিস্তারিত পড়ুন

রাত গভীর—– হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

দোষ আমারই। বন্ধুর বোনের বিয়ে। যাব আর খেয়ে চলে আসব, এই ঠিক ছিল। কিন্তু গিয়েই মুস্কিলে পড়লাম। বন্ধু অকান্তে ডেকে হাত দুটো ধরে বলল, উদ্ধার করে দে ভাই, ভীষণ বিপদে পড়েছি। কি আবার হ’ল? পাড়ার ছেলের দল পরিবেষণ করবে ঠিক ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে একদল বেপাড়ার জলসা শুনতে চলে গেছে। লোক কম। তোদের হাত লাগাতে … বিস্তারিত পড়ুন

সব ঘোড়াই কথা বলে —– বরেন গঙ্গোপাধ্যায়

গাবার জ্যেঠামশাই দুন্দুভি মুখুজ্যে হঠাত্‌ একদিন একটা ঘোড়া কিনে ফেললেন। গ্রামের শেষ প্রান্তে গো-হাটা, সেখানে বেদে বেদেনীরা মাঝে সাঝে ঘোড়া বিকোতে আসে, সেদিনও এসেছিল। দুন্দুভি মুখুজ্যে দেখলেন ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুটের মতো রঙ, চমত্‌কার একটা ঘোড়া। এগিয়ে এসে দরদস্তুর করলেন, দরেও বনে গেল। ব্যাস, আর যায় কোথায়! করকরে টাকা বার করে ঘোড়াটা কিনে ফেললেন। বেদে বলল, … বিস্তারিত পড়ুন

ঝুনুমাসীর বিড়াল—— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঝুনুমাসী একদম বিড়াল পছন্দ করতেন না। বিড়ালরা নাকি বড্ড নোংরা হয়। তারা যখন-তখন ছাদে যায়, ছাইগাদার ওপর ঘোরে, আবার সুযোগ পেলেই টুক করে বিছানার ওপর লাফিয়ে ওঠে। বিড়ালরা এমনই আদুরে যে, বিছানায় না শুলে তাদের ঘুমই আসে না। একদিন তো ঝুনুমাসী তাঁর বিছানার ওপর কোথাকার একটা উটকো বিড়ালকে দেখে একেবারে কেঁদেই ফেলেছিলেন। সেই বিড়ালই একদিন … বিস্তারিত পড়ুন

কৈলাসে চা পান—– আশাপূর্ণা দেবী

মা দুর্গা কৈলাসে ভাঁড়ার ঘরের সামনে বসে পান সাজছিলেন। জয়া-বিজয়া কাছে বসে খয়ের সুপুরি কুচিয়ে দিচ্ছিল; তা দিক, পান সাজাটি মা কারো হাতে দিতে রাজী নন, ভোলা মহেশ্বরের জিনিস বলে কথা! কে চূণ বেশী দিয়ে ফেলবে, কে খয়ের বেশী দিয়ে ফেলবে, বেচারী ভোলানাথের গাল পুড়বে, জিভ তিতোবে। শত কাজের মধ্যে তাই মা দুর্গার নতুন এই … বিস্তারিত পড়ুন

মা

আমার নানার চার মেয়ে ও দু’ছেলের মধ্যে আমার মা ছিলেন সবার বড়। নানা আমার মাকে খুব ভালোবাসতেন। আমাদের বাড়ি থেকে নানার বাড়ি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের নাম চরবাড্ডা মির্জাচর। সবুজ গাছপালা বেষ্টিত গ্রামটি খুবই চৎমকার। মাঝে মাঝে আমার মাকে দেখার জন্য নানা আমাদের বাড়িতে আসতেন। আসার সময় নানা মায়ের জন্য কাঁঠাল, আম, কলা, আনারস, … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!