অভিমান -তমসুর হোসেন

রাগ করে মাহমুদ ধানখেতে লুকিয়ে থাকল। চাষিরা আউশ ধানের সাথে আমনের বীজ মিশিয়ে দেন। সেই চারা আশ্বিনে সবল হয়ে ওঠে। দেউলা বিলে চাষিরা এমন করেই ধান বোনেন। এসব খেত এতটা জংলাটে হয় যে মানুষ খুন করলেও কেউ টের পাবে না। সকালে মনটা বিগড়ে গেল মাহমুদের। স্কুলের ছাত্ররা নীলসাগরে যাবে পিকনিক করতে। মাকে বলেছে সে। পঞ্চাশ … বিস্তারিত পড়ুন

অভিভাবক -সুমাইয়্যা সিদ্দীকা

দোতলা বাড়িটার সামনের অংশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগানটা সহজেই যে কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাগান আলো করে টকটকে লাল গোলাপ ফুটে আছে বেশ কিছু। একটা বোগেনভেলিয়া ও মাধবীলতার ঝাড় বাড়িটার সৌন্দর্যকে যেন বহু গুণে বাড়িয়ে তুলেছে। সাজানো-গোছানো বাগানটা বাড়ির মালিকের সৌন্দর্যবোধ আর শিল্পমনের স্বাক্ষর বহন করছে। নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে বাগানটা দেখে নিয়ে ডোরবেলের সুইচে হাত রাখলেন লায়লা … বিস্তারিত পড়ুন

ফুল পাখিদের দেশে -আল জাবিরী

পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান মাহমুদ। সে আবার একটি ফুলের বাগান করল। তাতে গোলাপ, পলাশ, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, জুঁই, চামেলী, গাঁদা, রক্তজবাসহ আরো অনেক ফুলগাছ লাগিয়েছে। সে প্রতিদিন বাগানে গিয়ে ফুলের গন্ধ শুঁকে এবং বাগানে আসা পাখিদের গান শোনে তাদের সাথে কথা বলে। আর পাখিরাও তাকে ভালবেসেই গান শুনায়। মাঝে মাঝে লুকিয়ে থেকে ফুল, পাখি আর প্রজাপতির মিতালী … বিস্তারিত পড়ুন

পরিণতি

একদৃষ্টে মহাকাশযানের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছি ক্যাপ্টেন ফ্রুগোর সিগন্যালের অপেক্ষায়। চোখ ঘুরিয়ে আরেকবার হেজোর দিকে তাকালাম, কন্ট্রোল রুমে আছে সে। পুরো কাচের দেয়াল ভেদ করে যোগাযোগ সৃষ্টি হলো দুই জোড়া চোখে। ভ্রূ নাচিয়ে জানতে চাইলাম কী খবর? ডান হাতের বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করলো হেজো ওকে! কিছুক্ষণ পর স্ক্রিনে ক্যাপ্টেনের সিগন্যাল এলো স্টার্ট! হেজোকে নির্দেশ দিলাম মহাকাশযান … বিস্তারিত পড়ুন

বুবুর জন্য–জুবায়ের হুসাইন

হঠাৎ করে আকাশটা কেমন জানি মেঘলা হয়ে উঠল। পড়ন্ত বিকেলের রক্তিম আভা কেবল চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। একটু পর সন্ধ্যা নামবে। কিছুক্ষণ আগেও আকাশটা জুড়ে টুকরো টুকরো সাদা মেঘেরা উড়ে চলছিল পেঁজা তুলোর মতো। গলার মালা তৈরি করে কয়েকটা পাখিও উড়ে গেছে, দেখেছে ও। মিলন বলেছে ওগুলো গাঙচিল। দিনের শেষে নীড়ে ফিরছে। হেমন্ত চলছে। … বিস্তারিত পড়ুন

ভুতো আর ঘোঁতো–উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

ভুতো ছিল বেঁটে আর ঘোঁতো ছিল ঢ্যাঙা। ভুতো ছিল সেয়ানা, আর ঘোঁতো ছিল বোকা। দুজনে মিলে গেল কুলগাছ থেকে কুল পড়াতে। ঘোঁতো কিনা ঢ্যাং, সে দুহাতে খালি কুলই পাড়ছে। ভুতো কিনা বেঁটে, তাই সে কুল নাগাল পায় না, সে শুধু ঘোঁতোর পাড়া কুল খাচ্ছে। কুল পাড়া হয়ে গেলে ঘোঁতো বলল, ‘কুল কইরে?’ ভুতো বলল, ‘নেই। … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০১

উৎসর্গ সুর-সুন্দর শ্রীনলিনীকান্ত সরকার করকমলেষু বন্ধু আমার! পরমাত্মীয়! দুঃখ-সুখের সাথি! তোমার মাঝারে প্রভাত লভিল আমার তিমির রাতি। চাওয়ার অধিক পেয়েছি – বন্ধু আত্মীয় প্রিয়জন, বন্ধু পেয়েছি – পাইনি মানুষ, পাইনি দরাজ মন। চারিদিক হতে বর্ষেছে শিরে অবিশ্বাসের গ্লানি, হারায়েছি পথ – আঁধারে আসিয়া ধরিয়াছ তুমি পাণি। চোখের জলের হয়েছ দোসর, নিয়েছ হাসির ভাগ, আমার ধরায় … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০২

সালার ২৯শে জানুয়ারি (প্রভাত,– চায়ের টেবিল সম্মুখে) নূরু! তোর চিঠিটা আমার ভোজপুরি দারোয়ান মশায়ের ‘থ্রু’ দিয়ে কাল সান্ধ্য-চায়ের টেবিলে ক্লান্ত করুণ বেশে এসে হাজির। দেখি, রিডাইরেকটের ধস্তাধস্তিতে বেচারার অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমি ক্ষিপ্রহস্তে সেই চক্রলাঞ্ছিত, ওষ্ঠাগতপ্রাণ, প্রভুভক্ত লিপিবরের বক্ষ চিরে তার লিপিলীলার অবসান করে দিলাম। – বেজায় উষ্ণমস্তিষ্ক চায়ের কাপ তখন আমার পানে রোষকষায়িত … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০৩

বাঁকুড়া ২৬এ জানুয়ারি (বিকেলবেলা) অথ নরম গরম পত্রমিদম কার্যনঞ্চাগে বিশেষ! বাঙালি পলটনের তালপাতার সিপাই শ্রীল শ্রীযুক্ত নূরুল হুদা বরাবরেষু।… বুঝলি নূরু! তোর চিঠি নিয়ে কিন্তু আমাদের বোর্ডিং-এর কাব্যিরোগাক্রান্ত যাবতীয় ছোকরাদের মধ্যে একটা বিভ্রাট রকমের আলোচনা চলেছে। এঁদের সবাই ঠাউরেছেন, তুই একটা প্রকাণ্ড ‘হবু-কবি’ বা কবি-কিশলয়! তোর যে ভবিষ্যৎ দস্তুরমতো ‘ফর্সা’ এবং ক্রমে তুই-ই যে রবিবাবুর … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০৫

বাঁকুড়া ২রা ফেব্রুয়ারি (নিশুত রাত্তির) কবি-সৈনিক নূরু! ‘একচোখো; ‘এক-রোখো’ প্রভৃতি তোর দেওয়া ঝুড়ি ঝুড়ি বিশেষণ আমি আমার আঁতুড়-ঘর থেকে এই বিশ বছরের ‘যৈবন বয়েস’ নাগাদ বরাবর কুইনাইন-মিক্সচারের মতন গলাঃধকরণ করতে প্রাণপণে আপত্তি জানিয়েছি, কারণ সেসময় এসব অপবাদে জোর ‘চটিতং’ হয়ে মনে করতাম তোর স্বভাবই হচ্ছে লোকের সঙ্গে কর্কশ বেয়াদবি করা আর মুখের ওপর নির্মম প্রত্যুত্তর … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!