গিন্নি–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত। প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় … বিস্তারিত পড়ুন

চিত্রকর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-২য় পর্ব

রঙ্গলাল চিত্রবিদ্যায় হঠাৎ নামজাদা হয়ে উঠলেন । অর্থাৎ, দেশের রসিক লোক তাঁর রচনার অদ্ভুতত্ব দিয়ে খুব অট্টহাস্য জমালে । তারা যেরকম কল্পনা করে তার সঙ্গে তাঁর কল্পনার মিল হয় না দেখে তাঁর গুণপনার সম্বন্ধে তাদের প্রচণ্ড অবজ্ঞা হল । আশ্চর্য এই যে , এই অবজ্ঞার জমিতেই বিরোধ-বিদ্রূপের আবহাওয়ায় তাঁর খ্যাতি বেড়ে উঠতে লাগল ; যারা … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-১ম অংশ

রাজকন্যার নাম অপরাজিতা । উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই । কিন্তু যে দিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে । যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-২য় অংশ

প্রতিঘাত করিতে লাগিল , এবং কেবল সেই ধ্বনির বেগে সমস্ত জনমণ্ডলীর বক্ষকবাট থর্ থর্ করিয়া স্পন্দিত হইয়া উঠিল । কত কৌশল , কত কারুকার্য , উদয়নারায়ণ নামের কতরূপ ব্যাখ্যা , রাজার নামাক্ষরের কতদিক হইতে কতপ্রকার বিন্যাস , কত ছন্দ , কত যমক । পুণ্ডরীক যখন শেষ করিয়া বসিলেন , কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ সভাগৃহ তাঁহার কণ্ঠের … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-৩য় অংশ

বাঁশির গান , যমুনার কল্লোল , প্রেমের মোহ একেবারে দূর হইয়া গেল ; যেন পৃথিবীর উপর হইতে কে একজন বসন্তের সবুজ রঙটুকু মুছিয়া লইয়া আগাগোড়া পবিত্র গোময় লেপন করিয়া গেল । শেখর আপনার এতদিনকার সমস্ত গান বৃথা বোধ করিতে লাগিলেন ; ইহার পরে তাঁহার আর গান গাহিবার সামর্থ্য রহিল না । সেদিন সভা ভঙ্গ হইল … বিস্তারিত পড়ুন

ডিটেকটিভ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –১ম অংশ

আমি পুলিসের ডিটেকটিভ কর্মচারী । আমার জীবনের দুটিমাত্র লক্ষ্য ছিল — আমার স্ত্রী এবং আমার ব্যবসায় । পূর্বে একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে ছিলাম , সেখানে আমার স্ত্রীর প্রতি সমাদরের অভাব হওয়াতেই আমি দাদার সঙ্গে ঝগড়া করিয়া বাহির হইয়া আসি । দাদাই উপার্জন করিয়া আমাকে পালন করিতেছিলেন , অতএব সহসা সস্ত্রীক তাঁহার আশ্রয় ত্যাগ করিয়া আসা আমার … বিস্তারিত পড়ুন

ডিটেকটিভ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –২য় অংশ

অবশেষে সশরীরে রমণীর অবতারণা করিতে হইল । পুলিসের বেতনভোগী হরিমতি আমার সহায় হইল । মন্মথকে জানাইলাম , আমি এই হরিমতির হতভাগ্য প্রণয়াকাঙক্ষী , ইহাকে লক্ষ্য করিয়াই আমি কিছুদিন গোলদিঘির ধারে মন্মথের পার্শ্বচর হইয়া ‘ আবার গগনে কেন সুধাংশু-উদয় রে ‘ কবিতাটি বারংবার আবৃত্তি করিলাম ; এবং হরিমতিও কতকটা অন্তরের সহিত , কতকটা লীলাসহকারে জানাইল যে … বিস্তারিত পড়ুন

বাংলোর রহস্য–ভূতের গল্প

নির্জন বাংলোটায় ঢুকেই শির শির করে উঠল আসিফের শরীর ।পুরনো পুরনো একটা গন্ধ সর্বত্র । চারদিকে দেখলেই বুঝা যায় বহুদিনের পড়ে থাকা বাংলোটা পরিষ্কার করার কোন ত্রুটি করেনি কর্মচারিরা ।তাও এর গায়ে  পুরনো পুরনো ভাবটা  থেকেই গেছে । আসিফ ।ছোট্ট একটা কাজে এসেছে এখানে ।সপ্তাহখানেক অবশ্য তাকে থাকতে হবে । কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গেছে … বিস্তারিত পড়ুন

বন্ধুত্ব

বিশাল নদী।তাতে বাস করে এক কুমির।নদীর কুল ঘষে বেড়ে উঠা এক বিশাল বৃক্ষ।তাতে বাস করত এক বানর।দুই ভবনের দুই বাসিন্দা দূর থেকে একে অপরের দেখা।তার পর পরিচয় অতপর বন্ধুত্ব ও অন্ত রঙ্গতা।প্রতিদিন চলে উভয়ের মধ্যে ভাব বিনিময়।চোখের ইশারায় চলে প্রেমের আবেদন ও নিবেদন।সম্পর্ক গড়িয়ে গেল গভীর বন্ধুত্বে।বানরের মধ্যে সরলতা থাকলেও কুমিরের মধ্যে কোন সরলতা ছিল … বিস্তারিত পড়ুন

অহঙ্কারের পরিণতি অনুবাদ : -আসিফ হাসান

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখনো হল্যান্ডের সাথে ফ্রিজল্যান্ড যুক্ত হয়নি। সেই সময়ে ফ্রিজল্যান্ডের বৃহত্তম আর সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর ছিল স্টাভোরেন। শহরটি বিশাল বিশাল প্রাসাদে ভরা ছিল। বড় বড় ধনী ব্যবসায়ী বাস করতেন সেসব প্রাসাদে। অগাধ সম্পদের অধিকারী হওয়ায় তারা ছিলেন বেশ অহঙ্কারী। দুনিয়ায় কাউকেই তারা পরোয়া করতেন না। মনে করতেন সবকিছুই তাদের হাতের মুঠোয়। … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!