নষ্টনীড়-একাদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পরদিন ভূপতি আবার অসময়ে শয়নঘরে আসিয়া চারুকে ডাকাইয়া আনাইল। কহিল, “চারু, অমলের বেশ একটি ভালো বিবাহের প্রস্তাব এসেছে।” চারু অন্যমনস্ক ছিল। কহিল, “ভালো কী এসেছে।” ভূপতি। বিয়ের সম্বন্ধ। চারু। কেন, আমাকে কি পছন্দ হল না। ভূপতি উচ্চৈঃস্বরে হাসিয়া উঠিল। কহিল, “তোমাকে পছন্দ হল কি না সে কথা এখনো অমলকে জিজ্ঞাসা করা হয় নি। যদি বা … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-দ্বাদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইতিমধ্যে কাগজখানা তুলিয়া দিতে হইল। ভূপতি খরচ আর জোগাইয়া উঠিতে পারিল না। লোকসাধারণ-নামক একটা বিপুল নির্মম পদার্থের যে সাধনায় ভূপতি দীর্ঘকাল দিনরাত্রি একান্ত মনে নিযুক্ত ছিল সেটা এক মুহূর্তে বিসর্জন দিতে হইল। ভূপতির জীবনে সমস্ত চেষ্টা যে অভ্যস্ত পথে গত বারো বৎসর অবিচ্ছেদে চলিয়া আসিতেছে সেটা হঠাৎ এক জায়গায় যেন জলের মাঝখানে আসিয়া পড়িল। ইহার … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূপতি বর্ধমানে গিয়া অমলের বিবাহ-অন্তে তাহাকে বিলাতে রওনা করিয়া ঘরে ফিরিয়া আসিল। নানা দিক হইতে ঘা খাইয়া বিশ্বাসপরায়ণ ভূপতির মনে বহিঃসংসারের প্রতি একটা বৈরাগ্যের ভাব আসিয়াছিল। সভাসমিতি মেলামেশা কিছুই তাহার ভালো লাগিত না। মনে হইল, ‘এই-সব লইয়া আমি এতদিন কেবল নিজেকেই ফাঁকি দিলাম–– জীবনের সুখের দিন বৃথা বহিয়া গেল এবং সারভাগ আবর্জনাকুণ্ডে ফেলিলাম।’ ভূপতি মনে … বিস্তারিত পড়ুন

ধামাচাপা

হরিপুর গ্রামে তপা-পারুল দম্পতির বাস ৷ তপা দিনমজুর, সারাদিন খাটিয়া যাহা পায় তাহা দিয়া দিন চালায় ৷ তাহাদের ৩ বৎসর বয়সী একটি শিশুসন্তান আছে ৷ তপা এমনিতে খুব বদমেজাজী, তাহার উপর সারাদিন পরিশ্রম করিয়া মেজাজ একেবারে অগ্নিশর্মা হইয়া থাকে, গৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়া প্রায়ই সে তাহার বদমেজাজ পত্নীর উপর নির্মমভাবে প্রয়োগ করে, পারুল সর্বদা সন্ত্রস্ত থাকে … বিস্তারিত পড়ুন

নীল ঈদ (ছোট গল্প)

আজ শবে কদর, তাহের খুব মনোযোগ দিয়ে আজকের তারাবীর নামাজটুকু পড়ছে, তিলাওয়াতের মধুর সুরটুকু অন্তরের মাঝে গেঁথে নিতে চায় যেন। সারা বছর নামাজ পড়া হয়ই, তবে মাঝে মাঝেই যে ছাড় যায় না, তেমন নয়। আজ খতম তারাবীহ, আবার একবছর পর এই খতম তারাবীহর নামাজ পড়ার সুযোগ আসবে, তাই খুব একাগ্রতার সাথে নামাজে মত্ত ছিল তাহের। … বিস্তারিত পড়ুন

দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভিটা ছাড়িতে হইল । কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না , আভাস দিব মাত্র । আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার , পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি । যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত তাহা অপেক্ষা কম ছিল না , সুতরাং নর এবং নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-প্রথম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই। ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাগানের সংকল্প তাহাদের অন্যান্য অনেক সংকল্পের ন্যায় সীমাহীন কল্পনাক্ষেত্রের মধ্যে কখন হারাইয়া গেল তাহা অমল এবং চারু লক্ষও করিতে পারিল না। এখন অমলের লেখাই তাহাদের আলোচনা ও পরামর্শের প্রধান বিষয় হইয়া উঠিল। অমল আসিয়া বলে, “বোঠান, একটা বেশ চমৎকার ভাব মাথায় এসেছে।” চারু উৎসাহিত হইয়া উঠে; বলে, “চলো, আমাদের দক্ষিণের বারান্দায়–– এখানে এখনই মন্দা পান … বিস্তারিত পড়ুন

খসে পড়া শব্দ যত

‘আমরা এখন চলে যাব আমাদের সহকর্মী আহসানের কাছে, যিনি বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। আহসান, আহসান, আপনি শুনতে পারছেন আমার কথা?’ -‘জি মিমি, আমি শুনতে পাচ…পাচ…পাচহি আপনাকে।’ ‘আপনার চারিপাশে কি ঘটছে, বিশেষ কিছু কি দেখতে পেয়েছেন আপনি?’ -‘আসলে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে ঘটনাস-স…ঘটনা…ঘটনাস-হল, মানে জায়গাটা; কাউকে ঢুকতে বা কথা বলতে দিচ…দি-দিচ-হে না…’ তরুণ ফিল্ড রিপোর্টারের বিভ্রান্ত … বিস্তারিত পড়ুন

চক্র

রাত অনেক হলো। অভিজাত পাড়া গুলশান ঘুমিয়ে। তবে ঢাকাতো চব্বিশ ঘন্টার শহর। এখানে চব্বিশ ঘন্টা সব কিছু পাওয়া যায়। ঢাকার মেট্রোপলিটন পরিচয় রক্ষার জন্যই হয়তো রাতের নিস্তব্ধতা চীরে রাস্তা দিয়ে হুস-হাস শব্দে দ্রুত গতির গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। শব্দনিরোধক কামড়ায় বসেও দ্রুত গতির যানের শব্দ পাচ্ছেন ডিআইজি মাসুদ ইব্রাহিম। চিন্তাকিষ্ট মুখে একটু পর পর হুইস্কির গাসে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!