নষ্টনীড়-চতুর্দশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূপতি যখন তাহার খবরের কাগজ হইতে অবসর লইল তখন নিজের ভবিষ্যতের একটা ছবি নিজের মনের মধ্যে আঁকিয়া লইয়াছিল। প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল, কোনো প্রকার দুরাশা-দুশ্চেষ্টায় যাইবে না, চারুকে লইয়া পড়াশুনা ভালোবাসা এবং প্রতিদিনের ছোটোখাটো গার্হস্থ্য কর্তব্য পালন করিয়া চলিবে। মনে করিয়াছিল, যে-সকল ঘোরো সুখ সব চেয়ে সুলভ অথচ সুন্দর, সর্বদাই নাড়াচাড়ার যোগ্য অথচ পবিত্র নির্মল, সেই সহজলভ্য … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যেমন গুরুতর আঘাতে স্নায়ু অবশ হইয়া যায় এবং প্রথমটা বেদনা টের পাওয়া যায় না, সেইরূপ বিচ্ছেদের আরম্ভকালে অমলের অভাব চারু ভালো করিয়া যেন উপলব্ধি করিতে পারে নাই। অবশেষে যতই দিন যাইতে লাগিল ততই অমলের অভাবে সাংসারিক শূন্যতার পরিমাণ ক্রমাগতই যেন বাড়িতে লাগিল। এই ভীষণ আবিষ্কারে চারু হতবুদ্ধি হইয়া গেছে। নিকুঞ্জবন হইতে বাহির হইয়া সে হঠাৎ … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-ষোড়শ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এইরূপে মনের সহিত দ্বন্দ্ববিবাদ ত্যাগ করিযা চারু তাহার বৃহৎ বিষাদের মধ্যে একপ্রকার শান্তিলাভ করিল এবং একনিষ্ট হইয়া স্বামীকে ভক্তি ও যত্ন করিতে লাগিল। ভূপতি যখন নিদ্রিত থাকিত চারু তখন ধীরে ধীরে তাহার পায়ের কাছে মাথা রাখিয়া পায়ের ধূলা সীমন্তে তুলিয়া লইত। সেবাশুশ্রূষায় গৃহকর্মে স্বামীর লেশমাত্র ইচ্ছা সে অসম্পূর্ণ রাখিত না। আশ্রিত প্রতিপালিত ব্যক্তিদের প্রতি কোনোপ্রকার … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-প্রথম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই। ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাগানের সংকল্প তাহাদের অন্যান্য অনেক সংকল্পের ন্যায় সীমাহীন কল্পনাক্ষেত্রের মধ্যে কখন হারাইয়া গেল তাহা অমল এবং চারু লক্ষও করিতে পারিল না। এখন অমলের লেখাই তাহাদের আলোচনা ও পরামর্শের প্রধান বিষয় হইয়া উঠিল। অমল আসিয়া বলে, “বোঠান, একটা বেশ চমৎকার ভাব মাথায় এসেছে।” চারু উৎসাহিত হইয়া উঠে; বলে, “চলো, আমাদের দক্ষিণের বারান্দায়–– এখানে এখনই মন্দা পান … বিস্তারিত পড়ুন

খসে পড়া শব্দ যত

‘আমরা এখন চলে যাব আমাদের সহকর্মী আহসানের কাছে, যিনি বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। আহসান, আহসান, আপনি শুনতে পারছেন আমার কথা?’ -‘জি মিমি, আমি শুনতে পাচ…পাচ…পাচহি আপনাকে।’ ‘আপনার চারিপাশে কি ঘটছে, বিশেষ কিছু কি দেখতে পেয়েছেন আপনি?’ -‘আসলে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে ঘটনাস-স…ঘটনা…ঘটনাস-হল, মানে জায়গাটা; কাউকে ঢুকতে বা কথা বলতে দিচ…দি-দিচ-হে না…’ তরুণ ফিল্ড রিপোর্টারের বিভ্রান্ত … বিস্তারিত পড়ুন

চক্র

রাত অনেক হলো। অভিজাত পাড়া গুলশান ঘুমিয়ে। তবে ঢাকাতো চব্বিশ ঘন্টার শহর। এখানে চব্বিশ ঘন্টা সব কিছু পাওয়া যায়। ঢাকার মেট্রোপলিটন পরিচয় রক্ষার জন্যই হয়তো রাতের নিস্তব্ধতা চীরে রাস্তা দিয়ে হুস-হাস শব্দে দ্রুত গতির গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। শব্দনিরোধক কামড়ায় বসেও দ্রুত গতির যানের শব্দ পাচ্ছেন ডিআইজি মাসুদ ইব্রাহিম। চিন্তাকিষ্ট মুখে একটু পর পর হুইস্কির গাসে … বিস্তারিত পড়ুন

ডাকাত ধরার গল্প

জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দুরে একটি বেলী ব্রীজ। ব্রীজটি রাস্তা থেকে অনেক উঁচু। স্বাভাবিক কারণেই সব গাড়ি এখানে এসে ধীরগতি হয়। আর এই ধীরগতির কারণেই মাঝে মাঝে একদল ডাকাত এখানে ডাকাতি করে থাকে। ব্রীজের আশেপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। পাকা রাস্তাটি জেলা শহর থেকে এসে দক্ষিণে দু’টি থানায় চলে গেছে। রাতে দূর দূরান্ত থেকে বাস, … বিস্তারিত পড়ুন

তালুকদার সাহেবের কুলখানি

রসুলপুরের তালুকদার বাড়িতে আজ সাজ সাজ রব। আব্দুর রশিদ তালুকদার সাহেবের মৃত্যুর আজ চল্লিশ দিন পার হচ্ছে, আজ তাঁর কুলখানি। আশেপাশের দশ বারো গ্রামের গন্যমান্য মানুষ তো বটেই, তার উপর আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শী আর রবাহূত অনাহূতের দলে ভরে গেছে তালুকদার সাহেবের বাড়ি আর সামনের চত্বর। বাষট্টি বছর বয়সে হঠাৎ মারা গেলেন তালুকদার সাহেব। মৃত্যুর কারণ অজানা। … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখ না সুখের বর্ষন

মনির ঘর থেকে ভাল মনেই বের হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।কারন পথে একজনের সাথে দেখা হয়ে গেল। আর সেই মেয়েটি হল নাবিলা। নাবিলা তার বিয়ে করা বউ হলেও মনির তাকে শত্রু মনে করে। . দুপুরে অফিসে বসে বাড়ির তৈরি করা খাবার খাচ্ছিল এমন সময়ে মনিরের ফোন ফোন আসলো।মনির ফোনে দেখে তার … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!