মাঝারি মাপের সুখ-দুঃখ

স্নায়ু এবং রক্তের চলাচল প্রায় শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনে মাজেদ তাকিয়ে আছে বেঢপ টিকটিকিটার দিকে। মাজেদ যোগসাধনার অভ্যাস নেই। সে তন্ত্রমন্ত্রও জানেনা। তবুও তার স্নায়ু এবং রক্তপ্রবাহের ওপর তাকে নিয়ন্ত্রন আনতেই হয়, কেননা, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে ইঙ্গিত দেয় নড়াচড়া করলেই বিপদ আসন্ন। লম্বায় এক বিঘতেরও বেশী সরীসৃপটি কালো পুঁতির মত কুতকুতে চোখ মেলে তাকিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্পঃমানুষ

তখন ব্রিটিশরাজের শাসন চলছে।অখণ্ড ভারতের এক অখ্যাত গ্রামে রহিমুদ্দিন আর নিরঞ্জন পাশাপাশি বসবাস করত।ধর্মে রহিমুদ্দিন মুসলিম আর নিরঞ্জন হিন্দু হলেও অন্তরে তারা মানুষ ছিল বলে দুজনের খুব সদ্ভাব ছিল।হয়ত দেখা গেল রহিমুদ্দিনের জমিতে পানির সেচ দেয়ার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না,নিরঞ্জন এসে হাত লাগাত।আবার মাঝেমাঝেই নিরঞ্জন রহিমুদ্দিনের হালের বলদ নিয়ে নিজের জমি চাষ করত।দুজন মিলে দুরগ্রামে … বিস্তারিত পড়ুন

মৃত্যুর প্রহর গুনছি।

পৃথিবী ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে কত বছর হলে? খুবই সহজ একটা প্রশ্ন কিন্তু উত্তরটা অনেক কঠিন। এতো কঠিন, কেউ এর নির্দিষ্ট করে উত্তর দিতেই পারে না। উত্তরটা জানা আমার জন্য খুবই প্রয়োজন। পৃথিবীতে বেচে থাকতে আর ইচ্ছে করছে না। আমার বয়স এখন সাতচল্লিশ। এই সাতচল্লিশ বছরকে আমার কাছে এখন হাজার বছর মনে হচ্ছে। আমি এই … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্প: রিভেঞ্জ

মধ্যরাত। সময়টা আনুমানিক সাড়ে বারোটা প্রায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। মেঘের রাশি থেকে বেরিয়ে আসা পানির ফোঁটাগুলো প্রচন্ড বেগে আঘাত হানছে কনস্টেবল নিজামের গায়ে। কিন্তু শরীরের উপর হালকা স্বচ্ছ রেইনকোট থাকায় পানির ক্ষুদ্র ফোঁটাগুলো তাকে ভিজিয়ে দিতে পারছে না। নির্ঘুম চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে রাস্তার বাঁকটা পার হলো সে। এবং সাথে সাথেই থমকে দাঁড়াল। সামান্য … বিস্তারিত পড়ুন

রবিন একটি ভালো ছেলে ! ছোট গল্প

রবিন তার হাতের স্যুটকেসটাকে প্রথমে গাড়ি পেছনে রাখলেও পরে রবিন ভাবলো নাহ! যে দিনকাল পড়েছে চুরবাটপার সব দেশেই তবু অ্যামেরিকার গুইন শহরে এর একটু বেশিই আড্ডা। চোরের ভয়ে রবিন স্যুটকেসটাকে গাড়ির পেছন থেকে এনে এবার গাড়ির ওপরে ভালো ভাবে বেঁধে নিল। এখন পুরো নিরাপদ সে। আজ কাল যা হয়েছে সারজেনের চেয়ে ট্রাফিক বেটারা আরো বেশি … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যেমন গুরুতর আঘাতে স্নায়ু অবশ হইয়া যায় এবং প্রথমটা বেদনা টের পাওয়া যায় না, সেইরূপ বিচ্ছেদের আরম্ভকালে অমলের অভাব চারু ভালো করিয়া যেন উপলব্ধি করিতে পারে নাই। অবশেষে যতই দিন যাইতে লাগিল ততই অমলের অভাবে সাংসারিক শূন্যতার পরিমাণ ক্রমাগতই যেন বাড়িতে লাগিল। এই ভীষণ আবিষ্কারে চারু হতবুদ্ধি হইয়া গেছে। নিকুঞ্জবন হইতে বাহির হইয়া সে হঠাৎ … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-ষোড়শ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এইরূপে মনের সহিত দ্বন্দ্ববিবাদ ত্যাগ করিযা চারু তাহার বৃহৎ বিষাদের মধ্যে একপ্রকার শান্তিলাভ করিল এবং একনিষ্ট হইয়া স্বামীকে ভক্তি ও যত্ন করিতে লাগিল। ভূপতি যখন নিদ্রিত থাকিত চারু তখন ধীরে ধীরে তাহার পায়ের কাছে মাথা রাখিয়া পায়ের ধূলা সীমন্তে তুলিয়া লইত। সেবাশুশ্রূষায় গৃহকর্মে স্বামীর লেশমাত্র ইচ্ছা সে অসম্পূর্ণ রাখিত না। আশ্রিত প্রতিপালিত ব্যক্তিদের প্রতি কোনোপ্রকার … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-সপ্তদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিলাত হইতে চিঠি আসিবার দিন কবে, এ খবর চারু সর্বদাই রাখিত। প্রথমে এডেন হইতে ভূপতির নামে একখানা চিঠি আসিল, তাহাতে অমল বউঠানকে প্রণাম নিবেদন করিয়াছে; সুয়েজ হইতেও ভূপতির চিঠি আসিল, বউঠান তাহার মধ্যেও প্রণাম পাইল। মাল্টা হইতে চিঠি পাওয়া গেল, তাহাতেও পুনশ্চ-নিবেদনে বউঠানের প্রণাম আসিল। চারু অমলের একখানা চিঠিও পাইল না। ভূপতির চিঠিগুলি চাহিয়া লইয়া … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অমল যদিও ভূপতিকে জানাইয়াছিল যে, পড়াশুনার তাড়ায় সে দীর্ঘকাল পত্র লিখিতে সময় পাইবে না, তবু দুই-এক মেল তাহার পত্র না আসাতে সমস্ত সংসার চারুর পক্ষে কণ্টকশয্যা হইয়া উঠিল। সন্ধ্যাবেলায় পাঁচ কথার মধ্যে চারু অত্যন্ত উদাসীনভাবে শান্তস্বরে তাহার স্বামীকে কহিল, “আচ্ছা দেখো, বিলেতে একটা টেলিগ্রাফ করে জানলে হয় না, অমল কেমন আছে? ” ভূপতি কহিল, “দুই … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-তৃতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উমাপদ ভূপতিকে তাহার কাগজের সঙ্গে অন্য পাঁচরকম উপহার দিবার কথা বুঝাইতেছিল। উপহার যে কী করিয়া লোকসান কাটাইয়া লাভ হইতে পারে তাহা ভূপতি কিছুতেই বুঝিতে পারিতেছিল না। চারু একবার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়াই উমাপদকে দেখিয়া চলিয়া গেল। আবার কিছুক্ষণ ঘুরিয়া ফিরিয়া ঘরে আসিয়া দেখিল, দুইজনে হিসাব লইয়া তর্কে প্রবৃত্ত। উমাপদ চারুর অধৈর্য দেখিয়া কোনো ছুতা করিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!