পণরক্ষা–রাবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-৪র্থ অংশ

নাই, ঘর নাই তবু ঘরের অভাব নাই, সম্মুখে অন্ধকার রাত্রি আসিতেছে তবু সে নিরুদ্‌বেগে নিরুদ্দেশের অভিমুখে ছুটিয়া চলিয়াছে— এই কথা ভাবিতে ভাবিতে রসিক একদৃষ্টে জলের স্রোতের দিকে চাহিয়া বসিয়া রহিল— বোধ করি তাহার মনে হইতেছিল, দুর্বহ মানবজন্মটাকে এই বন্ধনহীন নিশ্চিন্ত জলধারার সঙ্গে মিশাইয়া ফেলিতে পারিলেই একমাত্র শান্তি। এমন সময় একজন তরুণ যুবক মাথা হইতে একটা … বিস্তারিত পড়ুন

পণরক্ষা–রাবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-৫ম অংশ

শুভলগ্নে বিবাহ হইয়া গেল। অন্যান্য সকলপ্রকার দানসামগ্রীর আগে রসিক একটা বাইসিক্‌ল্‌ দাবি করিল। তখন মাঘের শেষ। সরষে এবং তিসির ফুলে খেত ভরিয়া আছে। আখের গুড় জ্বাল দেওয়া আরম্ভ হইয়াছে, তাহারই গন্ধে বাতাস যেন ঘন হইয়া উঠিয়াছে। ঘরে ঘরে গোলা-ভরা ধান এবং কলাই; গোয়ালের প্রাঙ্গণে খড়ের গাদা স্তূপাকার হইয়া রহিয়াছে। ওপারে নদীর চরে বাথানে রাখালেরা গোরুমহিষের … বিস্তারিত পড়ুন

গল্প- সূর্যাস্ত, বৃষ্টি ও দরজা

জেগে ওঠার পর থেকে কিছুই বুঝতে পারছে না রেজা। অস্পষ্ট লাগছে সব। বিছানায় শুয়ে আছে ও, এটা শুধু বুঝতে পারে। কাঁথা একটা গায়ে চাপা দেয়া। গন্ধ আসছে সেটা থেকে। শুকনো গন্ধ। সর্দি লাগলে যেমন করে নাকটা, তেমন করছে। কয়েকবার শ্বাস ছাড়ে জোরে জোরে। সর্দি লাগল নাকি? ঘুমাবার আগে তো সর্দি ছিল না? ধুলো দিয়ে ভর্তি … বিস্তারিত পড়ুন

একটা সুখ পাখির গল্প…….

এই পৃথিবীর কোন এককোণে বাস করতো একটা সুখ পাখি,সে থাকতো তার মনিবের কাছে বন্ধি।পাখিটা খাঁচার মধ্যে অনেক ছটফট করত,কেননা সে ছিল উড়ন্ত স্বভাবের দুরন্ত পাখি।কিন্তু কালের বিবর্তনে পাখিটা সেই খাঁচায় নিজ জীবন স্থির করে নিলো।সে বন্ধি থেকে দেখত তার চারপাশের পরিবেশ।সে ভাবতো-অন্য সবাইতো আর আমার মতো বন্ধি নয়,তবে কেন আমার এই হাল।তবুও সে খাঁচায় তার … বিস্তারিত পড়ুন

বেওয়ারিশ

‘লোকটার বুক পকেটে একটা রঙ পেন্সিলের বাকশো আছে’-বাচ্চাদের কেউ একজন বলল। ‘তুই মরছ রঙ পেন্সিল লইয়া’-বড়দের কেউ একজন ধমকে উঠে। আরেকজন বলে, ‘আহা, কে করল এমন নিষ্ঠুর কামডা’! মাত্রই দেখে এসে একজন বর্ণনা দিচ্ছে, ‘ফুলহাতা শার্ট ইন করে পরা; পায়ের মোজা দেখে বুঝা যায় সু পরা ছিল। শার্ট আর প্যান্টের পকেট খুইজা এক বাকশো রঙ … বিস্তারিত পড়ুন

বেগুন বাড়ির পানি পড়া

হঠাৎ শরীর দুর্বল, খাদ্যে অরুচি, চোখ দু’টো হলুদ হলুদ ভাব। দুইদিন শরীরের দুর্বলতা নিয়েই অফিস করেছি। তৃতীয় দিন দুপুরে আনন্দ পত্রের ম্যানেজার খসরু ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি আমার চেহারা দেখেই চমকে উঠলেন। নিজের থেকেই তিনি আমাকে বিকালে পুপুলার ডায়গনেস্টিক সেন্টারে তার বন্ধু ডাঃ মোস্তাফিজ-এর কাছে নিয়ে গেলেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জন্ডিস ধরা পড়ল। … বিস্তারিত পড়ুন

মাঝারি মাপের সুখ-দুঃখ

স্নায়ু এবং রক্তের চলাচল প্রায় শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনে মাজেদ তাকিয়ে আছে বেঢপ টিকটিকিটার দিকে। মাজেদ যোগসাধনার অভ্যাস নেই। সে তন্ত্রমন্ত্রও জানেনা। তবুও তার স্নায়ু এবং রক্তপ্রবাহের ওপর তাকে নিয়ন্ত্রন আনতেই হয়, কেননা, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে ইঙ্গিত দেয় নড়াচড়া করলেই বিপদ আসন্ন। লম্বায় এক বিঘতেরও বেশী সরীসৃপটি কালো পুঁতির মত কুতকুতে চোখ মেলে তাকিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্পঃমানুষ

তখন ব্রিটিশরাজের শাসন চলছে।অখণ্ড ভারতের এক অখ্যাত গ্রামে রহিমুদ্দিন আর নিরঞ্জন পাশাপাশি বসবাস করত।ধর্মে রহিমুদ্দিন মুসলিম আর নিরঞ্জন হিন্দু হলেও অন্তরে তারা মানুষ ছিল বলে দুজনের খুব সদ্ভাব ছিল।হয়ত দেখা গেল রহিমুদ্দিনের জমিতে পানির সেচ দেয়ার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না,নিরঞ্জন এসে হাত লাগাত।আবার মাঝেমাঝেই নিরঞ্জন রহিমুদ্দিনের হালের বলদ নিয়ে নিজের জমি চাষ করত।দুজন মিলে দুরগ্রামে … বিস্তারিত পড়ুন

মৃত্যুর প্রহর গুনছি।

পৃথিবী ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে কত বছর হলে? খুবই সহজ একটা প্রশ্ন কিন্তু উত্তরটা অনেক কঠিন। এতো কঠিন, কেউ এর নির্দিষ্ট করে উত্তর দিতেই পারে না। উত্তরটা জানা আমার জন্য খুবই প্রয়োজন। পৃথিবীতে বেচে থাকতে আর ইচ্ছে করছে না। আমার বয়স এখন সাতচল্লিশ। এই সাতচল্লিশ বছরকে আমার কাছে এখন হাজার বছর মনে হচ্ছে। আমি এই … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্প: রিভেঞ্জ

মধ্যরাত। সময়টা আনুমানিক সাড়ে বারোটা প্রায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। মেঘের রাশি থেকে বেরিয়ে আসা পানির ফোঁটাগুলো প্রচন্ড বেগে আঘাত হানছে কনস্টেবল নিজামের গায়ে। কিন্তু শরীরের উপর হালকা স্বচ্ছ রেইনকোট থাকায় পানির ক্ষুদ্র ফোঁটাগুলো তাকে ভিজিয়ে দিতে পারছে না। নির্ঘুম চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে রাস্তার বাঁকটা পার হলো সে। এবং সাথে সাথেই থমকে দাঁড়াল। সামান্য … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!