আলমারি – নরেন্দ্রনাথ মিত্র

স্ত্রীর সঙ্গে রোজ ঝগড়া হয় পরিতোষ সরকারের। দামি কাপড়চোপড় রাখবার মতো একটা আলমারি নেই ঘরে। ট্রাঙ্কে সুটকেসে অতি কষ্টে জিনিসপত্র গুঁজে গুঁজে রাখতে হয়। একটা কিছু বার করতে হলে একেবারে লণ্ডভণ্ড, কুরুক্ষেত্র কাণ্ড। সুপ্রীতি বলে, “আমি আর পারব না তোমার ঘর গোছাতে। আর এই দামি দামি জিনিসগুলি যদি নষ্ট হয় তার জন্যেও আমাকে দায়ী করতে … বিস্তারিত পড়ুন

বেদেনী — তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

শম্ভু বাজিকর এ মেলায় প্রতি বৎসর আসে। তাহার বসিবার স্থানটা মা কঙ্কালীর এস্টেটের খাতায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো কায়েমি হইয়া গিয়াছে। লোকে বলে, বাজি; কিন্তু শম্ভু বলে ‘ভোজবাজি-ছারকাছ’। ছোট তাঁবুটার প্রবেশপথের মাথার উপরেই কাপড়ে আঁকা একটা সাইনবোর্ডেও লেখা আছে ‘ভোজবাজি-সার্কাস’। লেখাটার একপাশে একটা বাঘের ছবি, অপরদিকে একটা মানুষ, তাহার এক হাতে রক্তাক্ত তরবারি, অপর হাতে একটি … বিস্তারিত পড়ুন

আসল নাম বলা যাবে না – শওকত চৌধুরী

‘ভাই, আমি কি আপনার নামটি জানতে পারি? আপনাকে কেন জানি চেনা-চেনা লাগছে। না মানে, সমস্যা থাকলে দরকার নেই। জাস্ট কিউরিসিটি।’ ‘আসল নাম তো বলা যাবে না। নকল নাম—হিট খাইছি ৪১০। পরিষ্কার শুদ্ধ উচ্চারণে বললে হিট খেয়েছি ৪১০।’ ‘জি!’ ‘কিছুই বোধহয় বুঝতে পারছেন না, তাই না?’ ‘আসলে এমন নাম হয় কিনা…এই প্রথম শুনেছি…আমার বোকামির জন্য মাফ … বিস্তারিত পড়ুন

অপঘাত

চোখে ঘুম ধরে গেল। কামরুল সাহেব এখনও অফিসে বসে আছেন। রাত প্রায় ১২.৩০ বাজে। অফিসের কাজ করতে করতে কখন যে সময় চলে গেল টেরই পাওয়া গেল না। যাই হোক হন্ত দন্ত করে কাগজ ফাইল গুছিয়ে অফিস রুম থেকে বের হলেন। রুম থেকে বের হয়ে অফিসের করিডোরে এসে দাঁড়াল। রীতিমত একটা জনশূন্য একটা জায়গা। একজন লোকও … বিস্তারিত পড়ুন

জীবনের শেষ সময়

৪৫ বছর বয়সী অনন্ত চাটুজ্যে একদিন অন্য গ্রামে যাওয়ার পথে তার মৃত বন্ধু নির্মল বিশ্বাসকে উল্টো দিক থেকে হেঁটে আসতে দেখে কিছুটা ভয় পেয়েই বললেন ,” নির্মল তুই তো গত বছর কলেরায় …” নির্মল বিশ্বাস অল্প হেসে বললেন : ঠিকই জানিস ,আমি এখন যমদূতের চাকরী করি ,সুনীল কর্মকারের স্ত্রী আর এক ঘন্টা বাদেই মারা যাবে … বিস্তারিত পড়ুন

বাদামী জুতোর গল্প –মৌসুমী কাদেরের গল্প

আমরা তখন খুলনায় থাকতাম, আমি তখন ক্লাস ৮-এ পড়ি। ফ্যামিলি ইসলামিক মাইন্ডের হওয়ার কারণে আমাকে ওই সময় হুজুর কুরআন শরীফ পড়াতে আসতেন, কুরআন শরীফ খতম দেওয়ার জন্য। একদিন কুরআন পড়তে গিয়ে সুরাহ জিন দেখতে পেলাম। আমি হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই সুরাহর নাম ‘জিন’ কেন? হুজুর আমাকে বললেন যে, এই সুরাহতে জিন যে পৃথিবীতে আছে এবং … বিস্তারিত পড়ুন

কঙ্ক

বিকেলের রোদটা সবে গড়িয়ে পড়ছে। সব পাখিরা দিনের শেষে আগামী দিনের কাজ গুছিয়ে নিতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছে। আর কিছু তরুণ পাখি মনের আনন্দে আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো, গন্তব্যহীন। আর কঙ্ককেই কিনা মন খারাপ করে বসে থাকতে হচ্ছে ঘরে। ওর বাবা মাও আসেনি এখনো। চলে আসবে খুব তাড়াতাড়ি, প্রতিদিন এমন সময়ই ফেরে … বিস্তারিত পড়ুন

পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন

নূপুরের সঙ্গে দেখা হয় কুয়াশাঢাকা শীতের সকালে বিএম কলেজের ভেতরে, পুকুরপাড়ে। এ রকম কুয়াশা এ-শীতে আর হয়নি। সাড়ে এগারোটায়ও সূর্যের দেখা নেই, দিগন্ত অন্ধকারপ্রায়। চোখের সামনে যেন প্রকাণ্ড একখানা ঘষা কাচ ঝুলছে। দশ বছরের বন্ধুত্ব-প্রথম দেখা-জমে থাকা কথারা—এবারই প্রথম, কিন্তু সবই পাশ ফিরে দেখার মতোন লাগে। নূপুরই বলে কথাটি—যখন বসন্ত ছিল, বন্ধুর মুখটা দেখার বাসনা … বিস্তারিত পড়ুন

শালিখচূড়ার বিন্দুবালা

শালিখচূড়া গ্রামটির কথা প্রথম শুনেছিল বিভ‚তিবাবুর মুখে। ফর্শা, গোলগাল চেহারা। চকচক করছে মাথার টাক। হাতে সিকো-৫ ঘড়ি। একঘণ্টা পর পর প্যান্টের পকেট থেকে নস্যির কৌটা বের করে এক চিমটি নাকে গ্রহণ করে। নস্যির কিছু অংশ মোটা গোঁফের মধ্যে লেগে থাকে। পরিস্কার করে না। মাঝে মাঝে নাক ঝাড়ে। তাতে করেই আশপাশ তটস্থ। তারপর বিভ‚তিবাবু এই অঞ্চলের … বিস্তারিত পড়ুন

শিশিরের আয়না

অন্ধকার আর মাটির রঙ মিশে আরও ঘন হয়ে রয়েছে রাত। বজ্রের আলো হঠাৎ হঠাৎ এসে আর্দ্র কাদামাটির পথটাকে উজ্জ্বল করতে চাইছে। সাত-আট জোড়া পা কাদা ভেঙে ভেঙে অন্ধকারে হেঁটে চলেছে। একজনের হাতের টর্চ বিদ্যুতের আভায় চিকচিক করে উঠছে। সুইচে চাপ দিতে যাওয়ার মুহূর্তে পশলা পশলা আলো এসে দূর পর্যন্ত দেখিয়ে দিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। ‘আইজ আর … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!