ফটোকপি-প্রশান্ত মন্ডল

সিরাজ উদ্দৌল্লা রোডের বাম পাশ ধরে চার পাঁচ মিনিট হাঁটতেই নামহীন পুরোনো একটি দোকান। চারপাশের দোকানগুলো সব নতুন, নামও আছে। কিন্ত পাশে পুরোনো সেই দোকানটি থাকাতে কেমন যেন বেমানান লাগে। সামনে ব্যস্ত সড়কটি দিয়ে অনবরত মানুষের চললাচল। মানুষের গুঞ্জন, যানবাহনের শব্দ। সব মিলিয়ে ব্যস্ত রাস্তা যেম হয় ঠিক তেমন। দূর থেকে দোকানটিতে কিসের তা বোঝা … বিস্তারিত পড়ুন

জকি ল্যংড়া!

জকি ল্যংড়ার তিন কূলে কেউ নেই! বয়সটাও বেশ হয়েছে পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই! চার হাত পায়ের উপর ভর দিয়ে তাকে চলতে হয়! চলাফেরার সময় হাতে পায়ে গাড়ির টিউব লাগিয়ে নিতে হয়! আর ভিক্ষার থলি গলায় ঝুলানো থাকে! সম্পদ বলতে তার একটা কূঁড়ে ঘর! আর সংসার চলে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষে করে! ভিক্ষে করে খেলেও ভাল চলছিল কিন্তু … বিস্তারিত পড়ুন

নৈ

জেলেপাড়ার হাড় জিরজিরে কুকুরগুলোর রক্তে আগুন জ্বালিয়ে একনাগাড়ে ডেকে ডেকে কাশবনের হতচ্ছাড়া শিয়ালগুলো ক্লান্ত হলে, ভোঁস-ভোঁস, ফোঁস-ফোঁস, শীৎকার করতে করতে অবশেষে রাত্রি দ্বিপ্রহরে গগনবাবুর রতিপাত হলো! তাতে আমার শুষ্ক নিস্ফলা জঠর ক্ষণিকের জন্য কিছুটা আর্দ্র হলেও নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো না। চৈত্র-বোশেখের তীব্র দাবদাহে আমার বুকটা ভীষণ জ্বলে গো বাবুমশাই। আমি সইতে পারি না। সূর্যদেবের … বিস্তারিত পড়ুন

তিনটি কঙকাল ও আমরা (যুদ্ধ বিষয়ক গল্প)

সোনার জমিনে সোনাঝরা ধান, হাওয়াঘাতে দুলে ওঠা প্রাণ, সাত-পুরুষের রক্ত-রঙের খেলা, বিলের জলে জলপরীদের জলগাহন বা শুক্লা যামিনীর ধবল ছায়ায় অপ্সরীদের নৃত্যকলা—বিষয়ক আরও-আরও পৌরাণিক উপাখ্যান আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকলেও এবারের অনুষঙ্গ খানিকটা অন্যরকম—অন্তত আশরাফের কাছে তো বটেই! তাই আর অপেক্ষা করে না; নৈঃশব্দের বুকে পদাঘাত করে ধপাধপ পা চালায়; বুনোফুলের ঘ্রাণ মেখে নির্জনতার আরও গভীরে হারায়। … বিস্তারিত পড়ুন

চরিত্রহীন– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ––পঁয়তাল্লিশ পরিচ্ছেদ

সাবিত্রীর দুই চক্ষু দিয়া শ্রাবণের ধারা নামিয়া ভাসিয়া যাইতেছে। আজ তাহারই ক্রোড়ের উপর উপেন্দ্র মৃত্যুশয্যা বিছাইয়াছে। শীর্ণশীতল পা-দুখানির উপর মুখ গুঁজিয়া দিবাকর নিঃশব্দ-রোদনে অন্তরের অসহ্য দুঃখ নিবেদন করিয়া দিতেছে। তাহার পরিতাপ, তাহার ব্যথা, অন্তর্যামী ভিন্ন আর কে জানিবে! ও ঘরে মহেশ্বরী ভূমিশয্যায় পড়িয়া বিদীর্ণ কণ্ঠে কাঁদিতেছেন। এই সর্বগ্রাসী শোকের মধ্যে শুধু একা সতীশই একা স্থির … বিস্তারিত পড়ুন

মরা ক্ষেতের গল্প

নিজের ক্ষেতের কাছে আলোর বুকে পা রেখে মনটা কেমন মুষড়ে যায় জয়নাল মণ্ডলের। নিজের চোখকে শত্রু মনে হয় এখন। বিরান জমিন খাঁ-খাঁ করছে, কাঠফাটা গরমে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়, জয়নাল মণ্ডলের বুক হাপড়ের মতো ওঠানামা করে। আগুন ঝরা রোদে পুড়ে-পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে জগতের মাটি, বাতাসে বইছে যেন আগুনের ফুলকি। জয়নাল মণ্ডলের মনে শান্তি নেই, পুড়ছে … বিস্তারিত পড়ুন

রস

কার্তিকের মাঝামাঝি চৌধুরীদের খেজুর বাগান ঝুরতে শুরু করল মোতালেফ। তারপর দিন পনের যেতে না যেতেই নিকা করে নিয়ে এলো পাশের বাড়ির রাজেক মৃধার বিধবা স্ত্রী মাজু খাতুনকে। পাড়া-পড়শি সবাই তো অবাক। এই অবশ্য প্রথম সংসার নয় মোতালেফের। এর আগের বউ বছরখানেক আগে মারা গেছে। তবু পঁচিশ-ছাবি্বশ বছরের জোয়ান পুরুষ মোতালেফ। আর মাজু খাতুন ত্রিশে না … বিস্তারিত পড়ুন

অপঘাত

চোখে ঘুম ধরে গেল। কামরুল সাহেব এখনও অফিসে বসে আছেন। রাত প্রায় ১২.৩০ বাজে। অফিসের কাজ করতে করতে কখন যে সময় চলে গেল টেরই পাওয়া গেল না। যাই হোক হন্ত দন্ত করে কাগজ ফাইল গুছিয়ে অফিস রুম থেকে বের হলেন। রুম থেকে বের হয়ে অফিসের করিডোরে এসে দাঁড়াল। রীতিমত একটা জনশূন্য একটা জায়গা। একজন লোকও … বিস্তারিত পড়ুন

পরবাসী —- হাসান আজিজুল হক

কান পেতে কিছু শোনার চেষ্টা করল সে। কিছু একটা শব্দ। কিন্তু কিছুই শোনা গেল না। বাতাস কিংবা পাতা ঝরার শব্দ … কোনো কিছুই তার কানে এলো না। এই এতটুকু সময়ের মধ্যেই মাটি বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে এসেছে। নিঃশব্দ শিশিরের হিমে স্নান করে বিবর্ণ পাতাগুলো ভিজে। শীতের শেষ বলে সারাদিন ধরে উত্তর দিক থেকে ঝড়ের বেগে … বিস্তারিত পড়ুন

দেখা হবে— শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

নকশি কাঁথার মতো বিচিত্র এক পৃথিবী ছিল আমাদের শৈশবে। এখনও পায়ের তলায় পৃথিবীর মাটি, চারিদিকে গাছপালা, মাথার ওপর আকাশ। বুক ভরে শ্বাস টেনে দেখি। না, শীতের সকালে কুয়াশায় ভেজা বাগান থেকে যে রহস্যময় বন্য গন্ধটি পাওয়া যেত তা আর পাওয়া যায় না। আমাদের সাঁওতাল মালি বিকেলের দিকে পাতা পুড়িয়ে আগুন জ্বালত। সেই গন্ধ কতবার আমাকে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!