বগল —- অমিতাভ পাল

মেয়েটা আদিবাসী— আমাদের দেশের ছোট ছোট টিলার মতো পাহাড়গুলির নিচের একটা গ্রামে তার জন্ম। মিশনারীদের কাছে সে বড় হয়েছে, লেখাপড়া শিখেছে তারপর শহরে এসেছে কাজ করতে। একটা বিউটি পার্লারের এখন সে কর্মচারী। সাদা এপ্রোন গায়ে দিয়ে সে সাজায় কাস্টমারদের। এই বিউটি পার্লারেরই কোনো এক কর্মদিবসে আদিবাসী মেয়েটি যখন সাজাচ্ছে এক সৌন্দর্যপ্রার্থীনিকে— সে সময় একটা ঘটনা … বিস্তারিত পড়ুন

অলঙ্কার —আলবার্তো মোরাভিয়া

একসঙ্গে দলবেঁধে চলা ছেলেবন্ধুদের কোনো দলে যখন একটি মেয়ে এসে জুটে যায় তখন আপনি নিশ্চিত হয়েই বলতে পারেন, ওই দলটি কোনো বিষয়ে আর একমত হতে পারবে না এবং প্রত্যেকেই নিজের নিজের দিকটিই দেখবে। সেবার আমরা ক’জন তরুণ বন্ধু এসে জুটেছিলাম একটি দলে। আমাদের মধ্যে ছিল গভীর সহমর্মিতা, সবসময়ে ছিল মতের মিল, আমরা ছিলাম পরস্পরের প্রতি … বিস্তারিত পড়ুন

ক্যামেরা —পার্থ চট্টোপাধ্যায়

এবারে জাপান যাবার সময় আমাদের কাগজের ফোটোগ্রাফার রজত সেন বলেছিল, “সুবীরবাবু, অনেক দিন ধরে আমার শখ একটা জাপানী শিকন ক্যামেরা। তা আপনি যখন জাপান যাচ্ছেন, তখন যদি আমার জন্য একটা ক্যামেরা নিয়ে আসেন।” আমি বলেছিলাম, “যদি একসচেনজে টান না পড়ে, নিশ্চয়ই আনব।” রজত সেনকে আমি খুব পছন্দ করি। ফোটোগ্রাফিতে দারুণ হাত। সেবার পাকিস্তান-যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের … বিস্তারিত পড়ুন

শেষ দৌড়— সুধাংশু ঘোষ

শীতকালে বারান্দায় মাদুর পেতে বসে সমু। পুবের লম্বা বারান্দায় সকালের রোদ্দুর ভারী মিষ্টি লাগে। উঠবার সময় সূর্য বাগানের গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে অনেক রোদ্দুরের বর্শা ছুঁড়ে দেয়। বই থেকে মুখ তুলে সমু এক-একবার দেখে নেয়। এখন কিন্তু বর্ষাকাল। পড়ার ঘরে বসেই পড়ছিল সমু। তক্তপোশে পা ঝুলিয়ে বসে টেবিলে বই রেখে পড়ছিল। সেই তক্তপোশেই অন্য পাশে রুনি … বিস্তারিত পড়ুন

হাসনুহানার জামা— বলরাম বসাক

বাঁশপুকুরের হাঁসমামা। ছিল তার ছোট্ট ছানা। নাম তার হাস্নুহানা। হাস্নুহানা পুজোয় জামা চেয়েছিল হাঁসমামার কাছে। হাঁসমামা পরিষ্কার বলে দিলে, “পয়সা নেই।” শেষে কোঁক্ কোঁক্ করে কেঁদে ফেলতেই হাঁসমামা বললে, “ঠিক আছে, পুজো গেলেই তোকে জামা কিনে দেব।” পুজো চলে গেল। এদিকে জামা কেনা হচ্ছে না। হাঁসের ছানা হাস্নুহানা তাড়া দিল হাঁসমামাকে, “কই জামা কিনে দিলে … বিস্তারিত পড়ুন

কলম্বাসের বাবা—- এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়

ভবানীপুর স্পোর্টিং-এর সঙ্গে আমাদের ক্লাবের খেলা, কাল বিকেল তিনটেয়-খবরটা গৌতম আগেই দিয়ে গিয়েছিল। তারপর আধ ঘণ্টাও হয়নি-জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম সাইকেল থেকে কেষ্টাকে নামতে। ঊর্ধ্বশ্বাসে পড়ার টেবিল ছেড়ে দৌড়েছি। খুব সময়ে পৌঁছে গেছি যা হোক। দেখি বাঁটুল গোড়ালি উঁচু করে ঘণ্টি টেপার চেষ্টা করছে, হাত পৌঁছচ্ছে না। “বাজাস না।” গম্ভীর গলায় বললাম। সকাল থেকে আমার … বিস্তারিত পড়ুন

আঁতুর ঘর— ইবাইস আমান

দোলুজের দিকটাতে গেলে অন্যরকম অনুভব। বাঘ অলা বাড়ির আর দশজন থেকে খোকা বাবুর ভাবনাগুলো আলাদা। দোলুজের বুনো কবুতরগুলো সাথে খোকা বাবুর কথা হয়। ইচ্ছে হলেই কবুতর উড়ে যায় বলাডাঙ্গার মাঠে। হৃষ্টপুষ্ট বড় মর্দা কবুতরের বাকবাকুম ডাকের মোহে নতুন নতুন কবুতরে দোলুজের ঝাড়ন ভরে যায়। সংসার ছেড়ে রঙ বেরঙের কবুতর ভালোবাসার টানে বুনো; চাড়াল কবুতরের সাথে … বিস্তারিত পড়ুন

কাঠের সেনাপতি—- মু. নূরুল হাসান

আব্বার সাথে রাশেদের আজ আশ্চর্য শত্রুতা। আজ সারাদিন, দিনমান। ছোট্ট চায়ের টেবলের দু’পাশে ওরা দু’জন ঠিক দুই যুযুধানের মতন দাবার গুটি নিয়ে বসে আছে সকাল থেকে। কখনও গালে হাত, কখনও বাঁকানো ভ্রূ, কখনও চুপচাপ। আব্বার অফিস ছুটি আজ, রাশেদের ইশকুলও তাই। ওদের সারা ঘরে ছুটির আমেজ এলিয়ে আছে, বসার ঘর থেকে রান্নাঘর, সেখান থেকে বারান্দায়, … বিস্তারিত পড়ুন

অতসীদের কথা— প্রথম পরিচ্ছেদ

অতসী দাঁড়িয়ে আছে এক্সাইড হাউসের মোড়ে। যেখানে হলদিরামের দোকান, তার সামনে। নীলরঙা শিফন শাড়ীতে। অফিস কেটেছে অতসী। অতসী দেখতে মোটামুটি। শ্যামলা, সামান্য স্থূলকায়া। এখন সকাল এগারোটা। বাসে অফিসযাত্রীর ভীড় এখনো পুরো মাত্রায়। সরকারী চাকুরেদের বাজার,ছেলে-মেয়েদের স্কুল, পাড়ার গলির মুখে প্রাত:কালীন গুলতানি, রুটি-ভাত-চচ্চড়ির আহার সেরে এটাই অফিস যাওয়ার আসল সময়। খিদিরপুরের দিক থেকে শিয়ালদা রুটের বাস-মিনিবাসগুলো … বিস্তারিত পড়ুন

অতসীদের কথা— দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

স্বপ্ননীলের নাম মঙ্গলু বাইগা, অতসীর নাম রুপাইনি। বাইগাচক। মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলা। জঙ্গলের বাইগা গ্রাম। রেওয়া চাষ,ঝূম চাষ আর হরিণ, বুনো শুয়োর শিকার। গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ। নিজেদের সমাজের বাইরে মেলামেশা বড় একটা নেই। দলবেঁধে বেওয়ার চাষ করে নারী পুরুষ। জঙ্গলের গাছ কাটে তারা, তারপর শুকনো ডালপালায় আগুন ধরায়। তারপর প্রথম বরষায় সেই ছাইমাটি ভিজে গেলে, ফসল ফলায় … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!