মাতৃদায় —– বাণী বসু

টেশনে নামতে না নামতেই কিছুর মধ্যে কিছু না, কাঁধে একটা থাপ্পড়। আমার ছোট্টবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধু লোকনাথ। ছাতিমতলায় বসে নাকি ওর স্পেশাল বিড়িতে সুখটান দিচ্ছিল। সেখান থেকেই নজর করেছে। — কী রে? অ্যাদ্দিন কোথায় ছিলি? — কেন, জানিস না? ৪ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আদি ও অকৃত্রিম। — ধ্যার, ওটা তো তোর বাসাবাড়ি! আদি-অকৃত্রিম কী করে হয়? … বিস্তারিত পড়ুন

তারকেশ্বর লোকাল—– বাণী বসু

ন’টা বা সওয়া ন’টার ট্রেনটা তাকে ধরতেই হবে৷ মাধবী তাড়াতাড়ি শাড়ির ভাঁজ ঠিক করে৷ সালোয়ার-কামিজ কী প্যান্ট পরলেই সুবিধে হত, কিন্তু যে কাজে যাচ্ছে তাতে ওগুলো ঠিক…৷ ঠিক সময়েই শেষ পর্যম্ত ঢুকতে পারল সে হাওড়া স্টেশনে, কিন্তু এ যে জনসমুদ্র? কোথায় টিকিট ঘর কোথায় কী, কিছুতেই ঠাহর হয় না৷ অথচ এককালে তারা বন্ধুরা দল বেঁধে … বিস্তারিত পড়ুন

শাস্ত্রজাতক – বাণী বসু

বিস্ফারিত চোখে ওঁরা দেখলেন মরা মানুষের জাঙাল ভেদ করে উঠে আসছে একটা আকার, যতই উঠে আসে, ততই তাকে চিনতে চিনতে চিত্রার্পিত হয়ে যান সব। উঠে আসছে সেই লোকটা বহু যুগ আগে যাকে মেরে ফেলা হয়ে গেছে, গ্রন্থে গ্রন্থে যার হনন-বার্তা এক দিন মহারবে চতুর্দিকে রটিত হয়েছিল। স্বর্গে এবং মর্ত্যে, লোকান্তরে এবং লোকায়তে বিধ্বস্ত পণ্ডিত শিল্পী … বিস্তারিত পড়ুন

সার্থকতা – — বনফুল

আমার অতীত জীবনের দিকে চাহিয়া দেখি–আর আমার দুঃখ হয়! সে যেন একটা সুখ-স্বপ্ন ছিল! সেই আমার অতীত জীবনের স্মৃতি…আজ সত্যি সত্যিই স্মৃতিমাত্র। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার সে জীবন গেল কোথায়? সেই শোভন, সুন্দর, মোহন জীবন। …একদিন আমার রূপ ছিল–সৌরভ ছিল–মধু ছিল। আমার সেই সুষমার দিনে কত মধুলুব্ধ ভ্রমরই না আমার কানে কানে বন্দনার স্মৃতিগান … বিস্তারিত পড়ুন

বেচারামবাবু — বনফুল

রিশ মুদী সন্ধ্যাবেলা হিসাব বুঝাইয়া গেল যে গত মাসের পাওনা ২৭.৭০ পঃ হইয়াছে এবং তাহা অবিলম্বে দেওয়া দরকার। সদ্য-অফিস-প্রত্যাগত বেচারামবাবু বলিলেন–“আচ্ছা মাইনেটা পেলেই–!” অতঃপর কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া বেচারামবাবু বাহুরের রোয়াকটিতে বসিয়া হাঁক দিলেন–“অরে চা আন্‌–।” চা আসিল। চা আসিবার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার হরিবাবু, নবীন রায়, বিধু ক্লার্ক প্রভৃতি চার পাঁচজন ভদ্রলোকও সমাগত হইলেন এবং সমবেত গল্প-গুজব … বিস্তারিত পড়ুন

বাড়তি মাশুল — বনফুল

কেই বলে বিড়ম্বনা। আমি একজন ডেলি প্যাসেঞ্জার। সেদিন সমস্ত দিন আপিসে কলম পিষে উর্ধ্বশ্বাসে হাওড়ায় এসে লোকাল ট্রেণের একখানি থার্ড ক্লাসে বসে হাঁপাচ্ছি–এমন সময় দেখি সামনের প্লাটফর্ম থেকে বোম্বে মেল ছাড়ছে আর তারই একটি কামরায় এমন একখানি মুখ আমার চোখে পড়ে গেল যাতে আমার সমস্ত বুক আশা আনন্দে দুলে উঠল। বহুদিন আগে এমার এক ছেলে … বিস্তারিত পড়ুন

অপেক্ষা —- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে জানালার চৌকাঠে। দু’হাতে ধরে আছে জানালার শিক, শিকের ফাঁকে মুখ গলানো। তার বাবা ফিরলে তারা সবাই দোকানে যাবে। আজ ফ্রক কেনা হবে পুজোর। কিন্তু বাবা ফিরছে না। পাঁচ বছরের মেয়ে, সব কথা কইতে পারে। হঠাৎ মুখটা ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে জিগ্যেস করল—ক’টা বাজে মা? মেয়ের মা সেলাই মেশিন থেকে মুখ তুলে ঘড়ি দেখে। সাতটা, … বিস্তারিত পড়ুন

বাড়ি —- সুচিত্রা ভট্টাচার্য

সে দিন অফিস-ফেরতা মার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। যেমন যাই, হপ্তায় এক-দু’বার। বাইরের ঘরে পাতা আদ্যিকালের সোফাটায় সবে বসেছি, নজরে পড়ল মাতৃদেবীর মুখখানি একেবারে তোলো হাঁড়ি। ঠোঁটে কুলুপ, ভুরুতে মোটা মোটা ভাঁজ। অন্য দিন তো চৌকাঠ পেরনো মাত্র মা কলকল করে ওঠে, আজ হলটা কী! চোখের ইশারায় প্রমিতাকে জিজ্ঞেস করলাম,—কেসটা কী রে? শাশুড়ির সঙ্গে ফের … বিস্তারিত পড়ুন

পাতালে হাসপাতালে —হাসান আজিজুল হক

মারজেন্সির লোকটি মুখ নিচু করে টেবিলে কিছু একটা দেখছিল। অন্যমনস্কভাবে চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো তার থেকে মাত্র হাত দুয়েক দূরে দুজন আধবয়েসি আর এক বুড়ো একটা লোককে কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়োর পাতলা লম্বা নাকটা এক দিকে বাঁকা। কাঁচাপাকা খুদে দাড়ি বেয়ে ঘাম ঝরছে। যাকে কাঁধে নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে, তার মুখ দেখা যায় না, … বিস্তারিত পড়ুন

আরো একটি কন্যা —- হাসান আজিজুল হক

অভিজ্ঞতা যত তীব্র আর উদ্বেগজনক হোক না, এ রকম ব্যাপার আজকাল এতই সাধারণ হয়ে এসেছে যে, তা নিয়ে বড়সড়ো একটা কথার অবতারণা একেবারেই অনর্থক। গতকাল নারায়ণ হৃদয়ালয়ে (কানাড়ি উচ্চারণে হৃদয়ালয়) আমার একটি এনজিওগ্রাম হলো। এসব এখন প্রায় নৈমিত্তিক চিকিৎসার অঙ্গ হয়ে গেছে। আমার এই তৃতীয়বার। হৃদযন্ত্রটা এমন ফুটিফাটা বদ্ধ অবস্থায় আছে যে, মেরামত করার জন্য … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!