শয়তান ও আমি

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর আমার মৌন স্বভাব হঠাৎ যেন পাখা মেলতে শুরু করেছে। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারলাম যখন দেখি আমারও পাঁচ-ছয় জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব জুটে গেল। অথচ মহাবিদ্যালয়ে আমার কাছের সুহৃদ ছিল মাত্র দু’জন। অনেক বন্ধুর মেয়ে-বান্ধবী থাকলেও আমার তখনো মেয়েদের দিকে ভালো করে তাকানোর সাহস পর্যমত্ম হয়নি। আর এখন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার তিনজন বান্ধবী পর্যমত্ম … বিস্তারিত পড়ুন

জীবন চক্র— আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

হাসপাতালে মেয়েটাকে রেখে আসার পর থেকে রাকিব সাহেব কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছেন। শাপলা চত্বর ঘুরে রাকিব সাহেবের গাড়ি যখন সামনে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক তখনই মেয়েটি উনার গাড়ির নিচে পড়ে। রাকিব সাহেব ইচ্ছে করলে দ্রুত পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো এমন লোক নয়। তাবলীগে সময় লাগিয়ে পাকা মুবাল্লিগ। আশে পাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই … বিস্তারিত পড়ুন

চেতনা আমানত—আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

এখনো পুরোপুরি শীত আসেনি। তবে শেষ রাতে প্রচুর কুয়াশা ঝরে। ভোরে সবুজ পাতায় সোনালী আলোয় সেই শিশির বিন্দুর ঝলমলে দৃশ্য হৃদয়ে পুলক জাগায়। যেন হিরে খচিত সবুজ গালিচা। মাহি, তিশা, রাতুল ও মিঠু সেই সবুজ গালিচা মাড়িয়ে স্কুলের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। এত সকালে স্কুল! এ আর নতুন কি। শহরের সেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোর দাপট … বিস্তারিত পড়ুন

রাকিবের ভাই সফিক—– সোহেল রানা বীর

সেই কখন থেকে আলমারীর দিকে তাকিয়ে আছে রাকিব। কাঁচের আলমারীর মধ্যে রাখা জিনিসগুলো থেকে চোখ সরছে না কোন মতে।  আলমারীর দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে একটি খেলনা হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটি রাকিবের মামা তার বড় ভাইকে দিয়েছিলো। সফিক রাকিবের বড় ভাই। খেলাধুলায় খুবই পারদর্শী। আলমারীর মধ্যে রাখা অধিকাংশ শোফিস এবং পুরস্কারের জিনিসগুলো সফিকের কৃতিত্ব। হেলিকপ্টারের পাশে কয়েকটি প্লেট। … বিস্তারিত পড়ুন

ভয়—- সোহেল নওরোজ

সাঁঝসকালে দরজা খুলেই ফারুক মামাকে দেখে যথেষ্ট বিরক্ত হলো নাইমা। সময়-অসময় নেই কোত্থেকে যে তিনি উদয় হন আল্লাহমালুম! পানের ব্যবসায় নামার পর এ বাড়িতে মামার যাতায়াত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। হাটের দিন খুব ভোরে ট্রাকে পান তুলে দিয়ে সোজা এখানে এসে হাজির হন। ‘কেমন আছিস রে, কাঁচকি?’ চোয়াল ভাঙা গাল বাঁকা করে বিশ্রী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন। রাগে … বিস্তারিত পড়ুন

কেবিন বয়—- সোলায়মান আহসান

প্রচন্ড শীত। মাঘ মাসের শৈত্য প্রবাহ চলছে। লঞ্চ চলছে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে। ঘ্যা… ঘ্যা… ঘ্যা। বুড়িগঙ্গা থেকে পটুয়াখালী এক দীর্ঘ যাত্রা। নদীর পর নদী পার হতে হয় লঞ্চকে রাতের অাঁধারে। রাতে বলেই লোকজন বুঝতে পারে না ভয়াবহ সেই দৃশ্য। উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাচ্ছে একটা লঞ্চ। কী সাহস মানুষের। শীতের কুয়াশা নদীকে ঢেকে দিয়েছে। … বিস্তারিত পড়ুন

বেচারামবাবু — বনফুল

রিশ মুদী সন্ধ্যাবেলা হিসাব বুঝাইয়া গেল যে গত মাসের পাওনা ২৭.৭০ পঃ হইয়াছে এবং তাহা অবিলম্বে দেওয়া দরকার। সদ্য-অফিস-প্রত্যাগত বেচারামবাবু বলিলেন–“আচ্ছা মাইনেটা পেলেই–!” অতঃপর কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া বেচারামবাবু বাহুরের রোয়াকটিতে বসিয়া হাঁক দিলেন–“অরে চা আন্‌–।” চা আসিল। চা আসিবার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার হরিবাবু, নবীন রায়, বিধু ক্লার্ক প্রভৃতি চার পাঁচজন ভদ্রলোকও সমাগত হইলেন এবং সমবেত গল্প-গুজব … বিস্তারিত পড়ুন

বাড়তি মাশুল — বনফুল

কেই বলে বিড়ম্বনা। আমি একজন ডেলি প্যাসেঞ্জার। সেদিন সমস্ত দিন আপিসে কলম পিষে উর্ধ্বশ্বাসে হাওড়ায় এসে লোকাল ট্রেণের একখানি থার্ড ক্লাসে বসে হাঁপাচ্ছি–এমন সময় দেখি সামনের প্লাটফর্ম থেকে বোম্বে মেল ছাড়ছে আর তারই একটি কামরায় এমন একখানি মুখ আমার চোখে পড়ে গেল যাতে আমার সমস্ত বুক আশা আনন্দে দুলে উঠল। বহুদিন আগে এমার এক ছেলে … বিস্তারিত পড়ুন

অপেক্ষা —- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে জানালার চৌকাঠে। দু’হাতে ধরে আছে জানালার শিক, শিকের ফাঁকে মুখ গলানো। তার বাবা ফিরলে তারা সবাই দোকানে যাবে। আজ ফ্রক কেনা হবে পুজোর। কিন্তু বাবা ফিরছে না। পাঁচ বছরের মেয়ে, সব কথা কইতে পারে। হঠাৎ মুখটা ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে জিগ্যেস করল—ক’টা বাজে মা? মেয়ের মা সেলাই মেশিন থেকে মুখ তুলে ঘড়ি দেখে। সাতটা, … বিস্তারিত পড়ুন

বাড়ি —- সুচিত্রা ভট্টাচার্য

সে দিন অফিস-ফেরতা মার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। যেমন যাই, হপ্তায় এক-দু’বার। বাইরের ঘরে পাতা আদ্যিকালের সোফাটায় সবে বসেছি, নজরে পড়ল মাতৃদেবীর মুখখানি একেবারে তোলো হাঁড়ি। ঠোঁটে কুলুপ, ভুরুতে মোটা মোটা ভাঁজ। অন্য দিন তো চৌকাঠ পেরনো মাত্র মা কলকল করে ওঠে, আজ হলটা কী! চোখের ইশারায় প্রমিতাকে জিজ্ঞেস করলাম,—কেসটা কী রে? শাশুড়ির সঙ্গে ফের … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!