একটি তোতা পাখি— মিজানুর রহমান

আমার একটি তোতা পাখি ছিল।  সে খুব সুন্দর করে কথা বলত। সে আমাকে ডাকত বড় মিয়া নামে। কারণ আমি বাবার বড় ছেলে। আম্মুকে মা আর আববুকে বাবা বলে ডাকত। আর আমার ছোট ভাইকে ডাকত ছোট মিয়া বলে। তোতাটিকে আমরা ঘরের সিংহ দরজার ওপরে ঝুলিয়ে রাখতাম। আমরা ওকে প্রতিদিন দুধ-কলা-ভাত দিতাম । আর ও সুন্দর মিষ্টি … বিস্তারিত পড়ুন

রাসূলপুরের যুদ্ধ—-ফয়সাল শাহ

চেঁচামেচি-চিৎকার শুনে মামুনের ঘুম ভেঙ্গে গেল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মামুনের বাবা তাদেরকে মা-ভাইবোনসহ নানার বাড়ি রাসূলপুরে পাঠিয়ে দিলেন। এলাকাটি নদী-নালা-খাল-বিল বেষ্টিত একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। হেঁটে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। রিক্সা, ভ্যান কোনো কিছুই চলাচল করে না। মামুনের নানাবাড়ি এলাকায় সকলেই মীরবাড়ি বলে চিনে। বাড়ির সামনে দিয়ে চলে গেছে ধলেশ্বরী নদী। ডান … বিস্তারিত পড়ুন

বিধ্বস্ত মানব—নাহিদা আফরোজ

মেঘলা আকাশ, মেঘগুলো কালো চাদরে জড়িয়ে নিয়েছে পৃথিবীকে, আকাশে মেঘের ছুটাছুটি। একটু পরেই বৃষ্টি নামবে, আকাশ জুড়ে দ্রুত মেঘের পদচারণ, কখনো শোনা যায় মেঘের বিদ্যুৎ চমকানোর গর্জন। আকাশের এমন করুণ অবস্থা দেখে বুকটা দুরুদূরু কেঁপে উঠে আক্কেল আলীর। একমুহূর্তও দেরি না করে তাড়াতাড়ি দোকান-পাট বন্ধ করে পা বাড়ায় সামনের দিকে, মেঘলাময়ী আকাশের নিচে শহরের বিস্তীর্ণ … বিস্তারিত পড়ুন

শয়তান ও আমি

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর আমার মৌন স্বভাব হঠাৎ যেন পাখা মেলতে শুরু করেছে। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারলাম যখন দেখি আমারও পাঁচ-ছয় জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব জুটে গেল। অথচ মহাবিদ্যালয়ে আমার কাছের সুহৃদ ছিল মাত্র দু’জন। অনেক বন্ধুর মেয়ে-বান্ধবী থাকলেও আমার তখনো মেয়েদের দিকে ভালো করে তাকানোর সাহস পর্যমত্ম হয়নি। আর এখন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার তিনজন বান্ধবী পর্যমত্ম … বিস্তারিত পড়ুন

জীবন চক্র— আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

হাসপাতালে মেয়েটাকে রেখে আসার পর থেকে রাকিব সাহেব কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছেন। শাপলা চত্বর ঘুরে রাকিব সাহেবের গাড়ি যখন সামনে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক তখনই মেয়েটি উনার গাড়ির নিচে পড়ে। রাকিব সাহেব ইচ্ছে করলে দ্রুত পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো এমন লোক নয়। তাবলীগে সময় লাগিয়ে পাকা মুবাল্লিগ। আশে পাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই … বিস্তারিত পড়ুন

চেতনা আমানত—আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

এখনো পুরোপুরি শীত আসেনি। তবে শেষ রাতে প্রচুর কুয়াশা ঝরে। ভোরে সবুজ পাতায় সোনালী আলোয় সেই শিশির বিন্দুর ঝলমলে দৃশ্য হৃদয়ে পুলক জাগায়। যেন হিরে খচিত সবুজ গালিচা। মাহি, তিশা, রাতুল ও মিঠু সেই সবুজ গালিচা মাড়িয়ে স্কুলের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। এত সকালে স্কুল! এ আর নতুন কি। শহরের সেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোর দাপট … বিস্তারিত পড়ুন

রাকিবের ভাই সফিক—– সোহেল রানা বীর

সেই কখন থেকে আলমারীর দিকে তাকিয়ে আছে রাকিব। কাঁচের আলমারীর মধ্যে রাখা জিনিসগুলো থেকে চোখ সরছে না কোন মতে।  আলমারীর দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে একটি খেলনা হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটি রাকিবের মামা তার বড় ভাইকে দিয়েছিলো। সফিক রাকিবের বড় ভাই। খেলাধুলায় খুবই পারদর্শী। আলমারীর মধ্যে রাখা অধিকাংশ শোফিস এবং পুরস্কারের জিনিসগুলো সফিকের কৃতিত্ব। হেলিকপ্টারের পাশে কয়েকটি প্লেট। … বিস্তারিত পড়ুন

ভয়—- সোহেল নওরোজ

সাঁঝসকালে দরজা খুলেই ফারুক মামাকে দেখে যথেষ্ট বিরক্ত হলো নাইমা। সময়-অসময় নেই কোত্থেকে যে তিনি উদয় হন আল্লাহমালুম! পানের ব্যবসায় নামার পর এ বাড়িতে মামার যাতায়াত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। হাটের দিন খুব ভোরে ট্রাকে পান তুলে দিয়ে সোজা এখানে এসে হাজির হন। ‘কেমন আছিস রে, কাঁচকি?’ চোয়াল ভাঙা গাল বাঁকা করে বিশ্রী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন। রাগে … বিস্তারিত পড়ুন

কেবিন বয়—- সোলায়মান আহসান

প্রচন্ড শীত। মাঘ মাসের শৈত্য প্রবাহ চলছে। লঞ্চ চলছে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে। ঘ্যা… ঘ্যা… ঘ্যা। বুড়িগঙ্গা থেকে পটুয়াখালী এক দীর্ঘ যাত্রা। নদীর পর নদী পার হতে হয় লঞ্চকে রাতের অাঁধারে। রাতে বলেই লোকজন বুঝতে পারে না ভয়াবহ সেই দৃশ্য। উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাচ্ছে একটা লঞ্চ। কী সাহস মানুষের। শীতের কুয়াশা নদীকে ঢেকে দিয়েছে। … বিস্তারিত পড়ুন

চন্দ্রগ্রহণ— মনির মুকুল

ঘুমের আবেশ জড়ানো অবস্থায় আরেকটু আরাম করে বাম পাশে পাশমোড়া দিয়ে শোয় রহমত আলী। টুপটাপ বৃষ্টি ঝরছে। ইদানিং প্রায় প্রতি রাতেই কমবেশি বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির উষ্ণ আবেশে ঘুমাতে বেশ ভালো লাগে তার। হঠাৎ সে অনুভব করে তার ডান চোয়ালের উপর এক ফোটা শীতল পানির পরশ। সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের আবেশ কেটে যায় তার। পানির ফোটাটি চোয়াল … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!