এয়ারপোর্ট— সীমা-ব্যানার্জ্জী-রায়

এয়ারপোর্ট! মানেই হল – “যাওয়া -আসারই এই কি খেলা!” এই কথাটার মধ্যে যেন একটা বিষাদ আর আনন্দ-এর ছোঁয়া লেগে থাকে। আজকাল আর লোপা দেবীর এই এয়ারপোর্ট নামের ওপরে একটা ফ্রাস্ট্রেশন এসে গেছে। নামটা শুনলেই একটা মাইল্ড স্ট্রোক-এর মতন হয়। অথচ আগে কি ভালই না লাগত। প্রায়-ই যখন এখানে ওখানে স্বামীর সাথে যেতে হত। ছাব্বিশ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশে … বিস্তারিত পড়ুন

এই নাও তোমাদের গচ্ছিত ধন—আমরা সেই সে জাতি –আবুল আসাদ

সেদিন গভীর নিশীথে মহানবী (সা) হিজরত করেছেন। তাঁর ঘরে তাঁর বিছানায় শুয়ে আছেন হযরত আলী (রা)। মহানবীর কাছে গচ্ছিত রাখা কিছু জিনিস মালিকদের ফেরত দেবার জন্য মহানবী (সা) হযরত আলীকে (রা) তরবারির খোঁচায় জাগিয়ে বললো, “এই, মুহাম্মদ কোথায়?” নির্ভীক তরুন হযরত আলী উত্তর দিলেন, “আমি সারারাত ঘুমিয়েছি, আর তোমরা পাহারা দিয়েছো। সুতরাং আমার চেয়ে তোমরাই … বিস্তারিত পড়ুন

টুনুমুনু এক্কা—– সুবীর সরকার

এক বিকেলের ডোবার ক্ষণে ধানহাটি থেকে ঘর্মাক্ত মুখে বেরিয়ে আসছিলেন দেওয়ান বর্মণ। ঘাড়ের গামছায় ঘাম মুছতে মুছতেই সামনে পড়ল টুনুমুনু এক্কার। কালো পেশল শরীরে ঢেউ তুলে ধামসা-মাদলের তালে দুলতে দুলতে সে প্রবেশ করছে মোরগলড়াইয়ের আসরে, হাড়িয়াহাটের পর্বে। দেওয়ানের চোখে এক মুহূর্তের দ্বিধা—টুনুমুনুকে কি তিনি গ্রহণ করবেন, না কি তার জোতজমির তিন নদী পাঁচ বনের বিস্তৃত … বিস্তারিত পড়ুন

ফেরার—- ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

বাথরুমে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়াল রমেন। নিজের মুখটা আয়নায় দেখল। তারপর গালে হাত দিয়ে পরখ করল দাড়িটা কামাতে হবে, নাকি না হ’লেও চলবে। দুদিকে মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল নিজেকে। চোখ ছুঁচলো করে গোঁফটা দেখে নিল। নাকের ফুটো দুই আঙ্গুলে করে ওপরে তুলে দেখল চুল গজিয়েছে কিনা। তারপর আরো একবার গালে হাত বুলিয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

চিঠিচাপাটি—— সৌরেন চট্টোপাধ্যায়

আমাদের বলাই, অর্থাৎ পাতিয়ালার বলবিন্দর সিং ওর নতুন কেনা স্করপিওর স্টিয়ারিং-এর পিছনে বসে সুরেলা গলায় গুনগুন করে রবীন্দ্রসংগীত গাইছে। শান্তিনিকেতন থেকে বাংলায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বলবিন্দরকে গুরুদেবের গান আর কবিতার একজন বিশেষজ্ঞই বলা যায়। ওর ভরাট গলার আবৃত্তি শুনে অনেককেই বলতে শুনেছি, ‘বলাইবাবুর দাড়ি আর পাগড়ি এক্কেবারে ঠিক আসল পাঞ্জাবীদের মত’। বলাই-এর পাশের সিটটা এখনও ফাঁকা, … বিস্তারিত পড়ুন

পাগল, কোকিল ও পলাশ ফুল— বিশ্বজিৎ চৌধুরী

শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে ভিজেছে বেশ কিছুটা সময় ধরে। সারা গায়ে সাবান মেখেছে। ধারাজলে সেই সাবানের সবটুকু ফেনা শরীর বেয়ে নেমে যাওয়ার পর কল বন্ধ করে সরে এলো শাওয়ারের নিচ থেকে। এতক্ষণ যে গুনগুন গানটা পানির শব্দে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবার। বাথরুমে ঢোকার আগে কোনো একটা টিভি চ্যানেলে গান শুনেছিল। সেই গানের রেশ … বিস্তারিত পড়ুন

অনিরুদ্ধ টান—- চন্দন আনোয়ার

এই গ্রামের মাটির নিচে কোথাও গুপ্তধন লুকানো আছে – চা-স্টলে আদা-চায়ে চুমুক দেওয়ার একফাঁকে হঠাৎ এ-কথাটি বলে যুবক। সে এই প্রথম কোনো গ্রামের চা-স্টলে বসে চা খাচ্ছে। তার দিকে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গুপ্তধনের কথা বলে, না সত্যি করেই বলে, এই দ্বিধা নিয়ে সবাই যখন তার মুখের দিকে তাকায়, সে তখন আরেকবার বলে, আপনাদের … বিস্তারিত পড়ুন

দেহতরী—– মণীশ রায়

কার বিয়ে হচ্ছে আজ? শীতের ঘোলা আকাশজুড়ে কে ছড়াচ্ছে রঙিন আতশবাজির ফুলকি? কার মনে এতো আনন্দ? অথচ পাশের ঘর থেকে একটু পরপর ভেসে আসছে মায়ের কণ্ঠের বিলাপধ্বনি। অমিয় বুঝতে পারে না, এসব বিলাপ কিংবা কান্নাগুলো সত্যি সত্যি হৃদয়-নিংড়ানো কিনা। ওর মা পরমা কি সত্যি সত্যি ভালোবাসতেন ওর বাবাকে? সে খাটের পাখনার ওপর উঁচু করে বালিশ … বিস্তারিত পড়ুন

দস্যু—- মোঃ জাহিদুল ইসলাম

এক. পশ্চিমের আকাশটা খানিক মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। শীতকাল কিনা তাই সূর্যের ম্রিয়মাণ আলোয় মনে হচ্ছে, বেলা পড়ে এল। কিন্তু, বাস্তবিক অর্থে তা নয়, তখনও দুপুর দেড়টার ন্যায় আন্দাজ করা যায়। বেলা ঠিকই আছে। নেই শুধু আমার অবাধ্য মনটা। আমার সম্মুখে একটা নগ্ন চিঠি পড়ে আছে। একদৃষ্টে সে দিকেই তাকিয়ে আছি। মনে আকাশ পাতাল ভাবনা। চিঠিটাই … বিস্তারিত পড়ুন

মাকড়সা—- আবু রাশেদ পলাশ

অন্তু এখন যেখানে থাকে সেটি পুরনো কংক্রিটের তৈরি একতলা ঘর । পরিত্যক্ত,অপরিচ্ছন্ন আর আপাদমস্তক শেওলা ধরা । চারপাশে শাল-কড়ইয়ের সুবিস্তৃত অরণ্য ।আশেপাশে জনবসতির চিহ্ন দেখা অমাবস্যায় চাঁদ দেখার মত দুরূহ এখানে । একাকি জীবনে এখানে মাঝেমাঝেই কিছু অপরিচিত মুখশ্রী চোখে ভাসে ওর । কে জানে কত বছর আগে এখানে কারো পদচিহ্ন পড়েছিল । অথবা কোন … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!