ডাকাতি—- কনাদ মুখোপাধ্যায়

গড়ের পাঁচিলটা এখানেই ভেঙে ভেঙে শেষ হয়েছে। না, কেউ থাকে না ওই গড়টায়। কবে কার একটা পুরনো দুর্গ, সাত বুড়োর আমলের। ভূতের ভয়ে কেউ তার চারধারও মাড়ায় না। আলোছায়া ঘেরা, শাল-পিয়ালের জঙ্গলে ভরা এই জায়গাটায় পা দিলেই গা ছমছম করে। অথচ আজ না এসে উপায় ছিল না। বাবা এখনও ঘরে আসেনি। রাতদিন যে কোথায় থাকে … বিস্তারিত পড়ুন

অকপট —- হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়

সমবেত গুণীজন ও এই সোসাইটি-র মান্যবর অধিবাসিবৃন্দ! আমাকে যে আপনারা আজ এ্যাতো মূল্য দিয়ে সম্বধর্না আর বিদায় অভিনন্দন জানাতে ইচ্ছে প্রকাশ ক’রেছেন, এতেই আমি সম্মানিত ও ধন্য। তবে এ্যাতোটা দরকার ছিল না। আমাকে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, আমার অভিনীত ছবিগুলো যে আপনারা নানা থিয়েটারে গিয়ে দেখে আমাকে আর আমার কাজ-কে সার্থক করেছেন, তাতেই আমার প্রতি … বিস্তারিত পড়ুন

অবয়ব —– হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়

নিতাই নাকি একেবারে রাতারাতি ব’দলে গেছে। গোটা কুবেরপুর গ্রামজুড়ে ওকে নিয়ে এই তিনটে দিনেই একটা মাত্র আলোচনা ছড়িয়ে প’ড়েছে। সকালবেলা পঞ্চায়েত প্রধান সাহেবের সাথে দেখা পণ্ডিতমশাই মাধব ভট্টাচার্জের। প্রধান সাহেব জিজ্ঞেস ক’রলেন, — কী ব্যাপার, পণ্ডিতমশাই! কি সব শুনছি! পণ্ডিতমশাই-এর বয়স হয়েছে। ভ্রু-তে লোমগুলো বিরাট বিরাট আকৃতি নিয়েছে। তাও পাক ধ’রে গেছে আজকাল। এ অবস্থায় … বিস্তারিত পড়ুন

পর্ণমোচী— ঝর্না চট্টোপাধ্যায়

দোকানে কাউন্টারের উপরে নানান রঙের উলের গোলা। তার উপরে ঝুঁকে পড়ে রঙ বাছছিল তৃণা। হাতে বোনা সোয়েটার কেউ আর পরে না এখন। সে সব আগে পরত। শীত এলেই মা-কাকির দল উলের গোলা নিয়ে দুপুরে খাবার পরে রোদে বসে উল ছাড়ানো, কিংবা সন্ধ্যেয় রেডিওতে খবর শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে সোফায় বসে উলবোনার একটা রেওয়াজই ছিল বলা … বিস্তারিত পড়ুন

গদাধর——বীর কুমার রায়

প্রায় ত্রিশ-বত্রিশ বছর পর, সেদিন রাস্তায় গদাকে দেখলাম। পরণে বোতাম ছেঁড়া নোংরা জামা, প্যান্ট ও ক্ষয়ে যাওয়া হাওয়াই চপ্পল। ঠোঁটের কষ্ দুটো সাদা, পাগলাটে দৃষ্টি। ও কিন্তু আমার দিকে তাকিয়েও চিনতে পারলো না। আমিই ডেকে ওর সাথে কথা বললাম। “কী রে কেমন আছিস”? “ও ছুবীর? ভাল নেই রে”। “কেন? কী হয়েছে”? “হাতে একটাও পয়ছা নেই। … বিস্তারিত পড়ুন

ব্ল্যাকমেল— ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

খেলার মাঠের বাঁদিক ঘেঁষে একটা অনেকদিনের পুরনো বকুল গাছ। তার বাঁধানো বেদীতে বসেছিল ওরা তিনজনে। টুবলুর হাতে তখনও ধরা সিগারেটের শেষ টুকরোটা। একটু আড়াল করে বসেছে সে। শেষ টানটা দিয়ে সিমেন্টের বেদীতে টুকরোটা একবার ঘষে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল টুবলু। জগন সেটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখে নিল আগুন আছে কিনা, তারপর তপো মানে তপোব্রতর … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁকা চাঁদ —- বাশিস কোনার

অপু এক সময় চাঁদ খুব ভালোবাসতো । এখন আর বাসে না । চাঁদ সম্পর্কে একটা বাজে ধারণা তৈরি হয়েছে তার । কিভাবে যে এমন ধারণা হল, সেটাই ভাবছে সে । প্রথম আঘাতটা আসে তার প্রথম প্রেয়সী রূপসার কাছ থেকে । যে সে আঘাত নয় , একেবারে জুতো ছুড়ে মার । রূপসার ডাক নাম চাঁদনী । … বিস্তারিত পড়ুন

উপনয়ন— সুবীর কুমার রায়

জমিদারী প্রথা অনেকদিন আগেই বিলুপ্ত হলেও চৌধুরীদের তিনশ’ বছরের বিশাল বাড়িটা আজও মাথা তুলে অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ বহণ করছে। বংশানুক্রমে শরিকের সংখ্যা বেড়েছে, তার সাথে বেড়েছে বাড়ির বাসিন্দার সংখ্যা ও ছোট ছোট ঘরের সংখ্যা। যদিও অন্যের সুবিধা-অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখা তো দুরের কথা, কেউ কারো খোঁজও রাখেন না। অতিবৃদ্ধ, বৃদ্ধ, প্রৌঢ়, যুবক, কিশোর ও শিশু … বিস্তারিত পড়ুন

জল্পনা,একটি মেয়ের নাম —তাপসকিরণ রায়

তখন সবে শৈশবের খোলস ছেড়ে কৈশোরের পোশাক পরতে শুরু করে ছিলাম। সব কিছু তখন রঙিন ছিল–কাঁচের রংচংয়ের চুড়ি থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের ফুল পর্যন্ত সব আসল মেকি একাকার হয়ে ছিল। সরল সাদাসিধা তথা কৈশোর বয়সের বোকা একটা ছেলে ! পৃষ্ঠা উল্টে মলাটের ভেতর দেখতে পায় না। তখন তার মনের মাঝে অনাবিল আনন্দ থাকে–নীল বিষাক্ত যন্ত্রণা কোথায় … বিস্তারিত পড়ুন

এয়ারপোর্ট— সীমা-ব্যানার্জ্জী-রায়

এয়ারপোর্ট! মানেই হল – “যাওয়া -আসারই এই কি খেলা!” এই কথাটার মধ্যে যেন একটা বিষাদ আর আনন্দ-এর ছোঁয়া লেগে থাকে। আজকাল আর লোপা দেবীর এই এয়ারপোর্ট নামের ওপরে একটা ফ্রাস্ট্রেশন এসে গেছে। নামটা শুনলেই একটা মাইল্ড স্ট্রোক-এর মতন হয়। অথচ আগে কি ভালই না লাগত। প্রায়-ই যখন এখানে ওখানে স্বামীর সাথে যেতে হত। ছাব্বিশ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!