স্বপ্ন দেখার তাবিজ-কবজ —অলাত এহসান

ভরা বাস। প্যাসেজেও দাঁড়িয়েছে কয়েকজন যাত্রী। ঠিক এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেয়া ব্রয়লারগুলোর মতো অবস্থা। পিক-আপ একটু দুলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাঁচির ভেতরে বেসামাল শরীরে গলা নাচিয়ে ওঠে সব। এর মধ্যে কেউ একজন সামনের দিকে যেতে চাইলেন। প্রথমে কেউ খেয়াল করেনি। আসলে খেয়াল করার মতো কেউ ছিলো না। পঞ্চাশোর্ধ বয়স। খাঁটো মতো, গোট্টাগাট্টা গড়ন। … বিস্তারিত পড়ুন

মালিকেরা—- দীপু মাহমুদ

এগারো দিন হলো সালমা প্রায় কিছুই মুখে দেয়নি। বেতন ভাতার দাবিতে অনশন শুরু করেছে। অথচ মাস তিনেক আগে ডাক্তার তাকে সুসংবাদ দিয়েছে- মা হবে সে। খবর শুনে ইয়াকুবের আনন্দ ধরে না! ইয়াকুব সালমার স্বামী। রিকশা চালায়। সালমা কাজ করে গার্মেন্টসে। ইয়াকুব মোবাইলে ফোন করে ছোট বোনকে। বোনটা মায়ের সঙ্গে থাকে। ওদের বাড়ি ফরিদপুরের সালথায়। ফোন … বিস্তারিত পড়ুন

পুতুল হাতি —- রণজিৎ সরকার

টেবিলে বইখাতা ছড়ানো। তিতি টেবিলে মাথা গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। বাবা অফিস থেকে এসে দেখতে পেলেন। তিতির মাথায় হাত রেখে বাবা বললেন, ‘তিতি, কী হয়েছে তোমার? তিতি উত্তর দেওয়ার আগেই ওর মা বললেন, ‘ফরেস্ট এরিয়ায় কোনো ভালো বোর্ডিং স্কুল আছে কিনা, দেখো।’ তিতির বাবা বললেন, ‘হঠাৎ ফরেস্ট এরিয়ার কথা বলছ কেন?’ তিতির মা রেগে বললেন, … বিস্তারিত পড়ুন

অস্ত্রগুরু দ্রোণ

রোণ মহাভারতের এক বিশিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই বিশাল কাহিনীর মধ্যে ঘুরেফিরে বারেবারেই তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে। ভরদ্বাজ মুনির পুত্র ছিলেন এই দ্রোণ। অপ্সরা ঘৃতাচী তাঁর মা। ঋষি ভরদ্বাজ তাঁর সময়ে খুবই নামকরা শিক্ষক এবং অস্ত্রগুরু ছিলেন। নানা দেশের রাজপুত্রদের তাঁর কাছে পাঠানো হত লেখাপড়া ও অস্ত্রচালনা শিখতে। তাদের সঙ্গেই দ্রোণও বাবার কাছে লেখাপড়া শিখতে … বিস্তারিত পড়ুন

বন্ধ দরজা

দুপুর বারোটা। ঠিক মধ্যদুপুর। অদ্ভুত কোন কারণে তখন আকাশটা আয়নার মত হয়ে যায়। আর সে আয়নায় প্রতিফলিত হয় সূর্যের যত ক্রোধ। কাঠফাটা রোদ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে,যে রোদে কিনা কাঠ ফাটে। কিন্তু আজকের রোদটাকে বলা যায় লোহাগলা রোদ। এ রোদে লোহা গলবে। তাছাড়া গ্রীষ্মকালের মধ্যদুপুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। চারপাশে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে,মরিচীকার জন্ম … বিস্তারিত পড়ুন

একটি ব্যাখ্যাতিত ঘটনা

অবশেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তীব্র যানজট পেরিয়ে যখন বারাদী বাজার (মেহেরপুর) এসে নামলাম তখন রাত ১.৫০ মিনিট। অন্ধকার তেন ছিলো না, মৃদু চাঁদের আলোয় ঝিঁঝি পোকারা ডাকছিলো। বাজারে একটা দোকানও খোলা নেই। আমি খুব ধীরে ধীরে ট্রাভেল ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। এই মুহূর্তে আমি চূড়ান্ত রকম নিঃসঙ্গ। মোবাইলটা তিনবার ‘লো-ব্যাটারি’ সিগন্যাল দিয়ে বন্ধ হয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

আলো ও ছায়া— শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়–ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

  উপরের জানালা হইতে সুরমা দেখিল, যজ্ঞদত্ত বাড়ি ফিরিয়া আসিল, কিন্তু সঙ্গে বৌ নাই। ঘরে প্রবেশ করিলে কহিল, যজ্ঞদাদা, বৌকে কোথায় রেখে এলে? পিসীর বাড়ি। সঙ্গে আনলে না কেন? থাক, কিছুদিন পরে আনলেই হবে। কথাটা সুরমার বুকে বিঁধিল। দুইজনেই চুপ করিয়া রহিল। প্রিয়জনের সহিত তর্ক করিতে গিয়া হঠাৎ বচসা হইয়া গেলে যেমন দুইজনেই কিছুক্ষণ ক্ষুণ্ণমনে … বিস্তারিত পড়ুন

আলো ও ছায়া— শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়–সপ্তম পরিচ্ছেদ

সুরমা দেখিল বৌ আসিয়াছে। উগ্র নেশার প্রথম ঝোঁকটা কাটাইয়া দিয়া সে স্থির হইয়াছে। তাই বৌ দেখিতে বাড়াবাড়ি করিল না। শান্ত ধীরভাবে প্রিয়সম্ভাষণ করিল, মৌখিক নহে, অন্তরগত মঙ্গলেচ্ছা তাহার শুষ্ক মুখের উপর জ্যোতি ফিরাইয়া আনিল। বৌ, কৈ ভাল ছিলে না ত? বৌ মাথা নাড়িয়া কহিল, মাঝে মাঝে জ্বর হ’ত। সুরমা তাহার কপালের ঘাম মুছাইয়া বলিল, এখানে … বিস্তারিত পড়ুন

আলো ও ছায়া— শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়–অষ্টম পরিচ্ছেদ

  ছয় দিন পরে ভাল করিয়া জ্ঞান হইলে, সুরমা জিজ্ঞাসা করিল, দাদা কেমন আছেন? দাসী কহিল, ভাল আছেন। আমি দেখে আসব। কিন্তু উঠিতে গিয়া আবার শুইয়া পড়িল। দাসী কহিল, তুমি বড় দুর্বল, তাতে জ্বর হয়েছে, উঠো না, ডাক্তার বারণ করেছে। সুরমা আশা করিল যজ্ঞদাদা দেখিতে আসিবে, বৌ দেখিতে আসিবে। একদিন দুইদিন করিয়া ক্রমে এক সপ্তাহ … বিস্তারিত পড়ুন

অতনু ফিরে যাবে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়— প্রথম অধ্যায়

কন্যার বিবাহযোগ্য বয়সের সম্বন্ধে যত মিথ্যা চালানো যায় চালাইয়াও সীমানা ডিঙাইয়াছে। বিবাহের আশাও শেষ হইয়াছে।—ওমা, সে কি কথা! হইতে আরম্ভ করিয়া চোখ টিপিয়া কন্যার ছেলেমেয়ের সংখ্যা জিজ্ঞাসা করিয়াও এখন আর কেহ রস পায় না, সমাজে এ রসিকতাও বাহুল্য হইয়াছে। এমনি দশা অনুরাধার। অথচ ঘটনা সে-যুগের নয়, নিতান্তই আধুনিককালের। এমন দিনেও যে কেবলমাত্র গণ-পণ, ঠিকুজি-কোষ্ঠী ও … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!