রাত গভীর—– হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

দোষ আমারই। বন্ধুর বোনের বিয়ে। যাব আর খেয়ে চলে আসব, এই ঠিক ছিল। কিন্তু গিয়েই মুস্কিলে পড়লাম। বন্ধু অকান্তে ডেকে হাত দুটো ধরে বলল, উদ্ধার করে দে ভাই, ভীষণ বিপদে পড়েছি। কি আবার হ’ল? পাড়ার ছেলের দল পরিবেষণ করবে ঠিক ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে একদল বেপাড়ার জলসা শুনতে চলে গেছে। লোক কম। তোদের হাত লাগাতে … বিস্তারিত পড়ুন

ঝুনুমাসীর বিড়াল—— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঝুনুমাসী একদম বিড়াল পছন্দ করতেন না। বিড়ালরা নাকি বড্ড নোংরা হয়। তারা যখন-তখন ছাদে যায়, ছাইগাদার ওপর ঘোরে, আবার সুযোগ পেলেই টুক করে বিছানার ওপর লাফিয়ে ওঠে। বিড়ালরা এমনই আদুরে যে, বিছানায় না শুলে তাদের ঘুমই আসে না। একদিন তো ঝুনুমাসী তাঁর বিছানার ওপর কোথাকার একটা উটকো বিড়ালকে দেখে একেবারে কেঁদেই ফেলেছিলেন। সেই বিড়ালই একদিন … বিস্তারিত পড়ুন

কৈলাসে চা পান—– আশাপূর্ণা দেবী

মা দুর্গা কৈলাসে ভাঁড়ার ঘরের সামনে বসে পান সাজছিলেন। জয়া-বিজয়া কাছে বসে খয়ের সুপুরি কুচিয়ে দিচ্ছিল; তা দিক, পান সাজাটি মা কারো হাতে দিতে রাজী নন, ভোলা মহেশ্বরের জিনিস বলে কথা! কে চূণ বেশী দিয়ে ফেলবে, কে খয়ের বেশী দিয়ে ফেলবে, বেচারী ভোলানাথের গাল পুড়বে, জিভ তিতোবে। শত কাজের মধ্যে তাই মা দুর্গার নতুন এই … বিস্তারিত পড়ুন

মা

আমার নানার চার মেয়ে ও দু’ছেলের মধ্যে আমার মা ছিলেন সবার বড়। নানা আমার মাকে খুব ভালোবাসতেন। আমাদের বাড়ি থেকে নানার বাড়ি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের নাম চরবাড্ডা মির্জাচর। সবুজ গাছপালা বেষ্টিত গ্রামটি খুবই চৎমকার। মাঝে মাঝে আমার মাকে দেখার জন্য নানা আমাদের বাড়িতে আসতেন। আসার সময় নানা মায়ের জন্য কাঁঠাল, আম, কলা, আনারস, … বিস্তারিত পড়ুন

সেমুলী

আমি তখন ছোট। বয়স ছয় কি সাত হবে। মাঝে মাঝে স্কুলে যেতাম এবং দিনে একটা করে বই ছিঁড়তাম। আমি ছিলাম নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার জন্মের পর থেকেই বাবার সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। অথচ আমার জন্মের পূর্বে আমাদের সংসারে ছিল ঘোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ও বালতি ভরা দুধ। দাদা যখন সংসার ছেড়ে দিলেন, … বিস্তারিত পড়ুন

তারিফ হোসেনের সত্য….”ভাই”

সূচনাঃ সম্পর্কসূচক যতগুলো শব্দ আমরা জানি তার মধ্যে ভাই শব্দটি খুবই নৈর্ব্যক্তিক ও আপেক্ষিক। স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ ভাই ঢাকা-মক্কা প্রাচীন-অর্বাচীন কৃতী-দুষ্কৃতী নির্বিশেষে উপর্যুপরি ব্যবহৃত এবং স্বীকৃত। ভাইয়ের রকমফেরঃ দ্বিন-ইসলামের দুর্দিন ঘোচাতে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে সদা প্রস্তুত জিহাদি ভাই। দীক্ষাদাতার কাছে আগত গ্রহীতা লঘু-গুরু যাই হোক তারা একে অন্যের গুরুভাই। ওদিকে সুতা, লতা বাহুডোরে বেঁধে সৃষ্ট বন্ধনকে আমরা … বিস্তারিত পড়ুন

ক্যামেরা —পার্থ চট্টোপাধ্যায়

এবারে জাপান যাবার সময় আমাদের কাগজের ফোটোগ্রাফার রজত সেন বলেছিল, “সুবীরবাবু, অনেক দিন ধরে আমার শখ একটা জাপানী শিকন ক্যামেরা। তা আপনি যখন জাপান যাচ্ছেন, তখন যদি আমার জন্য একটা ক্যামেরা নিয়ে আসেন।” আমি বলেছিলাম, “যদি একসচেনজে টান না পড়ে, নিশ্চয়ই আনব।” রজত সেনকে আমি খুব পছন্দ করি। ফোটোগ্রাফিতে দারুণ হাত। সেবার পাকিস্তান-যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের … বিস্তারিত পড়ুন

শেষ দৌড়— সুধাংশু ঘোষ

শীতকালে বারান্দায় মাদুর পেতে বসে সমু। পুবের লম্বা বারান্দায় সকালের রোদ্দুর ভারী মিষ্টি লাগে। উঠবার সময় সূর্য বাগানের গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে অনেক রোদ্দুরের বর্শা ছুঁড়ে দেয়। বই থেকে মুখ তুলে সমু এক-একবার দেখে নেয়। এখন কিন্তু বর্ষাকাল। পড়ার ঘরে বসেই পড়ছিল সমু। তক্তপোশে পা ঝুলিয়ে বসে টেবিলে বই রেখে পড়ছিল। সেই তক্তপোশেই অন্য পাশে রুনি … বিস্তারিত পড়ুন

হাসনুহানার জামা— বলরাম বসাক

বাঁশপুকুরের হাঁসমামা। ছিল তার ছোট্ট ছানা। নাম তার হাস্নুহানা। হাস্নুহানা পুজোয় জামা চেয়েছিল হাঁসমামার কাছে। হাঁসমামা পরিষ্কার বলে দিলে, “পয়সা নেই।” শেষে কোঁক্ কোঁক্ করে কেঁদে ফেলতেই হাঁসমামা বললে, “ঠিক আছে, পুজো গেলেই তোকে জামা কিনে দেব।” পুজো চলে গেল। এদিকে জামা কেনা হচ্ছে না। হাঁসের ছানা হাস্নুহানা তাড়া দিল হাঁসমামাকে, “কই জামা কিনে দিলে … বিস্তারিত পড়ুন

কলম্বাসের বাবা—- এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়

ভবানীপুর স্পোর্টিং-এর সঙ্গে আমাদের ক্লাবের খেলা, কাল বিকেল তিনটেয়-খবরটা গৌতম আগেই দিয়ে গিয়েছিল। তারপর আধ ঘণ্টাও হয়নি-জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম সাইকেল থেকে কেষ্টাকে নামতে। ঊর্ধ্বশ্বাসে পড়ার টেবিল ছেড়ে দৌড়েছি। খুব সময়ে পৌঁছে গেছি যা হোক। দেখি বাঁটুল গোড়ালি উঁচু করে ঘণ্টি টেপার চেষ্টা করছে, হাত পৌঁছচ্ছে না। “বাজাস না।” গম্ভীর গলায় বললাম। সকাল থেকে আমার … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!