তারকেশ্বর লোকাল—– বাণী বসু

ন’টা বা সওয়া ন’টার ট্রেনটা তাকে ধরতেই হবে৷ মাধবী তাড়াতাড়ি শাড়ির ভাঁজ ঠিক করে৷ সালোয়ার-কামিজ কী প্যান্ট পরলেই সুবিধে হত, কিন্তু যে কাজে যাচ্ছে তাতে ওগুলো ঠিক…৷ ঠিক সময়েই শেষ পর্যম্ত ঢুকতে পারল সে হাওড়া স্টেশনে, কিন্তু এ যে জনসমুদ্র? কোথায় টিকিট ঘর কোথায় কী, কিছুতেই ঠাহর হয় না৷ অথচ এককালে তারা বন্ধুরা দল বেঁধে … বিস্তারিত পড়ুন

শাস্ত্রজাতক – বাণী বসু

বিস্ফারিত চোখে ওঁরা দেখলেন মরা মানুষের জাঙাল ভেদ করে উঠে আসছে একটা আকার, যতই উঠে আসে, ততই তাকে চিনতে চিনতে চিত্রার্পিত হয়ে যান সব। উঠে আসছে সেই লোকটা বহু যুগ আগে যাকে মেরে ফেলা হয়ে গেছে, গ্রন্থে গ্রন্থে যার হনন-বার্তা এক দিন মহারবে চতুর্দিকে রটিত হয়েছিল। স্বর্গে এবং মর্ত্যে, লোকান্তরে এবং লোকায়তে বিধ্বস্ত পণ্ডিত শিল্পী … বিস্তারিত পড়ুন

সার্থকতা – — বনফুল

আমার অতীত জীবনের দিকে চাহিয়া দেখি–আর আমার দুঃখ হয়! সে যেন একটা সুখ-স্বপ্ন ছিল! সেই আমার অতীত জীবনের স্মৃতি…আজ সত্যি সত্যিই স্মৃতিমাত্র। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার সে জীবন গেল কোথায়? সেই শোভন, সুন্দর, মোহন জীবন। …একদিন আমার রূপ ছিল–সৌরভ ছিল–মধু ছিল। আমার সেই সুষমার দিনে কত মধুলুব্ধ ভ্রমরই না আমার কানে কানে বন্দনার স্মৃতিগান … বিস্তারিত পড়ুন

বেচারামবাবু — বনফুল

রিশ মুদী সন্ধ্যাবেলা হিসাব বুঝাইয়া গেল যে গত মাসের পাওনা ২৭.৭০ পঃ হইয়াছে এবং তাহা অবিলম্বে দেওয়া দরকার। সদ্য-অফিস-প্রত্যাগত বেচারামবাবু বলিলেন–“আচ্ছা মাইনেটা পেলেই–!” অতঃপর কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া বেচারামবাবু বাহুরের রোয়াকটিতে বসিয়া হাঁক দিলেন–“অরে চা আন্‌–।” চা আসিল। চা আসিবার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার হরিবাবু, নবীন রায়, বিধু ক্লার্ক প্রভৃতি চার পাঁচজন ভদ্রলোকও সমাগত হইলেন এবং সমবেত গল্প-গুজব … বিস্তারিত পড়ুন

বাড়তি মাশুল — বনফুল

কেই বলে বিড়ম্বনা। আমি একজন ডেলি প্যাসেঞ্জার। সেদিন সমস্ত দিন আপিসে কলম পিষে উর্ধ্বশ্বাসে হাওড়ায় এসে লোকাল ট্রেণের একখানি থার্ড ক্লাসে বসে হাঁপাচ্ছি–এমন সময় দেখি সামনের প্লাটফর্ম থেকে বোম্বে মেল ছাড়ছে আর তারই একটি কামরায় এমন একখানি মুখ আমার চোখে পড়ে গেল যাতে আমার সমস্ত বুক আশা আনন্দে দুলে উঠল। বহুদিন আগে এমার এক ছেলে … বিস্তারিত পড়ুন

ভৃঙ্গু কোবরেজ —– রণদীপম বসু

ধারণা করা হয ভৃঙ্গু কোবরেজের নামটা তাঁর পিতৃ-প্রদত্ত নাম নয়। তবুও এই নামটাই তাঁর আদিনাম ছাপিয়ে কী করে যে দশ গ্রাম পেরিয়ে বহু দূর দেশেও খ্যাতি পেয়ে গেলো, এর কোষ্ঠি বিচার করার বয়েসী কেউ আর জীবিত নেই এখন। কিংবা আদৌ তাঁর কোন আদিনাম ছিলো কিনা সেটাও কোবরেজের নির্বিকার ঘোলা চোখ পাঠ করে কোন সুরাহা মেলে … বিস্তারিত পড়ুন

কলম ––রণদীপম বসু

  সকালে অফিসে ঢুকেই জরুরি ফাইলটা নিয়ে বসের রুমে দৌঁড় দেবো প্রায়, কলমটা আর খুঁজে পাচ্ছি না। তালাহীন ড্রয়ারটা হাতরে তন্ন তন্ন করেও কলমটা খুঁজে পেলাম না। আগে টেবিল থেকে কলম হারিয়ে যেতো বলে এখন ড্রয়ারেই রেখে যাই। এখানেও তথৈবচ ! অন্যের বই বউ আর কলম, এই তিনের প্রতি শিক্ষিত বাঙালির আদি ঝোঁক যে এখনও … বিস্তারিত পড়ুন

অনুগল্প

ঘরের সাথের এক চিলতে বারান্দাটায় হাঁটাহাঁটি করে বিকেলটা বেশ ভালই কেটে যায় তন্বীর । মাঝে মাঝে বারান্দায় বসে গল্পের বই পড়ে, কখনো বসে কফি খায়, আবার কখনো শুধুই গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে । সেইসাথে আরেকটা কাজ সে নিয়মিত করে । রাস্তার ওইপাশে যে হালকা নীল রঙের বাড়িটা আছে, সেটার তিনতলায় যে শ্যামলা মতন ছেলেটা থাকে, … বিস্তারিত পড়ুন

ঘাড়ত্যাড়া পিচ্চি

ঘটনাটা একটু প্যাজগি টাইপের। তখন আমি ছিলাম মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ঘাড়ত্যাড়া টাইপের ছেলে। যখন যা বায়না ধরতাম তা, আদায় না-হওয়া পর্যন্ত অভিরত কান্না চলতেই থাকতো। তবে এখন আমার চাইতেও একটা ঘাড়ত্যাড়া পিচ্চি আছে.. যে তিনদিন ধরে খেলনা পিস্তল কেনার বায়না ধরছিলো..দাম বেশী না..মাত্র দু’শ টাকা। কিন্তু দুঃখজনক..সেটা আদায় করা মুঠেই সম্ভব হলো না। তবে … বিস্তারিত পড়ুন

হাওয়াই মিঠাই —- রণদীপম বসু

সপাং করে পিঠের ওপর জালিবেতের তীব্র বাড়িটা পড়তেই শার্টের নিচে চামড়াটা যেন ঝলসে উঠলো অপুর ! অবিশ্বাস্য চোখে রহমান স্যারের এমন ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখে শিউড়ে ওঠলো সে। বড় বড় চোখ দুটো ডিমের মতো ঠেলে বেরিয়ে আসছে তার ! চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাশ টিচার রহমান স্যারের এমন উগ্র রূপ আগে কি কখনো দেখেছে সে ! কিছুতেই মনে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!