পাতালে হাসপাতালে —হাসান আজিজুল হক

মারজেন্সির লোকটি মুখ নিচু করে টেবিলে কিছু একটা দেখছিল। অন্যমনস্কভাবে চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো তার থেকে মাত্র হাত দুয়েক দূরে দুজন আধবয়েসি আর এক বুড়ো একটা লোককে কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়োর পাতলা লম্বা নাকটা এক দিকে বাঁকা। কাঁচাপাকা খুদে দাড়ি বেয়ে ঘাম ঝরছে। যাকে কাঁধে নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে, তার মুখ দেখা যায় না, … বিস্তারিত পড়ুন

আরো একটি কন্যা —- হাসান আজিজুল হক

অভিজ্ঞতা যত তীব্র আর উদ্বেগজনক হোক না, এ রকম ব্যাপার আজকাল এতই সাধারণ হয়ে এসেছে যে, তা নিয়ে বড়সড়ো একটা কথার অবতারণা একেবারেই অনর্থক। গতকাল নারায়ণ হৃদয়ালয়ে (কানাড়ি উচ্চারণে হৃদয়ালয়) আমার একটি এনজিওগ্রাম হলো। এসব এখন প্রায় নৈমিত্তিক চিকিৎসার অঙ্গ হয়ে গেছে। আমার এই তৃতীয়বার। হৃদযন্ত্রটা এমন ফুটিফাটা বদ্ধ অবস্থায় আছে যে, মেরামত করার জন্য … বিস্তারিত পড়ুন

রেইনকোট —– – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

ভোররাত থেকে বৃষ্টি। আহা! বৃষ্টির ঝমঝম বোল। এই বৃষ্টির মেয়াদ আল্লা দিলে পুরো তিন দিন। কারন শনিতে সাত মঙ্গলে তিন, আর সব দিন দিন। এটা জেনারেল ষ্টেটমেন্ট। স্পেসিফিক ক্লাসিফিকেশনও আছে। যেমন, মঙ্গলে ভোররাতে হইলে শুরু, তিনদিন মেঘের গুরুগুর। তারপর, বুধের সকালে নামলে জল, বিকেলে মেঘ কয় এবার চল। বৃহস্পতি শুক্র কিছু বাদ নাই। কিন্তু এখন … বিস্তারিত পড়ুন

চেষ্টার ফল —– মোহাম্মদ নাদিম

ভদ্র ছেলে এমদাদুল। জনমস্থান গ্রামে। তার বাবা একজন কৃষক। এমদাদুল গ্রামেই এক কিন্ডারগার্টেনে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছে। তার সমাপনী রেজাল্ট ভালো। সমাপণী রেজাল্ট দেখে তার বাবা আগ্রহী হয়ে উঠলেন ছেলেটিকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য। তার বড় চাচার বাড়ি শহরে। ছেলেটির বাবা তার চাচার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজে কষ্ট করে … বিস্তারিত পড়ুন

দুধভাতে উৎপাত—- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

একটু বেলা হলে বৃষ্টি ধরে এলো। তবে আবুল মাস্টারের উত্তরপাড়ার জমিতে পাট কাটা শুরু হয়েছে, শালার মাস্টার আজ আসবে না। ইস্কুলে গেলে জুত করে ভেলায় চাপা যায়। ইস্কুলের নিচে এবাদত মুন্সির বড় ভেলাটা বাঁধাই রয়েছে, লগির ১২-১৪টা ঠেলা দিলেই একেবারে ধলেশ্বরীর তীর। সাড়ে ১০টার লঞ্চে উঠে কাপড়ের গাঁটের ওপর বসে থাকা প্যাসেঞ্জারদের সামনে সুর করে … বিস্তারিত পড়ুন

রহস্যময় —- নাহিদা আফরোজ

সন্ধ্যায় এসেছিল ফোনটা, আর একটুও সময় না নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমার সাথে আছে শুভ। শুভ’র সাথে আমার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। আমার পাশের বাড়িতেই থাকে সে। সেই অনেক বছর আগে আমার বাবা মারা যান, শুভ’রও একই অবস্থা। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে আমাদের উপর। দিশেহারা হয়ে পড়ি দু’জনই, শেষে একটা ম্যাজিক স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন জলসায় … বিস্তারিত পড়ুন

পূর্বঘোষিত মৃত্যুর দিনপঞ্জি – —-আনিসুল হক

‘আপনি আগামীকাল বিকেল চারটায়, হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক বিকেল চারটায় মারা যাবেন।’ এবিসির কাছে ফোনটা আসে সকাল দশটায়। তখন তিনি তার গুলশান অফিসে এসে কেবল বসেছেন। টেবিলে ভাঁজ করে রাখা ইংরেজি দৈনিকটা মেলে ধরেছেন। তার প্রিয় হলো এগারো নম্বর পৃষ্ঠার কমিক স্ট্রিপ। তিনি সেই পৃষ্ঠার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। শীতকাল। বোধহয় পৌষ মাস। এ বছর আবহাওয়ার … বিস্তারিত পড়ুন

ছাপাখানায় একটা ভূত থাকে – —- আনিসুল হক

রহস্য গল্প

আমাদের বাসায় আমরা বাস করি মিনির মায়ের মতো করে। মিনির মাকে আশা করি আপনারা চিনেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাবুলিওয়ালা গল্পের যে মিনি, তার মা। তার ধারণা ছিল, পৃথিবীর সব চোর-ডাকাত, গুন্ডা-বদমাশ, আরশোলা-শুয়োপোকা, সাপ-বাঘ তার বাসার দিকেই ধেয়ে আসছে। আমাদের ধারণা ঠিক অতটা আন্তর্জাতিক নয়। পৃথিবীর সব চোর-ডাকাত আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ির দিকে ধেয়ে না এলেও দেশের সব … বিস্তারিত পড়ুন

সময়ের প্রয়োজনে —-জহির রায়হান

কিছুদিন আগে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের একটা অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে গিয়েছিলাম। ক্যাম্প-কমান্ডার ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। সেই ব্যস্ততার মুহূর্তে আমার দিকে একটা খাতা এগিয়ে দিয়ে বললেন, আপনি বসুন। এই খাতাটা পড়ুন বসে বসে। আমি কয়েকটা কাজ সেরে নিই। এরপর আপনার সঙ্গে আলাপ করব। খাতাটা হাত বাড়িয়ে নিলাম। লাল মলাটে বাঁধানো একটা খাতা। ধুলো, কালি আর তেলের কালচে … বিস্তারিত পড়ুন

মাতৃদায় —– বাণী বসু

টেশনে নামতে না নামতেই কিছুর মধ্যে কিছু না, কাঁধে একটা থাপ্পড়। আমার ছোট্টবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধু লোকনাথ। ছাতিমতলায় বসে নাকি ওর স্পেশাল বিড়িতে সুখটান দিচ্ছিল। সেখান থেকেই নজর করেছে। — কী রে? অ্যাদ্দিন কোথায় ছিলি? — কেন, জানিস না? ৪ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আদি ও অকৃত্রিম। — ধ্যার, ওটা তো তোর বাসাবাড়ি! আদি-অকৃত্রিম কী করে হয়? … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!