পিন্টুর মৎস্যরাজ—- রামকৃষ্ণভট্টাচার্য্য

বাবা বাজার থেকে জিওল মাছ আনলেই পিন্টু সেগুলোকে প্যাট প্যাট করে চেয়ে দেখে । চিমটে দিয়ে ধরে কয়েকটাকে ছেড়েও দিয়েছে । কিন্তু, সেই মৎস্যরাজকে আর খুঁজেই পাচ্ছে না ! প্রত্যেকবার ভাবে, এবার বোধহয় ছাড়া পেয়ে মাছটা বলবে- পিন্টু, তুমি আমার প্রাণ বাঁচালে । তোমাকে আমি আশীর্বাদ করছি । এবার থেকে যা চাইবে খালি বলবে – … বিস্তারিত পড়ুন

আঁকা আর দাদুর গল্প —- রত্নদীপা

ব্রিজমোহন পাশ ফিরে শুলেন । পাশবালিশটা সরাতেই বুঝতে পারলেন যে আঁকার শরীরটা ঠান্ডা হয়ে আছে । মেয়েটা কিছুতেই গায়ে কিছু দেবে না, সারারাত লাথি দিয়ে দিয়ে চাদরটাকে পায়ের নীচে নামাবেই আর ব্রিজমোহন সেটাকে আবার নাতনির গায়ে টেনে টেনে ওপরে তুলবেন । সারারাত এই এক যুদ্ধ চলে দাদু নাতনির । এই সময়টা হাল্কা ঠান্ডা পড়ে উত্তরবঙ্গে, … বিস্তারিত পড়ুন

ডালা শিকার (একটি রোমাঞ্চকর অনুগল্প)

‘ডালা শিকার’ আমার কাছে এক অদ্ভুত মায়াবী আকর্ষণের নাম। ছোট বেলা থেকেই কেউ যদি একবার আমার কানের কাছে একবার ডালা শিকারের কথা বলে যেত তাহলে সারাদিনের নাওয়া খাওয়া ভুলে নিশি পাওয়া মানুষের মতো তার পিছে পিছে ঘুরতাম। যারা ডালা শিকার শব্দটার সাথে পরিচিত নন তাদের জন্য বলছি, ডালা শিকার হলে রাতে বাতি, মশাল বা টর্চের … বিস্তারিত পড়ুন

প্ন-মঙ্গল —– সরদার মেরাজ

ঘুমিয়ে আছি। নদীর পানির ঢেউ ভাঙার শব্দ। স্বপ্নে দেখলাম, কেউ একজন এসে আমাকে বলছে‘, তোর বাড়ির দক্ষিণ দিকের পুকুর, পুকুরে অনেকগুলো শাপলা ফুল ফুটে আছে। তার মধ্যে একটি শাপলা ফুটেছে লাল। সেই লাল শাপলাটির নিচে, পানির তলায় সোনার ডেক। তাতে কাঁড়ি কাঁড়ি সোনার মোহর। ঘুম থেকে তুই জাগবি, আজানের ঠিক আগে। কেউ যেন না দেখে, … বিস্তারিত পড়ুন

আমার গল্প—– কৌস্তভ ভট্টাচার্য

অফিসে কার্ড পাঞ্চিং মেশিনটা রোজ যখন বিপ বিপ শব্দ করে কার্ডটা পাঞ্চ করলে – মনে হয় একটা টাইমবোমার দিকে হাত এগিয়ে দিচ্ছি। আজকাল সব সিগারেট খুব পানসে লাগে। নেশাদের বয়েস বেড়ে যাচ্ছে। বাসে সিট না পেলে রোজ রোজ দু’তিনটে যাত্রীকে খুন করে ফেলি-ঘুম ভাংলে দেখি তারা আমার জন্য জায়গা ছেড়ে নিজের নিজের স্টপে নেমে গেল। … বিস্তারিত পড়ুন

বৃষ্টির গন্ধ—- জয়াশীষ ঘোষ

পাড়াগাঁয়ে ঝুপ করে সন্ধ্যে নামে। বাড়ির সামনের বুড়ো আমলকী গাছটায় পাখিগুলো রোজকার মতই ফিরে আসে। পাশে সবিতাদের বাড়িতে শাঁখ বাজার শব্দ শোনা যায়। নুসরত চৌকিতে শুয়ে ছটফট করে। তিনদিন হয়ে গেল জ্বর নামছে না। আম্মি কেন কাছে নেই? অভিমান হয় খুব। জল পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ। মোমবাতির মরে যাওয়া আলোয় একরাশ ভয় চেপে ধরে তের … বিস্তারিত পড়ুন

পুতুলখেলা—- অনিন্দ্য সুন্দর রায়

ষ্টেশন-রোডে আফসারার বাবার একটা বাচ্চাদের খেলনার দোকান আছে। দুবছর আগে ওর মা পড়ে গিয়ে বাঁ-দিকটা যখন প্যারালাইসড হয়ে যায় বাবা অটোটা বেচে দিতে বাধ্য হয়। চিকিৎসায় অনেক খরচ হয়েছিল। প্রাইভেট স্কুলে ক্লাস-টু অ্যানুয়াল পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তার। বাবা লোন নিয়ে দোকানটা দিয়েছে এই মাস-ছয়েক । ‘খোয়াবি খেলনার দোকান’। এ তল্লাটে তেমন কোনো খেলনার দোকান নেই। … বিস্তারিত পড়ুন

পাঠশালা—- শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের বাড়ির পাঁচিলের গায়েই পড়ে-থাকা একটা বড়োসড়ো জমি। সেখানে আগাছার জঙ্গল, মানুষসমান ঝোপঝাড়, একটা ছাতিম আর কয়েকখানা নারকেল গাছ। এছাড়া বড়ো বড়ো কচুপাতা, বিষকাঁটালি আর কন্টিকারির ঝোপ। মাঝে মাঝেই দেখা যায় ঝোপঝাড়ের আড়াল দিয়ে হেঁটে চলেছে বেঁজিদের সারি। ওদের ওই তুর্‌তুর্‌ করে হেঁটে যাওয়া, সন্তর্পণে এদিক-ওদিক তাকানো বেশ লাগে। চলে গেলে মনে হয় ওদের পেরিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্প –— শুভেন্দু ধাড়া

‘‘ আঁধার ছুঁয়ে পুড়ে যাব দীর্ঘতর হওয়ার পূর্বে ঝরে যাব কৃষ্ণচূড়ায় নিমিত্ত অকারণে ধস্ত হতে হতে কিছু অমসৃণ ভগ্নাংশ অতিক্রম করে হাতে নেব আপাদমস্তক পরিহাস তোর অহংকারের’’ মাথার উপর ছাদটা ভেঙ্গে পড়েছে, চড়া রোদ বাধাহীন হয়েই নেমে আসছে, চারিপাশের দেওয়াল মাটি আঁকড়ে পড়ে। এ এক ভূকম্পন , কখন হল ! কিভাবে হল ! কিছুই বোঝা … বিস্তারিত পড়ুন

মাটির পুতুলের হাড়গোড়—– মেহেদী উল্লাহ

কোথাও খুঁজতে বাকি রাখেনি হলদি। রসুই ঘরের পুরনো কাঠের আলমারির পেছনপাশ, শোবার ঘরের তিন চারেক অন্ধকার কোণা, চৌকির নিচে কাগজের ঠোঙ্গার এধার ওধার- সন্দেহের সব জায়গা দেখা শেষ। বারান্দার পায়াভাঙা কাঠের জলচৌকির উপরে বার কয়েক চোখ রাখলো সে। সেখানে নেই, তবু নিজের চোখের সচেতনতা পরখ করে দেখলো হলদি। জায়গাটা নিশানা শূন্য দেখেও ফাঁকির সন্দেহকে নজরবন্দি … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!