ফলকনামা — নির্মাল্য

সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না প্রতুলের। গালভরা নাম হলে কি হবে, পাড়ায় আর পার্টি অফিসে তিনি পুঁটু’দা নামেই বিখ্যাত। কলেজ থেকেই যখন রাজনীতি করছেন, তখনই প্রথম দেওয়াল লিখনে নিজের নাম দেখে চমকে উঠেছিলেন। পুঁটুদা’কে এই চিহ্নে ভোট দিন। “ট” এর টিকি’র ওপর থেকে ধারালো কাস্তে উঁকি মারছে। সিনিয়র নেতাকে পুঁটু নামটা নিয়ে আপত্তি করতেই একসার … বিস্তারিত পড়ুন

কিস্তিমাত — তপোব্রত

কথাটা শুনে দাবার বোর্ড থেকে মুখটা তুলে একবার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখের দিকে তাকালেন আর্থার। চশমার আড়ালে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখগুলো তখন খুশিতে জ্বলজ্বল করছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বোর্ডের দিকেই চোখ ফেরালেন তিনি। কোনো রাস্তা আছে কি কিস্তি বাঁচানোর? বোর্ডের ওপর গুটি বেশি নেই। অনেকক্ষণ ধরে খেলা হচ্ছে তাই বেশিরভাগ গুটিই বোর্ডের বাইরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর্থারের সাদা … বিস্তারিত পড়ুন

সুদীপ একটি ছেলের নাম —- হিজিবিজবিজ

সুদীপ একটি ছেলের নাম। অক্লান্ত জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া কোন এক বাবা-মায়ের হতাশা আর চাওয়া-পাওয়ার বেহিসেবের মাঝে হঠাৎ ভুল করেই হয়তো বা জন্মে যাওয়া একটি ছেলে। দুম্‌ করে চমৎকার কিছু একটা করে ফেলার কথা তার ছিল না। সবাইকে চমকে দিয়ে খবরের শিরোনামে চলে আসার মত কোন ক্ষমতাও ছিল না। হয়ও নি সেরকম কিছু। আর পাঁচটা নিম্নমধ্যবিত্ত … বিস্তারিত পড়ুন

কস্য পরিবেদনা

বেশ তুমুল হৈ হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে শুরু হল মিটিং টা। হঠাৎ এভাবে মিটিং শুরু হওয়াটা ঠিক বোধগম্য না হলেও বেশ কিছু উত্তেজনার বিষয় যে এটা, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছিলো। সমবেত সকল সুধী মণ্ডলীর মধ্যের গুঞ্জন আলাপন সেটাই জানিয়ে দিচ্ছিল। আসন গ্রহণ নিয়ে অল্প বিস্তর মতভেদের পর সকলে কিছুটা শান্ত হতেই সভাপতি তার ঝুঁটিটা ঠিক করে … বিস্তারিত পড়ুন

প্রশ্নবাণ — রোদ্দুর

ভদ্রলোকের পুরো নাম প্রকাশ করতে পারছিনে, দুঃখিত! তিনি হতভাগ্য লেখকের আশেপাশেই থাকেন কিনা, তাই লেখাটি জনগণের ঔদার্যে ভদ্রলোকের গোচরে এলে লেখকের জীবন সংশয় হলেও হতে পারে। তাই ভদ্রলোকের অপার অনন্ত জ্ঞানপিপাসার কথা মাথায় রেখে তাঁকে শ্রীমান প্রশ্নবাণ নামেই সম্বোধন করব। প্রশ্নবাণের সাথে আমার পরিচয় মাস ছয়েক আগে, জানুয়ারি মাস নাগাদ। হঠাৎ শুনি কিনা আমাদের সকলকে … বিস্তারিত পড়ুন

মাংস — তপোব্রত

ছেলেটা মাংস খেতে ভালবাসে। আজকে বলে নয়, সেই ছোটবেলা থেকেই। এখনও মনে আছে, তার রিক্সা-ওয়ালা বাবা বছরের হাতেগোনা যে কটা দিন মাংস নিয়ে আসত সেসব দিনে সকাল থেকেই যেন বাড়িতে উৎসব শুরু হয়ে যেত। সে আর তার দিদি বাড়ির সামনের উঠোনটায় নাচতে শুরু করে দিত, বছরের ওই কটা দিন তাদের রুগ্‌ণা মা হাসি মুখে রান্না … বিস্তারিত পড়ুন

অরণ্যে…- বাণী বসু

আমরা অনেক বন্ধু সে দিন আর এক বন্ধুর বাড়িতে জড়ো হয়েছিলাম। গেট-টুগেদার। কারণ? তেমন কিছু নয়, এমনি। হরলিকসের বিজ্ঞাপনের একটি বাচ্চা মেয়ে বলত না? আমি তো এমনি এমনি খাই। তেমনি আমাদের এমনি এমনি গেট-টুগেদার। জন্মদিন-টিন অনেক হল। এখন জন্মদিন এলেই মৃত্যু-দিনের কথা মনে পড়ে যায়। নিছক আনন্দের জন্য মেলাটাই সত্যিকারের আনন্দ-মেলা। নির্ভার, নির্দায়, নিরঞ্জন। তা … বিস্তারিত পড়ুন

১টা কিনুন, ১০টা নিন—শেখর বসু

ওই বিজ্ঞাপন দেখে যথারীতি জয়িতা দৌড়েছিল। তার দু’ দিন বাদে বিজ্ঞাপনদাতার পক্ষ থেকে একজন লোক এসে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে জয়িতার কেনা আর উপহার পাওয়া জিনিসগুলো খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে বলল: আমাদের পছন্দ হয়েছে। আমাদের কোম্পানির লোক এসে জিনিসগুলো নিয়ে আপনাকে মারুতি দিয়ে যাবে। শুনে জয়িতার সে কী উত্তেজনা! কনসালট্যান্ট প্রসাদ সি পলের কথামতো আমি ওই সময় খুব নিস্পৃহ … বিস্তারিত পড়ুন

ইণ্ডিয়া আর ভারতবর্ষ— সুচিত্রা ভট্টাচার্য

জাতীয় সড়ক ধরে ছুটছিল শৌনকের গাড়িখানা। গতির কাঁটা একশো ছুঁইছুঁই। ব্রেকফাস্ট সেরেই রওনা দিয়েছে চাঁদিপুর থেকে। পথে খানিকটা গোলমেলে অঞ্চল, সেটুকু ঝটপট পেরিয়ে থামবে খড়্গপুর, সেখানে জমিয়ে লাঞ্চ, তার পর বিকেল বিকেল কলকাতা— মোটামুটি এ রকমই ছকা আছে প্ল্যানটা। বাড়ি গিয়ে আর নড়তে-চড়তে ইচ্ছে করবে না, ডিনারটা আনিয়ে নেবে কাছাকাছি কোনও রেস্তোরাঁ থেকে। রাতটুকু বিশ্রাম … বিস্তারিত পড়ুন

মল্লিকা দর্শন— সুচিত্রা ভট্টাচার্য

ছোট্ট একটা ভাতঘুম দিচ্ছিলাম দুপুরবেলায়। কলিংবেলের তীক্ষ্ন চিৎকারে তন্দ্রার দফারফা। এই অসময়ে কে এল রে বাবা? সুরভি তো রুটি-টুটি করতে আসে পাঁচটা নাগাদ, এখন তো সবে সওয়া তিনটে! ঝিমঝিম চোখে দরজা খুলেছি, কোলাপসিবল গেটের ওপারে এক মহিলা। বয়স্কা। প্রায় বৃদ্ধাই বলা যায়, বছর ষাটেক তো হবেই। রোগাসোগা ছোটোখাটো চেহারা, পরনে তাঁতের শাড়ি, চোখে গোলাপি সেলুলয়েড … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!