বন্ধু স্বজন—– ইমদাদুল হক মিলন

ইছাপুরার ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মহাশয়ের দোতলা দালানবাড়ির নিচতলার বারান্দায় বসে গুড়-মুড়ি খাচ্ছে স্বজন। আজ সাত মাস এই বাড়িতে আছে তারা। প্রায়ই গুড়-মুড়ি খাওয়া হয় সকালবেলা। প্রথম প্রথম তেমন সুবিধার লাগেনি। গত কয়েকদিন ধরে জিনিসটা এত পছন্দ হচ্ছে, মনে হচ্ছে নাশতা হিসেবে গুড়-মুড়ির চে উপাদেয় কোনও খাবার পৃথিবীতে নেই। মুঠোভর্তি মুড়ি আর এক কামড় গুড় মুখে দিলে … বিস্তারিত পড়ুন

ট্যাবলেট—–ইরাজ আহমেদ

আ মারে গাঞ্জা আইনা দিতে পারছ? আজমত মিঞার বাড়ির বাইরের বারান্দার একটা ঠুনিতে হেলান দিয়ে হিরু ঝিমাচ্ছে। দুদিন টানা বৃষ্টির পর চারপাশে লাফালাফি করছে রোদ। মাঝে মাঝে হাওয়া এসে নাড়িয়ে দিচ্ছে বড় গাছের মাথাগুলো। হিরুর আম-ঘুম ধরে আসে। আসার সময় বউ আম খেতে দিয়েছিল। বেশ বড় সাইজের ল্যাংড়া। গোটা চারেক পেটে চালান হয়েছে। এখন সেই … বিস্তারিত পড়ুন

তমসকাল— রেজানুর রহমান

বাসায় ঢুকেই গলগল করে বমি করে ফেললেন আবদুল আজিজ। সোমা দরজা খুলে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। আবদুল আজিজকে বাথরুমে বমি করতে দেখে চিৎকার দিল- মা ওমা দেখে যাও। বাবা বমি করতেছে। সুফিয়া রান্নাঘরে কৈ মাছ ভাজছিলেন। মাছের সাইজ দেখে এমনিতেই তার মন খারাপ। পইপই করে বলেছিলেন মাছ যেন দেশী এবং বড় হয়। কে শোনে কার কথা? … বিস্তারিত পড়ুন

সেগুনবাগিচার সন্ধ্যায় কয়েকটি কল্পনা—- আলফ্রেড খোকন

আজ সন্ধ্যার আলো নিভে আসার পরও রহমতুল্লাহ তার বাড়ির বাগানে বসেছিলেন। আঙিনায় একটা মাত্র শিউলি ফুলের গাছ, এই গাছটিকে তিনি নিজের হাতে লাগিয়েছিলেন এবং যত্নে বড় করেছেন। বাগানের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে তিনি এই গাছটিকে লাগিয়েছিলেন। বিকাল উত্তীর্ণ সন্ধ্যায় আজ তাকে কিছুটা বিষণ্ণ এবং আচ্ছন্ন লাগছিল। যে কোনো ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ঘটনার একটা আকস্মিকতা থাকে … বিস্তারিত পড়ুন

গাজী মিয়ার গাড়ি—- শামীম শাহেদ

কারও কোনো ক্ষতি করতে হলে হয় তাকে একটা বিয়ে করিয়ে দিবি, তা না হলে একটা পুরনো গাড়ি কিনে দিবি। মামার বাণীটি এভাবে অমর হয়ে যাবে ভাবতেই পারেনি গাজী মিয়া। পার্টির বড় ভাই একদিন একটা ভাঙা প্রাইভেটকার উপহার দিয়ে বলেছিলেন, গাজী তোমারে দিলাম, চালাও। চালাও আর পার্টির কাজ করো। গাজী মিয়া তো অবাক। গাড়ি! পার্টির কাজ … বিস্তারিত পড়ুন

মন পবনের নাও—- মতিয়ার রহমান পাটোয়ারী

মনটা নাগরদোলার মতো ঘুরতে ঘুরতে এক সময় স্থির হয়ে যায়। তখন তার কল্পনার রেশটুকু আর থাকে না। কাদা-মাটি দিয়ে হাঁটার পালা চলে। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় তার ক্লান্তি এসে যায়। কয়েকদিন ধরে এমনটা হচ্ছে। কেন হচ্ছে, বুঝতে বাকি থাকে না মারিয়ামের। তার এ ভজঘট শুরু হয়েছে হাবিব দুদিন ফোন করাতে। মোবাইল নাম্বার তিনি কি করে … বিস্তারিত পড়ুন

অধরা মাধুরী—- কাজল ঘোষ

স্বপ্নেরা নাকি স্বপ্নেই থাকে। এটা যেমন একটা কথা। আবার স্বপ্নেরা জাগায়। ঘুম ভাঙায়, এটও একটা কথা। স্বপ্ন দেখা অনেক বেশি জরুরি। নাশতার টেবিলে এটাই বারবার আওড়াচ্ছে আবীর। পত্রিকায় চোখ বুলাতে বুলাতে মনে পড়লো ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে। ছোট একটা চাকরি। তাতে কি? সময় বেঁধে ছুটতে হয়। তবুও ভালো যে, অফিসে স্যুট-টাই পড়ার বাধা-ধরা নিয়ম নেই। … বিস্তারিত পড়ুন

ফড়ে—— অরুণ কুমার বিশ্বাস

মাছের বাণিজ্য ফরিদের। ঠিক জেলে নয়, তবে তার কাজ সব জেলেদের সাথেই। নিজ হাতে মাছ ধরে না ফরিদ, বরং ধরায়। দাদন হিসেবে টাকা ধার দেয় ছাপোষা জেলেকে। সেই টাকা নিয়ে ফিবছর জাল, নৌকো, অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনে ওরা। তারপর ভরা মওসুমে মাছের খোঁজে নামে দাদনকারী জেলেরা। ফরিদ লোক মন্দ নয়, তবে তার কাজেকামে কিছু চালিয়াতি … বিস্তারিত পড়ুন

তপু —– রেজাউল হাসান

মো মোরসালিন তখন ২২ বছরের যুবক। বি.কম পাস করে এলেঙ্গা হাইস্কুলে বাণিজ্যের শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছে। এখানেও ওর বাবার পরিচয়টা বেশ কাজে দিয়েছিল। ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান আকবর মিয়া ছিলেন ওর বাবার বন্ধু। তিনি খবর পেয়েছিলেন সয়ার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ নজরুল মাস্টারের ছেলে সেকেন্ডডিভিশন পেয়ে বি.কম পাস করেছে। আকবর মিয়া নিজেই সাইকেল চালিয়ে সয়ায় গিয়ে মোরসালিনের সঙ্গে দেখা … বিস্তারিত পড়ুন

সূর্যাস্তপ্রেমী—– চন্দন আনোয়ার

মা ঝারি গড়নের তিরিশ-বত্রিশ বছর বয়সের মেয়েমানুষটিকে যে কয়দিন দেখেছি, প্রতিদিনই দেখেছি লাল রঙের একটি ম্যাক্সি পরিহিত। কালো লম্বা চুলগুলি আলগোছে পড়ে থাকে পিঠের উপরে। সূর্যাস্তের কয়েক মুহূর্ত আগে দেহকে সরল রেখার মতো সোজা করে দাঁড়ায় দোতালার বারান্দা। মাথাটা উঁচিয়ে অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। তখন মাথার মধ্যখানের সিঁথির রেখাটাও স্পষ্ট দেখা যায়। সায়ংকালের লাল … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!