হাত ঘড়ি—-এস ইলিয়াস বাবর

রিহানের এরকম চেহারা আর কখনো দেখিনি। আমাদের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় এক যুগেরও বেশি। ওর ভাবনা বিলাস, জীবন যাপন, রুটিন ওয়ার্ক সবই আমার জানা। বলা চলে বন্ধুত্বের খাতিরে তার একান্ত অলিগলিতেও আমার অবাধ বিচরণ। সেও আমাকে চিনে অর্থাৎ আমরা পরস্পরকে জানি। বিশ্বাস আর বন্ধুত্বের দাবীতে আমরা কত কিছুই করেছি! থমথমে পুকুরে ঢেউ খেলানোর জন্য ঢিল ছুঁড়ে … বিস্তারিত পড়ুন

আত্মীয়—- সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

আলী হায়দার সাহেবকে গ্রামের একটা প্রবাদ শোনাতেই খুব জোরে হেসে উঠলেন। বলতে কী, এরকম জোরদার প্রতিক্রিয়ার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। সে জন্য ঠোঁট একটুখানি আড়ষ্ট হল, হাসিও আড়ষ্ট হয়ে পড়ল। শুধু মুখের ভুগোলে কিছু কুঞ্চন জাগল। আমি বলেছিলাম, স্যার, আমার গ্রামের লোক বলে, সৈয়দকে বাড়ি চেনাবেন না, চেনালে খবর আছে। আলী হায়দার ১৯৫৪ সাল … বিস্তারিত পড়ুন

বাবা, এক সাইজ বড় জুতা নিয়া আমি কোথায় যাবো?

তখন আমার বয়স কত? মনে নাই। আমার ভাইয়ের বয়স? তাও না। তাহলে কি মনে আছে? সেইটা ভাইবা দেখা যাইতে পারে। তখন গুলিস্তানে যাওয়ার পথে জয়কালি মন্দির হাতের বামে ফালায় আগাইলে একটা রহস্যময় মার্কেট চোখে পড়ত। যেখানকার বেশিরভাগ দোকান নির্মিয়মান। আরো একটু আগাইলে কালো কালো বাক্স নিয়া কিছু লোক খাড়ায়া থাকত। কারা যেন সেই বাক্সে মাথা … বিস্তারিত পড়ুন

যাত্রা পথে — বুড়ো আংলা

মনে আছে আমায়? হ্যাঁ, আমি সেই জনগণেরই একজন, যাকে এই বিশাল মহানগরীর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে দৈনন্দিন যাতায়াত করতে হয়। Yes, I am one of the ‘mango people’। এই দৈনন্দিন যাত্রা প্রসঙ্গেই আজ এই লেখা। প্রতিদিন অকুস্থলে পৌঁছানোর বিষম তাগিদে বহুপূর্বেই সুখনিদ্রার মায়া ত্যাগ করে ভোররাত্রিতেই আমাকে উঠতে হয়। না না, ভাববেন … বিস্তারিত পড়ুন

মদ ও মাতালের গল্প

মদ জিনিসটাকে কে ষড়রিপুর তালিকায় যুক্ত করেছিল জানিনা, তবে সেই তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলেই মনে হয় বেচারা কোনোদিন বাঙালির গৃহস্থজীবনে কল্কে পেলনা, একেবারে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়েই রয়ে গেল। মদ সম্পর্কে ধ্যানধারণাগুলোও বেশ একপেশে – খারাপ ছেলেমেয়েরাই মদ খায়, মদ খাওয়া মানেই বখে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক অভিভাবকদের এও বলতে শুনেছি যে যারা মদ খায়, তাদের তাঁরা ঘৃণা … বিস্তারিত পড়ুন

দাসুর সংসার — শর্মিষ্ঠা দে

নেকদিন পরে আজ ভাতের থালায় মাছ পেয়ে আনন্দে চোখটা চকচক করে উঠল দাশুর। আজ কমলি মাছ নিয়ে এসেছে ফেরার পথে। কারখানার চাকরীটা চলে যাবার পর থেকে ভালো করে দুবেলা ভাত জোটানোই দায় হয়ে উঠেছে,মাছ তো অনেক পরের ব্যাপার। অনেকদিন তো শুধু নুন দিয়ে মেখেই ভাত খেয়ে নেয় দাশু। মাত্র পাঁচ বছর আগে অবধিও এই হাল … বিস্তারিত পড়ুন

ছিল, নেই, মাত্র এই — সুনন্দ

‘-“এই, এই! ওটা কি হচ্ছে!” -“অ্যাই কে আছিস, শিগগির ওকে এখান থেকে নিয়ে যা!” এরকম আরও অসংখ্য চেঁচামেচি, স্টেজের চড়া আলো, উইংসের দু’পাশ থেকে তটস্থ লোকজনের ধেয়ে আসা- এ সব কিছুই ছেলেটাকে দমাতে পারেনি। আপন মনের আনন্দে উদ্দাম নেচে চলেছিল একটানা। বি.দে. হলের বিরাট, পুরনো স্টেজ। সামনের দিকে একটু উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর পাতা শতরঞ্চির ওপরে … বিস্তারিত পড়ুন

অধরা মাধুরী—- কাজল ঘোষ

স্বপ্নেরা নাকি স্বপ্নেই থাকে। এটা যেমন একটা কথা। আবার স্বপ্নেরা জাগায়। ঘুম ভাঙায়, এটও একটা কথা। স্বপ্ন দেখা অনেক বেশি জরুরি। নাশতার টেবিলে এটাই বারবার আওড়াচ্ছে আবীর। পত্রিকায় চোখ বুলাতে বুলাতে মনে পড়লো ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে। ছোট একটা চাকরি। তাতে কি? সময় বেঁধে ছুটতে হয়। তবুও ভালো যে, অফিসে স্যুট-টাই পড়ার বাধা-ধরা নিয়ম নেই। … বিস্তারিত পড়ুন

ফড়ে—— অরুণ কুমার বিশ্বাস

মাছের বাণিজ্য ফরিদের। ঠিক জেলে নয়, তবে তার কাজ সব জেলেদের সাথেই। নিজ হাতে মাছ ধরে না ফরিদ, বরং ধরায়। দাদন হিসেবে টাকা ধার দেয় ছাপোষা জেলেকে। সেই টাকা নিয়ে ফিবছর জাল, নৌকো, অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনে ওরা। তারপর ভরা মওসুমে মাছের খোঁজে নামে দাদনকারী জেলেরা। ফরিদ লোক মন্দ নয়, তবে তার কাজেকামে কিছু চালিয়াতি … বিস্তারিত পড়ুন

তপু —– রেজাউল হাসান

মো মোরসালিন তখন ২২ বছরের যুবক। বি.কম পাস করে এলেঙ্গা হাইস্কুলে বাণিজ্যের শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছে। এখানেও ওর বাবার পরিচয়টা বেশ কাজে দিয়েছিল। ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান আকবর মিয়া ছিলেন ওর বাবার বন্ধু। তিনি খবর পেয়েছিলেন সয়ার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ নজরুল মাস্টারের ছেলে সেকেন্ডডিভিশন পেয়ে বি.কম পাস করেছে। আকবর মিয়া নিজেই সাইকেল চালিয়ে সয়ায় গিয়ে মোরসালিনের সঙ্গে দেখা … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!