দেহতরী—– মণীশ রায়

কার বিয়ে হচ্ছে আজ? শীতের ঘোলা আকাশজুড়ে কে ছড়াচ্ছে রঙিন আতশবাজির ফুলকি? কার মনে এতো আনন্দ? অথচ পাশের ঘর থেকে একটু পরপর ভেসে আসছে মায়ের কণ্ঠের বিলাপধ্বনি। অমিয় বুঝতে পারে না, এসব বিলাপ কিংবা কান্নাগুলো সত্যি সত্যি হৃদয়-নিংড়ানো কিনা। ওর মা পরমা কি সত্যি সত্যি ভালোবাসতেন ওর বাবাকে? সে খাটের পাখনার ওপর উঁচু করে বালিশ … বিস্তারিত পড়ুন

স্কুলের ছুটিতে দু’জনে

হাবলু চল মাছ মারতি যাই। প্রস্তাব ছুঁড়ে দেয় আলাল। কথাটা মন্দ না। আজতো শুক্রবার ইস্কুল ছুটি অতএব যাওয়া যায়। চল যাই। আলালের সাথে করে কেঁচো খুঁড়তে বেরোয় দুজন। মাছের প্রিয় হলো লাল কেঁচো। দেখতে ভাল হতে হবে। না হলে তিঁনিরা খাননা। এমনিতেই আলালের সাথে মাছ ধরে পারেনা হাবলু। এর জন্য খুবই কষ্ট হয় হাবলু’র। কারণ … বিস্তারিত পড়ুন

কষ্মিন কালের কথা

আমি বেশ কয়েকবার বাড়ী থেকে পালিয়েছি। বাড়ী থেকে পালানোটা আমার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর মনে হতো। আমি ব্যপারটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতাম। আমি খুব ছোট বেলা থেকে বাড়ী পালানো শুরু করেছি। প্রথম প্রথম ছোট খাট পালানো পালাতাম। যেমন আব্বুর ভয়ে আসরের দিকে আমি আর নেই। সবাই খোঁজাখুজি শুরু। আর আমি সেটা দেখে বেশ পজা পেতাম। তখন … বিস্তারিত পড়ুন

মাকড়সা—- আবু রাশেদ পলাশ

অন্তু এখন যেখানে থাকে সেটি পুরনো কংক্রিটের তৈরি একতলা ঘর । পরিত্যক্ত,অপরিচ্ছন্ন আর আপাদমস্তক শেওলা ধরা । চারপাশে শাল-কড়ইয়ের সুবিস্তৃত অরণ্য ।আশেপাশে জনবসতির চিহ্ন দেখা অমাবস্যায় চাঁদ দেখার মত দুরূহ এখানে । একাকি জীবনে এখানে মাঝেমাঝেই কিছু অপরিচিত মুখশ্রী চোখে ভাসে ওর । কে জানে কত বছর আগে এখানে কারো পদচিহ্ন পড়েছিল । অথবা কোন … বিস্তারিত পড়ুন

মূল্যবোধ —শকাত উজ্জ্বল

কাঁটাবনের রাস্তা ধরে রিকশায় চড়ে যাচ্ছে শাওন ও আনিস। উফ্‌, কী বিশাল যানজট রে বাবা! একজন আরেকজনের দিকে বিরক্তির চোখে তাকাল, আরেকবার রাস্তার দিকে। যে জ্যাম, বসে থাকলে একঘণ্টায়ও যাওয়া যাবে কি না সন্দেহ! এই মামা,আমাদেরকে সাইড করে নামিয়ে দাও তো! রিকশা ছেড়ে হনহন করে হাঁটতে লাগল। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘড়ির কাঁটা তখন রাত … বিস্তারিত পড়ুন

অস্ফুট আর্তি—- আবু রাশেদ পলাশ

মিয়া বাড়ির মসজিদে ফজরের আযান ধ্বনিত হলে নিশিতে নিদ্রিত মানুষগুলোর নিদ্রা ভাঙে । রাতের গায়ে জোছনা শোভিত অন্ধকার তখন আরেকটি নতুন প্রভাতের ডাক শুনে দিনের আলোয় মুখ লোকায় । গেরস্ত বাড়ির মোরগটাও নিদ্রা ভাঙার গান জুড়ে এ সময় । শব্দ শুনে ঘুম কাতর শিশুগুলোকে মায়েরা ঠেলা দিয়ে তুলে দেয় । আধো ঘুমে ঢল ঢল শিশুগুলো … বিস্তারিত পড়ুন

মধ্যরাতের সাইরেণ–হাসান মেহেদী

গোয়াইনঘাটের আবহাওয়ার সাথে আসাদ এখনও খাঁপ খাওয়াতে পারেনি। হুটহাট করে বৃষ্টি নামে। বিকেলে থেকে একটানা বৃষ্টি। মুষল ধারে বৃষ্টি। অথচ প্রতিদিনের মত আজ আসাদের ছাব্বিশ বছরের জন্মদিনটিও শুরু হয়েছে বিরক্তিকর ভাবে। সিলেট গোয়াইনঘাটের শ্যাওলা ধরা এক পুরোনো বাড়ির দোতলায় সকাল আটটায় তার ঘুম ভেঙে গিয়েছে হঠাৎ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বেশ গরম পড়ছিল। জানালার বাহিরে প্রখর … বিস্তারিত পড়ুন

মৃত্যুময় এ-জীবনে—- ইকবাল আজিজ

এখন এই বৃদ্ধ বয়সে অধ্যাপক মাসুদ যে-শহরে এসেছেন, সেখানে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। এ-শহরের পুরনো নড়বড়ে বাড়িঘর, আঁকাবাঁকা রাস্তা, গলি, স্টেশন, সদর হাসপাতাল, সিনেমাহল, সোনাদীঘির মোড় – এসব স্থির হয়ে আছে তার মনে সেই কবে থেকে। তবে শহরের সমাজজীবনের বাইরের দিকটা অনেক বদলে গেছে। শৈশবে তিনি এ-শহরে যে-লোকটিকে দেখেছিলেন ঘোড়ার গাড়ি টমটম চালাতে – … বিস্তারিত পড়ুন

ভুলের দাগটা —- পলাশ পাত্র

থানায় মেসেজ আসার পর বিভিন্ন জায়গার মানুষ কল্যাণীর মর্গে এসেছে। মুখে কোপ, চোখ খুবলানো, অর্ধেক মাথা কোপানো দেহগুলো দেখে শিউরে ওঠার মতো অবস্থা। নোংরা ময়লা ভরা। কারো-বা রক্তাক্ত মুখ-চোখে কাদাভর্তি। অন্যগুলোর মতো নাক-ঠোঁটফাটা দেহটা দেখেও সকলে একই আচরণ করল। সবংয়ের সুমিতা দেহটার কাছে গিয়ে স্থির হয়ে গেল। মর্গের ভেতর শায়িত লাশগুলো থেকে উৎকট গন্ধ নাকে … বিস্তারিত পড়ুন

বেলি—- ফাবিহা ফেরদৌস

সে অনেক দিন আগের কথা, সোনারগাঁ নামে একটি জায়গা ছিল। সেই জায়গায় ছিল একটি বিরাট বড় রাজপ্রাসাদ। সেই রাজপ্রাসাদে ছিল রাজা, রানী এবং তাদের রাজকন্যা বেলি। বেলি ছিল ফুটফুটে ফর্সা ও সুন্দর। তাদের প্রাসাদের সামনে ছিল অনেক বড় বাগান। বাগানে সারাক্ষণ প্রজাপতি জড়ো হয়ে থাকত, পাখি গাইত। বেলির জš§দিন এলো। রাজা ও রানী তাকে একটি … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!