হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–৯ম অংশ

  নীতুর একটি চিঠি এসেছে। নীতুর স্বভাবও দেখা যাচ্ছে ইয়াদের মতো। চিঠি পাঠিয়েছে ইংরেজিতে টাইপ করে। ডাকে পাঠায়নি, হাতে-হাতে পাঠিয়েছে। নীতুর ম্যানেজার চিঠি নিয়ে এসেছে। তার উপর নির্দেশ, চিঠি আমার হাতে দিয়ে অপেক্ষা করবে এবং জবাব নিয়ে যাবে। বড়লোকের ম্যানেজার শ্রেণীর কর্মচারীরা নিজের প্রভু ছাড়া সবার উপর বিরক্ত হয়ে থাকে। এই ভদ্রলোককে দেখলাম মহা বিরক্ত। … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–১০ তম অংশ

রাত এগারোটায় ইয়াদের সন্ধ্যানে বের হলাম।   ইয়াদ থাকে মীরপুর দশ নম্বরে, সিঅ্যান্ডবি গুদামে। গুদামের ভেতর গাদাগাদি করে রাখা রাস্তার কালভার্টের সিরামিক স্ল্যাব। দেখতে বিশাল আকৃতির সিলিন্ডারের মতো। তার একটিতে ইয়াদের সংসার। বাইরে থেকে ইয়াদ বলে ডাকতেই সে খুশি-খুলি গলায় বলল, চলে আয়। মাথা নিচু করে ঢুকবি। দাঁড়া এক সেকেণ্ড, বাতি জ্বালাই। সে কুপি জ্বালল। … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–১১ তম অংশ

  রূপার চিঠি এসেছে। কী অবহেলায় খামটা মেঝেতে পড়ে আছে। আরেকটু হলে চিঠির উপর পা দিয়ে দাঁড়াতোম। খাম খুলে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললাম—এতবড় কাগজে একটি মাত্র লাইন, তুমি কেমন আছ? নাম সই করেনি, তারিখ দেয়নি। চিঠি কোথেকে লেখা তাও জানার উপায় নেই। শুধু একটি বাক্য—তুমি কেমন আছ? প্রশ্নবোধক চিহ্নটি শাদা কাগজে কী কোমল ভঙ্গিতে আঁকা হয়েছে। আমি … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–১২ তম অংশ

  ইয়াদের বাড়ি সব সময় আলোয় ঝলমল করে। সন্ধ্যার পর থেকেই এরা বোধহয় সব ক’টা বাতি জ্বালিয়ে রাখে। আজ ওদের বাড়ি অন্ধকার। গেট থেকে গাড়ি-বারান্দা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের বাতিগুলো পর্যন্ত নেভানো। শুধু বারান্দায় বাতি জ্বলছে। আমি গেটের দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, ‍কেউ নেই নাকি?   ‘আপা আছেন।’ ‘কুকুর দু’টা কোথায়—টুটি-ফুটি?’ ‘ওরা বান্ধা আছে। ভয় নাই, যান।’ … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–১৩ তম অংশ

  আমি বাস করছি অন্ধকারে এবং আলোয়। চেতন এবং অবচেতন জগতের মাঝামাঝি। Twilight zon. আমার চারপাশের জগৎ অস্পষ্ট। আমি কি বেঁচে আছি? আমাকে ঘিরে অনেক লোকের ভিড় । এটা কি কোনো হাসপাতাল? আমার কোনো ক্ষুধাবোধ নেই, কিন্তু প্রবল তৃষ্ণা । পানি পানি বলে চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে। চিৎকার করতে পারছি না। স্বপ্ন ও সত্য একাকার … বিস্তারিত পড়ুন

ছোটগল্প (সাইকোলজিকল):: আইসক্রীম

১ নামঃআবুল হাসান। দরিদ্র কৃষকের সন্তান। কিন্তু গরীব বলে তার নামের বিকৃতি ও বড় ধরনের। কেউ ঢাকে আবু, কেউবা আবুল্লা। আবার ঝগড়া লাগলে তা কথায় নেই তখন হয়ে যায় আবাল।এই বিকৃত নাম গুলোই যেন তাকে চোখে অাঙুল দিয়ে বলে তুমি গরীব, তোমার সুন্দর নাম হতে পারে না।কিন্তু আবুলেরও যেন এসব নাম সহে গেছে। তাই তো … বিস্তারিত পড়ুন

মায়ের মন — .গল্প

জ্বী বলুন! জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম আগন্তুকের দিকে। ডক্টরস কেন্টিনে বসে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় এক ভদ্রলোক সামনে কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। ‘ডক্টর মারুফ হাসান কল্লোল?’- নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন ভদ্রলোক। ‘হ্যাঁ, বলুন কী করতে পারি আপনার জন্য!’ আমি ছাইফুল ইসলাম। আপনিই মনে হয় আমার মা’র চিকিৎসার দেখাশোনা করতেন বৃদ্ধাশ্রমে। তার ডেথ সার্টিফিকেটও আপনিই … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–২য় অংশ

ঘরের ভেতর দু’টা চিঠি। একটির খাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে রুপার কাছে থেকে এসেছে। কার্টিস পেপারে ধবধবে সাদা খাম। খামের এক মাথায় রুপালি কালিতে এমবস করা রুপার নাম। সাদার উপর রুপালি ফোটে না, তবুও এটাই রুপার স্টাইল। অন্য চিঠিটি ব্রাউন কাগজের। ঠিকানা ইংরেজিতে টাইপ করা। দু’টা চিঠির কোনোটিতেই স্ট্যাম্প নেই—হাতে হাতে পৌছে দেয়া। আমি রুপার চিঠি … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–৩য় অংশ

  ধুম-ধুম করে দরজায় কিল পড়ছে। আমি ঘুমের ঘোরে বললাম, কে? কেউ জবাব দিল না। দরজায় শব্দ হতে থাকল। আমার সমস্যা হচ্ছে—শীতের ভোরে একবার লেপের ভেতর থেকে বের হলে আবার ঢুকতে পারি না। এখনো ঠিকমতো ভোর হয়নি—চারদিক আঁধার হয়ে আছে। কাঁচের জানালায় গাঢ় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এত ভোরে আমার কাছে আসার মতো কে আছে ভাবতে-ভাবতে … বিস্তারিত পড়ুন

হিমু : হুমায়ুন আহমেদ–চতুর্থ অংশ

বড় রাস্তার ফুটপাতে উবু হয়ে বসে বয়স্ক এক ভদ্রলোক ঠোঙ্গা থেকে বাদাম নিয়ে নিয়ে খাচ্ছেন। খাওয়ার ব্যাপারটায় বেশ আয়োজন আছে। খোসা থেকে বাদাম ছড়ানো হয়। খোসাগুলি রাখা হয় সামনে। ভদ্রলোক অনেকক্ষণ বাদামে ফুঁ দিতে থাকেন। ফুঁয়ের কারণে বাদামের গায়ে লেগে থাকা লাল খোসা উড়ে যায়। তখন তিনি অনেক উপর থেকে একটা একটা করে বাদাম তাঁর … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!