হারানো নদীর স্রোত-২য় অংশ

আমার বাবা মুকুন্দ পালের বয়স এখন নব্বই-এর কাছাকাছি বোধহয়। আজ থেকে পঞ্চাশ বছরেরও আগে স্বাধীনতা-দেশভাগের ক’বছর বাদে এই পালমশাই তাঁর স্ত্রী কন্যা ও বাবা মাকে নিয়ে এই বাসাবাড়িতে মাথা গুঁজেছিলেন। আমি তখন মায়ের কোলে। আমার এখন মনে হয় আমি যেন অনাথ বিশ্বাস বাই-লেনেই জন্মেছি। অনাথ বিশ্বাস বাই-লেন ছাড়া আমার আর তো কোন স্মৃতি নেই। আমার … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-৩য় অংশ

  বাবা বললেন, তুই দ্যাখ ফ্ল্যাট, আমি এখানেই থেকে যাই। তুমি থেকে যাবে, আমি চলে যাব? না, না তা কেন, যে বিলই আসুক, আমি তো থাকতে পারবই যতদিন বেঁচে থাকব। একদিন রীনা বলল, বাবা কেন অন্য জায়গায় বাড়িঘরদোর করেননি? কথাটা মা’র কানে গেল। মা বলল, উপায় ছিল না। সবাই তো করেছে মা, ওদিকে গড়িয়া, বাঘা … বিস্তারিত পড়ুন

দুই বোন– নীরদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ব্যাঙ্কে-জমা টাকায় সওয়ার হয়ে এ পরিবারের সমৃদ্ধি যে সময়টাতে ছুটে চলেছে ছয় সংখ্যার অঙ্কের দিকে সেই সময়ে শর্মিলাকে ধরল দুর্বোধ কোন্-এক রোগে, ওঠবার শক্তি রইল না। এ নিয়ে কেন যে দুর্ভাবনা সে কথাটা বিবৃত করা দরকার। রাজারামবাবু ছিলেন শর্মিলার বাপ। বরিশাল অঞ্চলে এবং গঙ্গার মোহনার কাছে তাঁর অনেকগুলি মস্ত জমিদারি। তা ছাড়া জাহাজ-তৈরির ব্যবসায়ে তাঁর … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–সাতচল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  অন্নপূর্ণা কাশী হইতে ফিরিয়া আসিয়া অতি ধীরে ধীরে রাজলক্ষ্মীর ঘরে প্রবেশ করিয়া প্রণামপূর্বক তাঁহার পায়ের ধুলা মাথায় তুলিয়া লইলেন। মাঝখানের বিরোধবিচ্ছেদ সত্ত্বেও অন্নপূর্ণাকে দেখিয়া রাজলক্ষ্মী যেন হারানো ধন ফিরিয়া পাইলেন। ভিতরে ভিতরে তিনি যে নিজের অলক্ষ্যে অগোচরে অন্নপূর্ণাকে চাহিতেছিলেন, অন্নপূর্ণাকে পাইয়া তাহা বুঝিতে পারিলেন। তাঁহার এতদিনের অনেক শ্রান্তি অনেক ক্ষোভ যে কেবল অন্নপূর্ণার অভাবে, … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–আটচল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  বিহারী যখন পশ্চিমে ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল, তখন তাহার মনে হইল, একটা-কোনো কাজে নিজেকে আবদ্ধ না করিলে তাহার আর শান্তি নাই। সেই মনে করিয়া কলিকাতার দরিদ্র কেরানিদের চিকিৎসা ও শুশ্রূষার ভার সে গ্রহণ করিয়াছে। গ্রীষ্মকালের ডোবার মাছ যেমন অল্পজল পাঁকের মধ্যে কোনোমতে শীর্ণ হইয়া খাবি খাইয়া থাকে, গলি-নিবাসী অল্পাশী পরিবারভারগ্রস্ত কেরানির বঞ্চিত জীবন সেইরূপ– সেই বিবর্ণ … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–পঞ্চান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  রাজলক্ষ্মীর মৃত্যু হইলে পর শ্রাদ্ধশেষে মহেন্দ্র কহিল, “ ভাই বিহারী, আমি ডাক্তারি জানি– তুমি যে-কাজ আরম্ভ করিয়াছ, আমাকেও তাহার মধ্যে নাও। চুনি যেরূপ গৃহিণী হইয়াছে সেও তোমার অনেক সহায়তা করিতে পারিবে। আমরা সকলে সেইখানেই থাকিব।” বিহারী কহিল, “মহিনদা, ভালো করিয়া ভাবিয়া দেখো– এ কাজ কি বরাবর তোমার ভালো লাগিবে? বৈরাগ্যের ক্ষণিক উচ্ছ্বাসের মুখে একটা … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–ত্রিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আশা একদিন অন্নপূর্ণাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আচ্ছা মাসিমা, মেসোমশায়কে তোমার মনে পড়ে?” অন্নপূর্ণা কহিলেন, “আমি এগারো বৎসর বয়সে বিধবা হইয়াছি, স্বামীর মূর্তি ছায়ার মতো মনে হয়।” আশা জিজ্ঞাসা করিল, “মাসি, তবে তুমি কাহার কথা ভাব।” অন্নপূর্ণা ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন, “আমার স্বামী এখন যাঁহার মধ্যে আছেন, সেই ভগবানের কথা ভাবি।” আশা কহিল, “তাহাতে তুমি সুখ পাও?” অন্নপূর্ণা … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–একত্রিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আশা ফিরিয়া আসিল। বিনোদিনী তাহার ’পরে খুব অভিমান করিল– “বালি, এতদিন বিদেশে রহিলে, একখানা চিঠি লিখিতে নাই?” আশা কহিল, “তুমিই কোন্‌ লিখিলে ভাই, বালি।” বিনোদিনী। আমি কেন প্রথমে লিখিব। তোমারই তো লিখিবার কথা। আশা বিনোদিনীর গলা জড়াইয়া ধরিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করিয়া লইল। কহিল, “জান তো ভাই, আমি ভালো লিখিতে জানি না। বিশেষ, তোমার মতো … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–তেত্রিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  পরদিন প্রত্যুষ হইতে ঘনঘটা করিয়া আছে। কিছুকাল অসহ্য উত্তাপের পর স্নিগ্ধশ্যামল মেঘে দগ্ধ আকাশ জুড়াইয়া গেল। আজ মহেন্দ্র সময় হইবার পূর্বেই কালেজে গেছে। তাহার ছাড়া-কাপড়গুলা মেঝের উপর পড়িয়া। আশা মহেন্দ্রের ময়লা কাপড় গনিয়া গনিয়া, তাহার হিসাব রাখিয়া ধোবাকে বুঝাইয়া দিতেছে। মহেন্দ্র স্বভাবত ভোলামন অসাবধান লোক; এইজন্য আশার প্রতি তাহার অনুরোধ ছিল ধোবার বাড়ি দিবার … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–ঊনচল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  পাড়ায় ভারি একটা গোলমাল পড়িয়া গেল। পল্লীবৃদ্ধেরা চণ্ডীমণ্ডপে বসিয়া কহিল, “এ কখনোই সহ্য করা যাইতে পারে না। কলিকাতায় কী ঘটিতেছিল, তাহা কানে না তুলিলেও চলিত, কিন্তু এমন সাহস যে মহেন্দ্রকে চিঠির উপর চিঠি লিখিয়া পাড়ায় আনিয়া এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জতা ! এরূপ ভ্রষ্টাকে গ্রামে রাখিলে তো চলিবে না।” বিনোদিনী আজ নিশ্চয় আশা করিয়াছিল, বিহারীর পত্রের … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!