যোগাযোগ–১৩তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অঘ্রান মাসে বিয়ে। পঁচিশে আশ্বিন লক্ষ্মীপুজো হয়ে গেল। হঠাৎ সাতাশে আশ্বিনে তাঁবু ও নানাপ্রকার সাজসরঞ্জাম নিয়ে ঘোষাল-কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওভারসিয়র এসে উপস্থিত, সঙ্গে একদল পশ্চিমি মজুর। ব্যাপারখানা কী? শেয়াকুলিতে ঘোষালদিঘির ধারে তাঁবু গেড়ে বর ও বরযাত্রীরা কিছুদিন আগে থাকতেই সেখানে এসে উঠবেন। এ কী রকম কথা? বিপ্রদাস বললে, “তাঁরা যতজন খুশি আসুন, যতদিন খুশি থাকুন, … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–১৫তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  বিপ্রদাস নবগোপালকে ডেকে বললে, “নবু, আড়ম্বরে পাল্লা দেবার চেষ্টা— ওটা ইতরের কাজ।” নবগোপাল বললে, “চতুর্মুখ তাঁর পা ঝাড়া দিয়েই বেশি মানুষ গড়েছেন; চারটে মুখ কেবল বড়ো বড়ো কথা বলবার জন্যেই। সাড়ে পনেরো-আনা লোক যে ইতর, তাদের কাছে সম্মান রাখতে হলে ইতরের রাস্তাই ধরতে হয়।” বিপ্রদাস বললে, “তাতেও তুমি পেরে উঠবে না। তার চেয়ে সাত্ত্বিকভাবে … বিস্তারিত পড়ুন

দুই বোন– ঊর্মিমালা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুই বোন

নীরদ রিসার্চের যে কাজ নিয়েছিল সেটা সমাপ্ত হল। য়ুরোপের কোনো বৈজ্ঞানিক – সমাজে লেখাটা পাঠিয়ে দিলে। তারা প্রশংসা করলে, তার সঙ্গে সঙ্গে একটা স্কলারশিপ জুটল–স্থির করলে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেবার জন্যে সমুদ্রে পাড়ি দেবে। বিদায় নেবার সময় কোনো করুণ আলাপ হল না। কেবল এই কথাটাই বার বার করে বললে যে, “আমি চলে যাচ্ছি, এখন তোমার … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-৪র্থ অংশ

  বাবা বললেন, তুমি মোজাহারের ছেলে না এজাহারের ছেলে কও দেখি, তোমারে তো দুজনের মতো লাগে, আহা ঠিক যেন এজাহারের মতো হাসি, মোজাহারের মতো তাকানো। বাবার দুচোখ এতক্ষনে জলে ভরে উঠেছে। মায়ের চোখের পলকই যেন পড়ছে না, দেখছেন সিকান্দার আলিকে। সিকান্দার আলি এসেছেন বড়দল থেকে। বড়দল ছিল আমাদের পিতৃভূমি। সিকান্দারের গায়ে নীল আশমানি পাঞ্জাবি, চোখে … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–১ম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  আজ ৭ই আষাঢ়। অবিনাশ ঘোষালের জন্মদিন। বয়স তার হল বত্রিশ। ভোর থেকে আসছে অভিনন্দনের টেলিগ্রাম, আর ফুলের তোড়া। গল্পটার এইখানে আরম্ভ। কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো। এই কাহিনীর পৌরাণিক যুগ সন্ধান করলে দেখা যায়, ঘোষালরা এক সময়ে ছিল সুন্দরবনের দিকে, তার পরে হুগলি জেলায় নুরনগরে। সেটা বাহির … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-পঞ্চম অংশ

বেতনা তাই গেছে, কপোতাক্ষয় তবু পানি আছে, তবে কিনা ভাটার সময় শুখার কালে হাড়পাঁজরা দেখা যায় কপোতাক্ষরও, শুধু চর পড়তেছে। বাবা শুনছিলেন, বিস্ময় প্রকাশ করলেন, এমন হতে পারে, নদী শুকোয়? হ্যাঁ, পানির অভাব খুব, নদী ধুধু বালি। কী সব্বোনাশ, মরে গেল অতবড় নদী? ‘জে’, বলে মাথা নামায় সিকান্দার আলি। কেন এমন হল? বিড়বিড় করে সিকান্দার, … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–২য় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  মধুসূদনের বাপ আনন্দ ঘোষাল রজবপুরের আড়তদারদের মুহুরি। মোটা ভাত মোটা কাপড়ে সংসার চলে। গৃহিণীদের হাতে শাঁখা-খাড়ু, পুরুষদের গলায় রক্ষামন্ত্রের পিতলের মাদুলি আর বেলের আটা দিয়ে মাজা খুব মোটা পইতে। ব্রাক্ষ্মণ-মর্যাদায় প্রমাণ ক্ষীণ হওয়াতে পইতেটা হয়েছিল প্রমাণসই। মফস্বল ইস্কুলে মধুসূদনের প্রথম শিক্ষা। সঙ্গে সঙ্গে অবৈতনিক শিক্ষা ছিল নদীর ধারে, আড়তের প্রাঙ্গণে, পাটের গাঁটের উপর চড়ে … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–৩য় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  এইবার কন্যাপক্ষের কথা। নুরনগরের চাটুজ্যেদের অবস্থা এখন ভালো নয়। ঐশ্বর্যের বাঁধ ভাঙছে। ছয়-আনি শরিকরা বিষয় ভাগ করে বেরিয়ে গেল, এখন তারা বাইরে থেকে লাঠি হাতে দশ-আনির সীমানা খাবলে বেড়াচ্ছে। তা ছাড়া রাধাকান্ত জীউর সেবায়তি অধিকারে দশে-ছয়ে যতই সূক্ষ্মভাবে ভাগ করবার চেষ্টা চলছে, ততই তার শস্য-অংশ স্থূলভাবে উকিল-মোক্তারের আঙিনায় নয়-ছয় হয়ে ছড়িয়ে পড়ল, আমলারাও বঞ্চিত … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট-একত্রিংশ পরিচ্ছেদ– – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উদয়াদিত্যের নৌকা খাল অতিক্রম করিয়া নদীতে গিয়া পৌঁছিল, তখন সীতারাম নৌকা হইতে নামিয়া শহরে ফিরিয়া আসিল। আসিবার সময় যুবরাজের নিকট হইতে তাঁহার তলোয়ারটি চাহিয়া লইল। উদয়াদিত্যের তিনখানি পত্র একটি লোকের হাত দিয়া সীতারাম প্রাসাদে প্রেরণ করিয়াছিল বটে, কিন্তু সে চিঠি কয়খানি কাহারও হাতে দিতে তাহাকে গোপনে বিশেষরূপে নিষেধ করিয়াছিল। নৌকা হইতে প্রাসাদে ফিরিয়া আসিয়া সীতারাম … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-১ম অংশ

অনাথ বিশ্বাস বাই-লেন থেকে বেড়িয়ে বড় রাস্তায় পড়ে হাঁটাপথে গঙ্গা একটুখানি। আমাদের দু’কামরার ফ্ল্যাট থেকেই ছেলেবেলায় লঞ্চের ভোঁ শুনেছি মনে পড়ে। মনে পড়ে মা তখন নিজের বাপের বাড়ির কথা বলত, কপোতাক্ষতীরে কাটিপাড়া ছিল সেই গ্রাম। সেখানেও নাকি ঘরে শুয়ে শোনা যেত শেষ রাতে ডাকা প্রথম লঞ্চের ভোঁ। কী আশ্চর্য এক নদীর কুল থেকে আর এক … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!