যোগাযোগ–৪৫ তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মধুসূদন আপিসে গিয়েই দেখলে খবর ভালো নয়। মাদ্রাজের এক বড়ো ব্যাঙ্ক ফেল করেছে, তাদের সঙ্গে এদের কারবার। তার পরে কানে এল যে, কোনো ডাইরেক্‌টরের তরফ থেকে কোনো কর্মচারী মধুসূদনের অজানিতে খাতাপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছে। এতদিন কেউ মধুসূদনকে সন্দেহ করতে সাহস করে নি, একজন যেই ধরিয়ে দিয়েছে অমনি যেন একটি মন্ত্রশক্তি ছুটে গেল। বড়ো কাজের ছোটো ত্রুটি … বিস্তারিত পড়ুন

পুঁই মাচা-৪র্থ অংশ–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্প

দিন দুই-পরের কথা। সকালে উঠিয়া সহায়হরি উঠানে বাতাবিলেবু গাছের ফাক দিয়া যেটুকু নিতান্ত কচি রাঙা রৌদ্র আসিয়াছিল, তাহারই আতপে বসিয়া আপনমনে তামাক টানিতেছেন। বড়মেয়ে ক্ষেত্তি আসিয়া চুপি চুপি বলিল— বাবা, যাবে না? মা ঘাটে গেল… . সহায়হরি একবার বাড়ির পাশে ঘাটের পথের দিকে কী জানি কেন চাহিয়া দেখিলেন, পরে নিম্নস্বরে বলিলেন—যা শিগগির শাবলখানা নিয়ে আয় … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–১৭তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিয়ের দিন রাজার হুকুম, কনের বাড়ি যাবার পথে ধুমধাম একেবারেই বন্ধ। আলো জ্বলল না, বাজনা বাজল না, সঙ্গে কেবল নিজেদের পুরোহিত, আর দুইজন ভাট। পালকিতে করে নিঃশব্দে বিয়েবাড়িতে বর এল, লোকে হঠাৎ বুঝতেই পারলে না। ও দিকে মধুপুরীর তাঁবুতে আলো জ্বালিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে বিপরীত হৈ হৈ শব্দে বরযাত্রীর দল আহারে আমোদে প্রবৃত্ত। নবগোপাল বুঝলে এটা … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–২২তম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  মধুসূদন যখন কলকাতায় বাস করতে এল, তখন প্রথমে সে একটি পুরোনো বাড়ি কিনেছিল, সেই চকমেলানো বাড়িটাই আজ তার অন্তঃপুর-মহল। তার পরে তারই সামনে এখনকার ফ্যাশানে একটা মস্ত নতুন মহল এরই সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে, সেইটে ওর বৈঠকখানা-বাড়ি। এই দুই মহল যদিও সংলগ্ন তবুও এরা সম্পূর্ণ আলাদা দুই জাত। বাইরের মহলে সর্বত্রই মার্বলের মেজে, তার উপরে … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-৬ষ্ঠ অংশ

  নার্সিং হোমে বাবাকে ভর্তি করে আমি সমস্ত রাত্রি একা একা বসে থাকলাম নীচে রিসেপশনে। ভগ্নিপতি অফিসের কাজে বাইরে, টেলিফোনে বোন ঝুমা কাঁদতে লাগল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। রাত যত বাড়তে লাগল, নার্সিং হোম চুপচাপ হয়ে গেল। ব্যস্ত পায়ে সিস্টারদের চলাফেরা দেখতে দেখতে ঝিমিয়ে পড়তে লাগলাম আমি একা। এখন এই এত রাত্তিরে যদি বাবার কিছু ঘটে যায়, … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদির স্রোত-সপ্তম অংশ।

    ঠাকুরদাস মিত্তির বলল, মুকুন্দদার মাথায় গোলমাল হয়ে গেছে, আমাকে আপনি বলবে কেন, ইংরিজি পড়তে বসে মুকুন্দদার হাতে চড়চাপড়ও খেয়েছি কম না, আমার বাহাত্তর হল। খবর দিল কে? আমি জিজ্ঞেস করেছি। দিল কে? একজন, তার সঙ্গে গোবরডাঙা ষ্টেশনে আলাপ, বিকেলবেলা, সে বাংলাদেশ থেকে আসছে। সিকান্দার আলি? হবে হয়তো, মনে পড়ছে না, খুব লম্বা, যাবে … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-অষ্ঠম অংশ

আমারও যে তেমন মনে হচ্ছে না তা নয়। মনে হচ্ছে আরও অনেক কথা। রীনারও মনে হচ্ছিল অনেক কথা। আমার গলা জড়িয়ে রীনা সেইসব কথা বলে যাচ্ছিল। বলতে বলতে রীনা আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, আমার মনের ভিতরে কোন রোশোনারা আলো জ্বালিয়ে বসে আছে কিনা। আমি যে ইকবালভাইদের কথা জিজ্ঞেস করব সেই সুযোগ দিচ্ছিল না রীনা। শেষের দিকে … বিস্তারিত পড়ুন

দুই বোন– ঊর্মিমালা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুই বোন

নীরদ রিসার্চের যে কাজ নিয়েছিল সেটা সমাপ্ত হল। য়ুরোপের কোনো বৈজ্ঞানিক – সমাজে লেখাটা পাঠিয়ে দিলে। তারা প্রশংসা করলে, তার সঙ্গে সঙ্গে একটা স্কলারশিপ জুটল–স্থির করলে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেবার জন্যে সমুদ্রে পাড়ি দেবে। বিদায় নেবার সময় কোনো করুণ আলাপ হল না। কেবল এই কথাটাই বার বার করে বললে যে, “আমি চলে যাচ্ছি, এখন তোমার … বিস্তারিত পড়ুন

হারানো নদীর স্রোত-৪র্থ অংশ

  বাবা বললেন, তুমি মোজাহারের ছেলে না এজাহারের ছেলে কও দেখি, তোমারে তো দুজনের মতো লাগে, আহা ঠিক যেন এজাহারের মতো হাসি, মোজাহারের মতো তাকানো। বাবার দুচোখ এতক্ষনে জলে ভরে উঠেছে। মায়ের চোখের পলকই যেন পড়ছে না, দেখছেন সিকান্দার আলিকে। সিকান্দার আলি এসেছেন বড়দল থেকে। বড়দল ছিল আমাদের পিতৃভূমি। সিকান্দারের গায়ে নীল আশমানি পাঞ্জাবি, চোখে … বিস্তারিত পড়ুন

যোগাযোগ–১ম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  আজ ৭ই আষাঢ়। অবিনাশ ঘোষালের জন্মদিন। বয়স তার হল বত্রিশ। ভোর থেকে আসছে অভিনন্দনের টেলিগ্রাম, আর ফুলের তোড়া। গল্পটার এইখানে আরম্ভ। কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো। এই কাহিনীর পৌরাণিক যুগ সন্ধান করলে দেখা যায়, ঘোষালরা এক সময়ে ছিল সুন্দরবনের দিকে, তার পরে হুগলি জেলায় নুরনগরে। সেটা বাহির … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!