বুনো সর্দার–মৃন্ময় চক্রবর্তী

  ভাঙা সাইকেল লাফিয়ে লাফিয়ে চলেছে। মাটির রাস্তায় বড় বড় খাদ, গর্ত। শীতের দুপুর বাজবরনতলায় কুড়ি পয়সা দিয়ে খাল পেরোলাম, সাইকেল কাঁধে তুলে। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া চাট্টিখানি কথা! পা হড়কালেই পচা পাঁকের খালে সটান গিঁথে যেতে হবে। যাব কাঁঠালতলা মদনপুর। সেই দুপুর থেকে ঠিকানা খুঁজছি। এই অঞ্চলে যে কত কাঁঠালতলা কত মদনপুর আছে … বিস্তারিত পড়ুন

ছাল-ছাড়ান বাঘ–রৈলোক্য নাথ মুখোপাধ্যায়

এইরূপে চারিদিকে আমি দেখিয়া বেড়াইলাম। বলা বাহুল্য যে, আমাকে কেহ দেখিতে পাইল না সূক্ষ্ম শরীর অতি ক্ষুদ্র, হাওয়া দিয়া গঠিত সূক্ষ্ম শরীর কেহ দেখিতে পায় না। একে যমদূতের ভয়, তাহার উপর আবার এই সমুদয় হৃদয়-বিদারক দৃশ্য। সে স্থানে আমি অধিকক্ষণ তিষ্ঠিতে পারিলাম না। আমি ভাবিলাম,-‘দূর কর! বনে গিয়া বসিয়া থাকি। সুন্দরবনে মনুষ্যের অধিক বাস নাই, … বিস্তারিত পড়ুন

হাড়–হাসান ইমতি

  বাবা, এই হাড়গুলো কাদের ? এগুলো প্যালিওলিথিক যুগের পুরুষ মানুষের হাড় । প্যালিওলিথিক যুগ কি বাবা ? প্যালিওলিথিক যুগ হল আদি প্রস্তর যুগ, যে যুগে মানুষ মূলত পাথরের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে শিকারের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো । এই হাড়গুলো এতো বড় বড় আর মোটা মোটা কেন ? এখানে শুধু পুরুষ মানুষের হাড় … বিস্তারিত পড়ুন

ঝপাং

ঝপাং ঝপাং যেদিন প্রথম আমাদের বাড়ি এল, তার হাবভাব দেখে আমার পিত্তি জ্বলে গেল। চারদিক খোলা মস্ত জিপগাড়িতে সোজা হয়ে ভারি আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর আমাদের বাড়ি আসতেই ঝপাং করে নেমে গেরামভারি মুখ করে পরিত্যক্ত গ্যারেজটায় গিয়ে গ্যাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। অবশ্য গ্যারেজ এখন আর পরিত্যক্ত নেই। ওখানে ঝপাং-এর থাকার বেশ বিলিতি কায়দায় ব্যবস্থা … বিস্তারিত পড়ুন

হায় রে দাঁত

ছিল না, পরে এল, তার পরে চলে গেল, এটা কোনও ধাঁধার লাইন নয়৷‌ উক্তিটি প্রযোজ্য দাঁত সম্পর্কে৷‌ দাঁত সাধারণত বহু বছর মানুষের সঙ্গী হিসেবে থাকে, ছ-সাত মাস বয়সে গুটি গুটি মাড়ি থেকে ফুটি ফুটি হয়ে বেরোয় আবার শেষের কিছু বছরে হয়ে যায় উধাও৷‌ দাঁত গজানোর সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বর্তায় তাকে পরিষ্কার রাখা, রোজ সকালে টুথপেস্ট … বিস্তারিত পড়ুন

অভিযোগ-কানন

  আমাদের পাশের বাড়িতে লালমুদ্দিন এর পরিবার থাকে। তার বড় মেয়ে হাজেরা আমার সমবয়সী। প্রায় সময়ই ওর সাথে আমি খেলাধুলা করি। হাজেরা যে বাড়িতে থাকে সে বাড়িতে  অনেক ধরনের ফলের গাছ আছে – বরই, পেয়ারা, আম, জাম ইত্যাদি। আমি সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। ওদের বাড়ির পাশ দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। প্রায় সময়ই হাজেরা আমাকে জাম, … বিস্তারিত পড়ুন

পুঁই মাচা-৭ম অংশ–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্প

বাড়ির বাহির হইয়া আমলকীতলায় বেহারার সুবিধা করিয়া লইবার জন্য বরের পালকি একবার নামাইল। অন্নপূর্ণ চাহিয়া দেখিলেন, বেড়ার ধারের নীল রঙের মেদিফুলের গুচ্ছগুলি যেখানে নত হইয়া আছে, ক্ষেত্তির কম দামের বালুচরের রাঙা চেলির আঁচলখানা পালকির বাহির হইয়া সেখানে লুটাইতেছে।..তাহার এই অত্যন্ত অগোছালো, নিতান্ত নিরীহ, একটু অধিকমাত্রায় ভোজনপটু মেয়েটিকে পরের ঘরে অপরিচিত মহলে পাইয়াছে তার বুক উদ্বেল … বিস্তারিত পড়ুন

পুঁই মাচা-৫ম অংশ–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্প

ক্ষেত্তি মা’র মুখের দিকে একটুখানি চাহিয়া থাকিয়া একবার ভূপতিত মেটে আলুটার দিকে চাহিল, পরে পুনরায় মা’র মুখের দিকে চাহিয়া লইল, তাহার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিল, কিন্তু মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না। অন্নপূর্ণ কড়া সুরে বলিলেন-কথা বলছিল নে যে বড়? এই মেটে আলু তুই এনেছিস কিনা? ক্ষেত্তি বিপন্ন-চোখে মা’র মুখের দিকেই চাহিয়াছিল, উত্তর … বিস্তারিত পড়ুন

পুঁই মাচা-৬ষ্ঠ অংশ–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্প

অন্নপূর্ণ বড় গামলাটা হইতে একটুখানি গোলা তুলিয়া লইয়া হাতের আঙুল পাঁচটি দ্বারা একটি বিশেষ মুদ্রা রচনা করিয়া সেটুকু রাধার প্রসারিত হাতের উপর দিলেন। মেজোমেয়ে পুটি অমনি ডান হাতখানা কাপড়ে তাড়াতাড়ি মুছিয়া লইয়া, মার সামনে পাতিয়া বলিল-মা, আমায় একটু ক্ষেত্তি শুচিবক্সে নারিকেল কুরিতে কুরিতে লুন্ধনেত্রে মধ্যে মধ্যে এদিকে চাহিতেছিল, এ-সময় খাইতে চাওয়ায় মা পাছে বকে, সেই … বিস্তারিত পড়ুন

পুঁই মাচা-১ম অংশ–বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর গল্প

সহায়হরি চাটুজ্যে উঠোনে পা দিয়েই স্ত্রীকে বলিলেন—“একটা বড় বাটি কি ঘটি, যা হয় কিছু দাও তো। তারক খুড়ো গাছ কেটেছে, একটু ভালো রস আনি।” স্ত্রী অন্নপূর্ণা খড়ের রান্নাঘরের দাওয়ায় বসিয়া শীতকালের সকালবেলা নারকেল তেলের বোতলে ঝাঁটার কাঁটি পুরিয়া দুই আঙুলের সাহায্যে কাটার কাটিলগ্ন জমা তেলটুকু সংগ্রহ করিয়া চুলে মাখাইতেছিলেন। স্বামীকে দেখিয়া তাড়াতাড়ি গায়ের কাপড় একটু … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!