অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

শেষ দিন আজ অনুপমার শেষ দিল। এ সংসারে সে আর থাকিবে না। জ্ঞান হইয়া অবধি সে সুখ পায় নাই। ছেলেবেলায় ভালবাসিয়াছিল বলিয়া নিজের শান্তি নিজে ঘুচাইয়াছিল; অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করিয়াছিল বলিয়া বিধাতা তাহাকে একতিলও সুখ দেন নাই। যাহাকে ভালবাসিত মনে করিত, তাহাকে পাইল না; যে ভালবাসিতে আসিয়াছিল, তাহাকে তাড়াইয়া দিল। পিতা নাই, মাতা নাই, দাঁড়াইবার স্থান … বিস্তারিত পড়ুন

সমীকরণ

প্রফেসর রফিকুজ্জামান অংকে পিএইচডি করে ডক্টর হয়েছেন। তিনি প্রতিটা কাজের ফলাফল অংক কষে বের করে ফেলেন। সে এক এলাহী কাণ্ড! যে কাউকে দেখে তিনি অংক কষে বলতে পারেন এ ব্যক্তি আজ দিনে কী কী কাজ করেছে, দিনের বাকী সময় কী করবে, কী করা উচিত সঅব! তিনি ঘোর নাস্তিক। ইদানিং তিনি স্রষ্টা যে নেই তা অংক … বিস্তারিত পড়ুন

ঝানু চোর চানু-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী-১ম অংশ

ছেলেবেলা থেকেই চানু শয়তানের একশেষ, আশেপাশের লোকজন তার জ্বালায় অস্থির। চানুর বাবা বড় গরিব ছিল, চানু ভাবল-বিদেশে গিয়ে টাকা পয়সা রোজগার করে আনবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, একদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। খানিক দূরে গিয়েই বনের ভিতর দিয়ে একটা নির্জন রাস্তা-চানু সেই রাস্তা ধরে চলল। সমস্ত দিন বৃষ্টিতে ভিজে শ্রান্ত-কান্ত হয়ে স্যার সময় পথের … বিস্তারিত পড়ুন

জীবনের জন্য পানি

ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এদেশে রয়েছে হাজার হাজার লোককাহিনী।তার মধ্যে তিন ভাই আর এক বোনের কাহিনী সারাবিশ্বে ছরিয়ে পড়েছিল।এই তিন ভাই আর এক বোন প্রথমদিকে দিকে বাশ করতো একতা ছোট্ট কুঠিরে,কিন্তু তারা তিনজন ছিল পরিশ্রমীও সৎ। কিছুদিন পরে তারা প্রাসাদের মতো একরা সুন্দর বাড়ি তৈরি করল। আশপাশের লোকজন তাদের সুরম্য প্রাসাদের প্রশংসা … বিস্তারিত পড়ুন

অসম্ভব কথা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক যে ছিল রাজা। তখন ইহার বেশি কিছু জানিবার আবশ্যক ছিল না। কোথাকার রাজা, রাজার নাম কী, এ সকল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়া গল্পের প্রবাহ রোধ করিতাম না। রাজার নাম শিলাদিত্য কি শালিবাহন, কাশী কাঞ্চি কনোজ কোশল অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের মধ্যে ঠিক কোন্‌খানটিতে তাঁহার রাজত্ব, এ-সকল ইতিহাস ভূগোলের তর্ক আমাদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ ছিল; আসল যে … বিস্তারিত পড়ুন

ঘুমের ঘোরে-কাজী নজরুল ইসলাম-২য় অংশ

সে ছিল এমনই এক চাঁদনী-চর্চিত যামিনী, যাতে আপনি দয়িতের কথা মনে হয়ে মর্মতলে দরদের সৃষ্টি করে! মদির খোশ-বুর মাদকতায় মল্লিকা-মালতীর মঞ্জুল মঞ্জরিমালা মলয় মারুতকে মাতিয়ে তুলেছিল। উগ্র রজনিগন্ধার উদাস সুবাস অব্যক্ত অজানা একটা শোক-শঙ্কায় বক্ষ ভরে তুলেছিল। … সে এল মঞ্জীর-মুখর-চরণে সেই মুকুলিত লতাবিতানে! তার বাম করে ছিল চয়িত ফুলের ঝাঁপি। কবরী-ভ্রষ্ট আমের মঞ্জরি শিথিল … বিস্তারিত পড়ুন

আপদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-প্রথম অংশ

সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হইতে লাগিল। বৃষ্টির ঝাপট, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিক্‌মিকিতে আকাশে যেন সুরাসুরের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিগ্বিদিকে উড়িতে আরম্ভ করিল, গঙ্গার এ পারে ও পারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলশব্দে নৃত্য জুড়িয়া দিল, এবং বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো সমস্ত শাখা ঝট্পট্ করিয়া হাহুতাশসহকারে দক্ষিণে বামে লুটোপুটি করিতে … বিস্তারিত পড়ুন

পরির কথা-কাজী নজরুল ইসলাম

ময়ূরেশ্বর – বীরভূম সব ছাপিয়ে আমার মনে পড়ছে তাঁরই গাওয়া অনেক আগের একটা গানের সান্ত্বনা, – অনেক পাওয়ার মাঝে মাঝে কবে কখন একটুখানি পাওয়া সেইটুকুতেই জাগায় দখিন হাওয়া, দিনের পরে দিন চলে যায় যেন তারা পথের স্রোতেই ভাসা, বাহির হতেই তাদের যাওয়া আসা; কখন আসে একটি সকাল সে যেন মোর ঘরেই বাঁধে বাসা, সে যেন … বিস্তারিত পড়ুন

আপদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-দ্বিতীয় অংশ

কিরণ এই কঠোর উক্তির জন্য সতীশকে র্ভৎসনা করিলেন। সতীশ কহিল, “তুমি বোঝ না বউদিদি, তুমি সকলকেই বড়ো বেশি বিশ্বাস করো; কোথাকার কে তার ঠিক নাই, এখানে আসিয়া দিব্য রাজার হালে আছে। আবার পুনর্মূষিক হইবার আশঙ্কায় আজ মায়াকান্না জুড়িয়াছে – ও বেশ জানে যে, দুফোঁটা চোখের জল ফেলিলেই তুমি গলিয়া যাইবে।” নীলকান্ত তাড়াতাড়ি চলিয়া গেল। কিন্তু … বিস্তারিত পড়ুন

অতৃপ্ত কামনা-কাজী নজরুল ইসলাম-১ম অংশ

সাঁঝের আঁধারে পথ চলতে চলতে আমার মনে হল, এই দিনশেষে যে হতভাগার ঘরে একটি প্রিয় তরুণ মুখ তার ‘কালো চোখের করুণ কামনা’ নিয়ে সন্ধ্যাদীপটি জ্বেলে পথের পানে চেয়ে থাকে না, তার মতো অভিশপ্ত বিড়ম্বিত জীবন আর নেই! আমারই বেদনা-রাগে রঞ্জিত হয়ে গগনের পশ্চিম দুয়ারে জ্বালা সন্ধ্যা-তারা আমার মুখে তার অশ্রু-ভরা ছল-ছল চোখ নিয়ে চেয়ে ওই … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!