করুণা –রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-দ্বিতীয় অংশ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ মহেন্দ্র নরেন্দ্রদের দলে মিশিয়াছে বটে, কিন্তু এখনো মহেন্দ্রের আচার-ব্যবহারে এমন একটি মহত্ত্ব জড়িত ছিল যে, নরেন্দ্র তাহার সহিত ভালো করিয়া কথা কহিতে সাহস করিত না। এমন-কি সে থাকিলে নরেন্দ্র কেমন একটা অসুখ অনুভব করিত, সে চলিয়া গেলে কেমন একটু শান্তিলাভ করিত। অলক্ষিতভাবে নরেন্দ্রের মন মহেন্দ্রের মোহিনীশক্তির পদানত হইয়াছিল। মহেন্দ্র বড়ো মৃদুস্বভাব লোক—হাসিবার সময় … বিস্তারিত পড়ুন

শেষ পুরস্কার-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খসড়া সেদিন আই. এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব’লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব’লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, … বিস্তারিত পড়ুন

করুণা –রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-তৃতীয় অংশ

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ স্বরূপবাবু কহেন যে, পৃথিবী তাঁহাকে ক্রমাগতই জ্বালাতন করিয়া আসিয়াছে, এই নিমিত্ত মানুষকে তিনি পিশাচ জ্ঞান করেন। কিন্তু আমরা যতদূর জানি তাহাতে তিনিই দেশের লোককে জ্বালাতন করিয়া আসিতেছেন। তিনি যাহার সহিত কোনো সংশ্রবে আসিয়াছেন তাহাকেই অবশেষে এমন গোলে ফেলিয়াছেন যে, কী বলিব। স্বরূপবাবু সর্বদা এমন কবিত্বচিন্তায় মগ্ন থাকেন যে, অনেক ডাকাডাকিতেও তাঁহার উত্তর পাওয়া … বিস্তারিত পড়ুন

অতি লোভের ফল

ইউরোপের একটা মসলিম দেশ তুরস্ক।তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সনে বাংলাদেশে এসে রাজত্ব করে গিয়েছেন।সেই তুরস্কের লোককাহিনীর চরিত্রগুলো এখনো ঐতিহাসিক চরিত্র হয়ে বিশ্বে পরিচিত হয়ে আছে।এখানকার গল্পটি খলিফা হারুঅর রশিদের আমলের ঘটনা।খলিফা হারু অর রশিদ ইতিহাসে খুব বিখ্যাত ছিলেন।সে সময় রাজা বাদশাদের বলা হত খলিফা । হারুন অর রশিদের এক চমৎকার খেয়াল ছিল।তিনি … বিস্তারিত পড়ুন

করুণা –রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-প্রথম অংশ

ভূমিকা গ্রামের মধ্যে অনূপকুমারের ন্যায় ধনবান আর কেহই ছিল না। অতিথিশালানির্মাণ, দেবালয়প্রতিষ্ঠা, পুষ্করিণীখনন প্রভৃতি নানা সৎকর্মে তিনি ধনব্যয় করিতেন। তাঁহার সিন্ধুক-পূর্ণ টাকা ছিল, দেশবিখ্যাত যশ ছিল ও রূপবতী কন্যা ছিল। সমস্ত যৌবনকাল ধন উপার্জন করিয়া অনূপ বৃদ্ধ বয়সে বিশ্রাম করিতেছিলেন। এখন কেবল তাঁহার একমাত্র ভাবনা ছিল যে, কন্যার বিবাহ দিবেন কোথায়। সৎপাত্র পান নাই ও … বিস্তারিত পড়ুন

অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-প্রথম পরিচ্ছেদ

বিরহ একাদশবর্ষ বয়ঃক্রমের মধ্যে অনুপমা নবেল পড়িয়া পড়িয়া মাথাটা একেবারে বিগড়াইয়া ফেলিয়াছে। সে মনে করিল, মনুষ্য-হৃদয়ে যত প্রেম, যত মাধুরী, যত শোভা, যত সৌন্দর্য, যত তৃষ্ণা আছে, সব খুঁটিয়া বাছিয়া একত্রিত করিয়া নিজের মস্তিষ্কের ভিতর জমা করিয়া ফেলিয়াছে; মনুষ্য-স্বভাব, মনুষ্য-চরিত্র তাহার নখদর্পণ হইয়াছে। জগতের শিখিবার পদার্থ আর তাহার কিছুই নাই; সব জানিয়া ফেলিয়াছে, সব শিখিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ভালবাসার ফল দুর্লভ বসু বিস্তর অর্থ রাখিয়া পরলোকগমন করিলে তাঁহার বিংশতিবর্ষীয় একমাত্র পুত্র ললিতমোহন শ্রাদ্ধশান্তি সমাপ্তি করিয়া একদিন স্কুলে যাইয়া মাস্টারকে বলিল, মাস্টারমশায়, আমার নামটা কেটে দিন। কেন বাপু? মিথ্যে পড়ে-শুনে কি হবে? যেজন্য পড়াশুনা, তা আমার বিস্তর আছে। বাবা আমার জন্যে অনেক প’ড়ে রেখে গিয়েচেন। মাস্টার চক্ষু টিপিয়া অল্প হাসিয়া বলিল, তবে আর ভাবনা … বিস্তারিত পড়ুন

অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-তৃতীয় পরিচ্ছেদ

বিবাহ আজ ৫ই বৈশাখ। অনুপমার বিবাহ-উৎসবে আজ গ্রামটা তোলপাড় হইতেছে। জগবন্ধুবাবুর বাটীতে আজ ভিড় ধরে না। কত লোক যাইতেছে, কত লোক হাঁকাহাঁকি করিতেছে। কত খাওয়ান-দাওয়ানর ঘটা, কত বাজনা-বাদ্যের ধুম। যত সন্ধ্যা হইয়া আসিতে লাগিল, ধুমধাম তত বাড়িয়া উঠিতে লাগিল; সন্ধ্যা-লগ্নেই বিবাহ, এখনই বর আসিবে—সকলেই উৎসাহে আগ্রহে উন্মুখ হইয়া আছে। কিন্তু বর কোথায় ? রাখালবাবুর বাটীতে … বিস্তারিত পড়ুন

অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-চতুর্থ পরিচ্ছেদ

বৈধব্য তথাপি অনুপমা একটু কাঁদিল। স্বামী মরিলে বাঙালীর মেয়েকে কাঁদিতে হয়, তাই কাঁদিল। তাহার পর স্ব-ইচ্ছায় সাদা পরিয়া সমস্ত অলঙ্কার খুলিয়া ফেলিল। জননী কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন, অনু, তোর এ বেশ ত আমি চোখে দেখতে পারি না, অন্তত হাতে একজোড়া বালাও রাখ। তা হয় না, বিধবার অলঙ্কার পরতে নেই। কিন্ত তুই কচি মেয়ে। তাহা হোক, বাঙালীর … বিস্তারিত পড়ুন

অনুপমার প্রেম –শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-পঞ্চম পরিচ্ছেদ

চন্দ্রবাবুর সংসার তিন বৎসর পরে খালাস হইয়াও ললিতমোহন বাড়ি ফিরিল না। কেহ বলিল, লজ্জায় আসিতেছে না। কেহ বলিল, সে গ্রামে কি আর মুখ দেখাতে পারে? ললিতমোহন নানা স্থান পরিভ্রমন করিয়া দুই বৎসর পরে সহসা একদিন বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার জননী আনন্দে পুত্রের শিরশ্চুম্বন করিয়া আর্শীবাদ করিলেন—বাবা, এবার বিবাহ করে সংসারি হও, যা কপালে ছিল … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!