নুতন গল্প-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক রাজা, তার তিন ছেলে। বড় ছেলে গাঁজা খায়, মেজ ছেলে লাঠি হাতে ঘুরিয়া বেড়ায়, ছোট ছেলে বাপের কাছে বসিয়া রাজ্যের কাজকর্ম দেখে। বড় দুটো ছোটটিকে দেখিতে পারে না। ‘সোনার গাছ রূপোর পাতা, শ্বেত কাকের বাসা তাতে!’ রাজার বড় ইচ্ছা এই গাছ ছেলেরা আনিয়া দেয়। তিন ছেলে কত জায়গায় ঘুরিল। বড় দুটির কি হইল জানা … বিস্তারিত পড়ুন

গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা–উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তোমরা ‘ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স’ কোথায় জান? পৃথিবীর মানচিত্রের বাঁ ধারে গোলাকাটির নাম নূতন মহাদ্বীপ। নূতন মহাদ্বীপের বড় দেশটা আমেরিকা। আমেরিকার মাঝখানটা খুব সরু, দেখিতে দুটি দেশের মত দেখায়। এই দুইটির উপরেরটির নাম উত্তর আমেরিকা আর নীচেরটির নাম দক্ষিণ আমেরিকা। উত্তর আমেরিকার যত দেশ, ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌স তাহার মধ্যে সকলের বড়। ইউনাইটেড্‌ স্টেট্‌সে গিলফয় সাহেবের বাড়ি। গিলফয় সাহেব … বিস্তারিত পড়ুন

হাতির চেয়ে চড়ুই কেন শক্তিশালী

আফ্রিকা মহাদেশের কোথা তোমরা কতবার,কত যায়গায় শুনেছ।সেই আফ্রিকার কালো মানুষের মানুষের একটা কোথা শোন।আফিকার গভীর বন-জঙ্গলে তোমরা তো জানোই।সে এক গহিন জঙ্গলের কাহিনী।সেখানে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের এলো পৌছায় না মাটিতে।চারদিকে পাতার ঝরার শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই।নিরব সেই বন।বনের মাঝখানে বিশাল এক তেতুলগাছ।সেই তেতুল গাছের ডালে থাকে একটা বাদামি রঙের ছোট্ট একটা চড়ুই … বিস্তারিত পড়ুন

সুভা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-১ম অংশ

মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বোবা হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে। দস্তুরমত অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে। … বিস্তারিত পড়ুন

সুভা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-২য় অংশ

পূর্ণিমাপ্রকৃতিও সুভার মতো একাকিনী সুপ্ত জগতের উপর জাগিয়া বসিয়া— যৌবনের রহস্যে পুলকে বিষাদে অসীম নির্জনতার একেবারে শেষ সীমা পর্যন্ত, এমন-কি, তাহা অতিক্রম করিয়াও থম্‌থম্‌ করিতেছে, একটি কথা কহিতে পারিতেছে না। এই নিস্তব্ধ ব্যাকুল প্রকৃতির প্রান্তে একটি নিস্তব্ধ ব্যাকুল বালিকা দাঁড়াইয়া। এ দিকে কন্যাভারগ্রস্ত পিতামাতা চিন্তিত হইয়া উঠিয়াছেন। লোকেও নিন্দা আরম্ভ করিয়াছে। এমন-কি, এক-ঘরে করিবে এমন … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০১

উৎসর্গ সুর-সুন্দর শ্রীনলিনীকান্ত সরকার করকমলেষু বন্ধু আমার! পরমাত্মীয়! দুঃখ-সুখের সাথি! তোমার মাঝারে প্রভাত লভিল আমার তিমির রাতি। চাওয়ার অধিক পেয়েছি – বন্ধু আত্মীয় প্রিয়জন, বন্ধু পেয়েছি – পাইনি মানুষ, পাইনি দরাজ মন। চারিদিক হতে বর্ষেছে শিরে অবিশ্বাসের গ্লানি, হারায়েছি পথ – আঁধারে আসিয়া ধরিয়াছ তুমি পাণি। চোখের জলের হয়েছ দোসর, নিয়েছ হাসির ভাগ, আমার ধরায় … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০২

সালার ২৯শে জানুয়ারি (প্রভাত,– চায়ের টেবিল সম্মুখে) নূরু! তোর চিঠিটা আমার ভোজপুরি দারোয়ান মশায়ের ‘থ্রু’ দিয়ে কাল সান্ধ্য-চায়ের টেবিলে ক্লান্ত করুণ বেশে এসে হাজির। দেখি, রিডাইরেকটের ধস্তাধস্তিতে বেচারার অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমি ক্ষিপ্রহস্তে সেই চক্রলাঞ্ছিত, ওষ্ঠাগতপ্রাণ, প্রভুভক্ত লিপিবরের বক্ষ চিরে তার লিপিলীলার অবসান করে দিলাম। – বেজায় উষ্ণমস্তিষ্ক চায়ের কাপ তখন আমার পানে রোষকষায়িত … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০৩

বাঁকুড়া ২৬এ জানুয়ারি (বিকেলবেলা) অথ নরম গরম পত্রমিদম কার্যনঞ্চাগে বিশেষ! বাঙালি পলটনের তালপাতার সিপাই শ্রীল শ্রীযুক্ত নূরুল হুদা বরাবরেষু।… বুঝলি নূরু! তোর চিঠি নিয়ে কিন্তু আমাদের বোর্ডিং-এর কাব্যিরোগাক্রান্ত যাবতীয় ছোকরাদের মধ্যে একটা বিভ্রাট রকমের আলোচনা চলেছে। এঁদের সবাই ঠাউরেছেন, তুই একটা প্রকাণ্ড ‘হবু-কবি’ বা কবি-কিশলয়! তোর যে ভবিষ্যৎ দস্তুরমতো ‘ফর্সা’ এবং ক্রমে তুই-ই যে রবিবাবুর … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁধনহারা – কাজী নজরুল ইসলাম-পরিচ্ছেদ ০৫

বাঁকুড়া ২রা ফেব্রুয়ারি (নিশুত রাত্তির) কবি-সৈনিক নূরু! ‘একচোখো; ‘এক-রোখো’ প্রভৃতি তোর দেওয়া ঝুড়ি ঝুড়ি বিশেষণ আমি আমার আঁতুড়-ঘর থেকে এই বিশ বছরের ‘যৈবন বয়েস’ নাগাদ বরাবর কুইনাইন-মিক্সচারের মতন গলাঃধকরণ করতে প্রাণপণে আপত্তি জানিয়েছি, কারণ সেসময় এসব অপবাদে জোর ‘চটিতং’ হয়ে মনে করতাম তোর স্বভাবই হচ্ছে লোকের সঙ্গে কর্কশ বেয়াদবি করা আর মুখের ওপর নির্মম প্রত্যুত্তর … বিস্তারিত পড়ুন

সদর ও অন্দর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না। সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!