আপদ

জামান সাহেব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খুব আয়েশ করে বসে পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছিলেন । এই সময় পাশের টেবিলে রাখা গরম চা তার আয়েশকে আরেক দফা বাড়িয়ে দিলেও মরিয়মকে দেখে মেজাজ বিগড়ে গেল।চায়ে চুমুক না দিয়েই হুংকার দিলেন – চাটা ঠান্ডা কেন? সামান্য এককাপ চাও করতে পারিস না। পারিস কি তুই? যা ভাগ এখান … বিস্তারিত পড়ুন

এক টাকা

এক. পাটুরিয়া ফেরী ঘাটে যখন সুজয়দের বাসটি পৌঁছে তখন বাজে রাত পৌনে একটা আর সুজয় ছিল গভীর ঘুমে অচেতন। ঈদের ছুটি শেষে ভার্সিটিতে ফিরছে সে, বাস ভর্তি মেডিকেল, খুলনা ভার্সিটি আর কুয়েটের ছাত্রছাত্রী, দু একজন বাদে। আজ মনে হয় ভাগ্য ভালো, বড় ফেরীতেই উঠেছে ঈগল পরিবহনের চেয়ারকোচ ননএসি এই বাসটি। পেছনের সিট থেকে মাথায় চাটি … বিস্তারিত পড়ুন

নেমামা ভাগনে

তিমকড়ি পাল আর ভজহরি দত্ত মামা ভাগনে।মামা ভাগনে হলে ওদের বয়সের বেশী তফাৎ বেশী নয়। ছেলাবেলা থেকে এক বাড়িতে মানুষ।এক সঙ্গে শোয়া-বসা।তিনকুলে কেউ নেই । আপনার বলতে মামার ঐ ভাগনে,আর ভগনের ঐ মামা।তিন কড়ির বাবা হাজার কয়েক নগদ টাকা রেখে গিয়াছে;আর ভজ হরির বাবা দিয়া গেছেন কয়েক বিঘা ধানের জমি।দুটো মিলে ওদের এত দিন চলে … বিস্তারিত পড়ুন

ত্যাগ–প্রথম পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচুগাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্যেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত করিয়া ঠুং ঠুং … বিস্তারিত পড়ুন

ত্যাগ–দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হেমন্ত বাহির হইতে ফিরিয়া আসিয়া স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিল, “সত্য কি।” স্ত্রী কহিল, “সত্য।” “এতদিন বল নাই কেন।” “অনেকবার বলিতে চেষ্টা করিয়াছি, বলিতে পারি নাই। আমি বড়ো পাপিষ্ঠা।” “তবে আজ সমস্ত খুলিয়া বলো।” কুসুম গম্ভীর দৃঢ়স্বরে সমস্ত বলিয়া গেল— যেন অটলচরণে ধীরগতিতে আগুনের মধ্যে দিয়া চলিয়া গেল, কতখানি দগ্ধ হইতেছিল কেহ বুঝিতে পারিল না। সমস্ত শুনিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

মিস্‌মিদের কবচ–দশম পরিচ্ছেদ

কথাটা শ্ৰীগোপালকে বলবার জন্যে তার বাড়ির দিকে চললাম। রাস্তাটা বাড়ির পেছনের দিকে—শীগগির হবে বলে ‘শর্ট-কার্ট’ করে গেলাম বনের মধ্যে দিয়ে। সেই বন—যেখানে আমি সেদিন মিস্‌মি-জাতির কবচ ও দাঁতনকাঠির গোড়া সংগ্ৰহ করে ছিলাম। অন্ধকারেই যাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটা সাদা-মত কি কিছুদূরে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। জিনিসটা নড়চে-চড়চে আবার। অন্ধকারের জন্যে ভয় যেন বুকের রক্ত হিম করে দিলে। … বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ–১ম পর্ব–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয় । তাঁহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল । তাঁহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো ধাঁধা লাগিয়া যায় । পৃথিবীর সকল বিষয়েই এমন করিয়া আলাপ করিতে লাগিলেন , যেন তাঁহার সহিত প্রথম পরামর্শ করিয়া বিশ্ববিধাতা সকল … বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ–২য় পর্ব–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আড়াই শত বৎসরের কৃষ্ণবর্ণ যবনিকা ঠিক আমার সম্মুখে দুলিতেছে- ভয়ে ভয়ে একটি ধার তুলিয়া ভিতরে দৃষ্টিপাত করি — সেখানে বৃহৎ সভা বসিয়াছে , কিন্তু গাঢ় অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ গুমট ভাঙিয়া হু হু করিয়া একটা বাতাস দিল — শুস্তার স্থির জলতল দেখিতে দেখিতে অপ্সরীর কেশদামের মতো কুঞ্চিত হইয়া উঠিল, এবং সন্ধ্যাছায়াচ্ছন্ন সমস্ত বনভূমি … বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ–৩য় পর্ব–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সাজ পরা একটি ভীষণ কাফ্রি খোজা কোলের উপর খোলা তলোয়ার লইয়া দুই পা ছড়াইয়া দিয়া বসিয়া ঢুলিতেছে। দূতী লঘুগতিতে তাহার দুই পা ডিঙাইয়া পর্দার এক প্রান্তদেশ তুলিয়া ধরিল। ভিতর হইতে একটি পারস্য-গালিচা-পাতা ঘরের কিয়দংশ দেখা গেল। তক্তের উপরে কে বসিয়া আছে দেখা গেল না — কেবল জাফরান রঙের স্ফীত পায়জামার নিম্নভাগে জরির-চটি-পরা দুইখানি ক্ষুদ্র সুন্দর … বিস্তারিত পড়ুন

ক্ষুধিত পাষাণ–৪য় পর্ব–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কটাক্ষের আঘাত । কী অসীম ঐশ্বর্য , কী অনন্ত কারাগার । দুই দিকে দুই দাসী বলয়ের হীরকে বিজুলি খেলাইয়া চামর দুলাইতেছে । শাহেনশা বাদশা শুভ্র চরণের তলে মণিমুক্তাখচিত পাদুকার কাছে লুটাইতেছে ; বাহিরের দ্বারের কাছে যমদূতের মতো হাবশি দেবদূতের মতো সাজ করিয়া , খোলা তলোয়ার হাতে দাঁড়াইয়া । তাহার পরে সেই রক্তকলুষিত ঈর্ষাফেনিল ষড়যন্ত্রসংকুল ভীষণোজ্জ্বল … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!