দালিয়া-পঞ্চম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তাহার পরদিনই রহমত শেখ জুলিখাকে গোপনে পত্র লিখিল যে , ‘ আরাকানের নূতন রাজা ধীবরের কুটিরে দুই ভগ্নীর সন্ধান পাইয়াছেন এবং গোপনে আমিনাকে দেখিয়া অত্যন্ত মুগ্ধ হইয়াছেন- তাহাকে বিবাহার্থে অবিলম্বে প্রাসাদে আনিবার আয়োজন করিতেছেন । প্রতিহিংসার এমন সুন্দর অবসর আর পাওয়া যাইবে না । ‘ তখন জুলিখা দৃঢ়ভাবে আমিনার হাত ধরিয়া কহিল , “ ঈশ্বরের … বিস্তারিত পড়ুন

দালিয়া-ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অশ্বারোহী, পদাতিক, নিশান, হস্তী, বাদ্য এবং আলোকে ধীবরের ঘর দুয়ার ভাঙিয়া পড়িবার জো হইল । রাজপ্রাসাদ হইতে স্বর্ণমণ্ডিত দুই শিবিকা আসিয়াছে । আমিনা জুলিখার হাত হইতে ছুরিখানি লইল । তাহার হস্তিদন্তনির্মিত কারুকার্য অনেকক্ষণ ধরিয়া দেখিল । তাহার পর বসন উদ্‌ঘাটন করিয়া নিজের বক্ষের উপর একবার ধার পরীক্ষা করিয়া দেখিল । জীবনমুকুলের বৃন্তের কাছে ছুরিটি একবার … বিস্তারিত পড়ুন

অজ্ঞাত স্টেশন

মধুসূদন সাহেব মারা যাওয়ার সংবাদে মুকুল একেবারে ভেঙ্গে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে ঢলে পড়ল আমার কাঁধে। আমি কোনরকমে ওর মাথায় হাত রাখলাম। বললাম, শান্ত হ মুকুল, কেউ যায় কেউ আসে; এইত নিয়ম। কাদিস না। ট্রেন চলে আসবে এখনই। আমরাও তো যাচ্ছি। একথা বলে আমি প্লাটফর্মের দিকে তাকালাম। কাকভেজা হয়ে আছে প্লাটফর্ম; আর সেই সাথে এখানে নিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-১ম অংশ

রাজকন্যার নাম অপরাজিতা । উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই । কিন্তু যে দিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে । যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-২য় অংশ

প্রতিঘাত করিতে লাগিল , এবং কেবল সেই ধ্বনির বেগে সমস্ত জনমণ্ডলীর বক্ষকবাট থর্ থর্ করিয়া স্পন্দিত হইয়া উঠিল । কত কৌশল , কত কারুকার্য , উদয়নারায়ণ নামের কতরূপ ব্যাখ্যা , রাজার নামাক্ষরের কতদিক হইতে কতপ্রকার বিন্যাস , কত ছন্দ , কত যমক । পুণ্ডরীক যখন শেষ করিয়া বসিলেন , কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ সভাগৃহ তাঁহার কণ্ঠের … বিস্তারিত পড়ুন

জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-৩য় অংশ

বাঁশির গান , যমুনার কল্লোল , প্রেমের মোহ একেবারে দূর হইয়া গেল ; যেন পৃথিবীর উপর হইতে কে একজন বসন্তের সবুজ রঙটুকু মুছিয়া লইয়া আগাগোড়া পবিত্র গোময় লেপন করিয়া গেল । শেখর আপনার এতদিনকার সমস্ত গান বৃথা বোধ করিতে লাগিলেন ; ইহার পরে তাঁহার আর গান গাহিবার সামর্থ্য রহিল না । সেদিন সভা ভঙ্গ হইল … বিস্তারিত পড়ুন

ডিটেকটিভ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –১ম অংশ

আমি পুলিসের ডিটেকটিভ কর্মচারী । আমার জীবনের দুটিমাত্র লক্ষ্য ছিল — আমার স্ত্রী এবং আমার ব্যবসায় । পূর্বে একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে ছিলাম , সেখানে আমার স্ত্রীর প্রতি সমাদরের অভাব হওয়াতেই আমি দাদার সঙ্গে ঝগড়া করিয়া বাহির হইয়া আসি । দাদাই উপার্জন করিয়া আমাকে পালন করিতেছিলেন , অতএব সহসা সস্ত্রীক তাঁহার আশ্রয় ত্যাগ করিয়া আসা আমার … বিস্তারিত পড়ুন

ডিটেকটিভ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –২য় অংশ

অবশেষে সশরীরে রমণীর অবতারণা করিতে হইল । পুলিসের বেতনভোগী হরিমতি আমার সহায় হইল । মন্মথকে জানাইলাম , আমি এই হরিমতির হতভাগ্য প্রণয়াকাঙক্ষী , ইহাকে লক্ষ্য করিয়াই আমি কিছুদিন গোলদিঘির ধারে মন্মথের পার্শ্বচর হইয়া ‘ আবার গগনে কেন সুধাংশু-উদয় রে ‘ কবিতাটি বারংবার আবৃত্তি করিলাম ; এবং হরিমতিও কতকটা অন্তরের সহিত , কতকটা লীলাসহকারে জানাইল যে … বিস্তারিত পড়ুন

স্বপ্ন যখন সত্যি হলো–ভূতের গল্প

রহস্য গল্প

ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো নিশা। একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখেছে ও একটু আগে। ভয়ে-আতঙ্কে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটা দাপাদাপি করছে পাগলের মতো। যেন বুকের খাঁচা ভেঙে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে এই দুঃস্বপ্নের জগৎ থেকে। পাশেই শুয়ে আছে হাসান। ঘুমে একেবারে বেহুঁশ। ওকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিলো নিশা। বেডসুইচ টিপে … বিস্তারিত পড়ুন

মিস্‌মিদের কবচ–দশম পরিচ্ছেদ

কথাটা শ্ৰীগোপালকে বলবার জন্যে তার বাড়ির দিকে চললাম। রাস্তাটা বাড়ির পেছনের দিকে—শীগগির হবে বলে ‘শর্ট-কার্ট’ করে গেলাম বনের মধ্যে দিয়ে। সেই বন—যেখানে আমি সেদিন মিস্‌মি-জাতির কবচ ও দাঁতনকাঠির গোড়া সংগ্ৰহ করে ছিলাম। অন্ধকারেই যাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটা সাদা-মত কি কিছুদূরে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। জিনিসটা নড়চে-চড়চে আবার। অন্ধকারের জন্যে ভয় যেন বুকের রক্ত হিম করে দিলে। … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!