ছোটগল্পঃ নকল বীর

দরজা খুলেই চিৎ হয়ে পড়ে গেল সুরুজালি। ’কী হয়েছে, কী হয়েছে’ করতে করতে ছুটে এলো ঘরের লোকজন। সুরুজালি ’বাঘ বাঘ’ বলে আঙুলে ইশারা করতেই সবাই বাইরের দিকে তাকালো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার! কারোর কলজেজুড়ে পানি নেই। সুরুজালিকে ফেলে দেৌড়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল তারা। এক মুহূর্ত পরে সুরুজালি মোচড় দিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

নীল ঈদ (ছোট গল্প)

আজ শবে কদর, তাহের খুব মনোযোগ দিয়ে আজকের তারাবীর নামাজটুকু পড়ছে, তিলাওয়াতের মধুর সুরটুকু অন্তরের মাঝে গেঁথে নিতে চায় যেন। সারা বছর নামাজ পড়া হয়ই, তবে মাঝে মাঝেই যে ছাড় যায় না, তেমন নয়। আজ খতম তারাবীহ, আবার একবছর পর এই খতম তারাবীহর নামাজ পড়ার সুযোগ আসবে, তাই খুব একাগ্রতার সাথে নামাজে মত্ত ছিল তাহের। … বিস্তারিত পড়ুন

দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভিটা ছাড়িতে হইল । কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না , আভাস দিব মাত্র । আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার , পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি । যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত তাহা অপেক্ষা কম ছিল না , সুতরাং নর এবং নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা … বিস্তারিত পড়ুন

কোগ্রামের মধূ পণ্ডিত–শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিপদে পড়লে লোকে বলে,ত্রাহি মধূসূদন। তা কোগ্রামের লোকেরাও তাই বলত।কিন্তু তারা কথাটা বলত মধুসূদন পণ্ডিতকে।বাস্তবিক মধুসুন ছিল কোগ্রামের কাছে সাক্ষাৎ দেবতা।যেমনি বামনাই তেজ,তেমনি সর্ববিদ্যাশারদ।চিকিৎসা জানতেন,বিজ্ঞান জানতেন,চাষাবাদ জানতেন,মারণ উচাটন জানতেন,তার আমলে গায়ের লোক মরত না।সাঝের বেলা একদিন কষ্টকাঠিন্য রুগী বগলাবাবু মধুসূদনের বাড়িতে পাতন আনতে গিয়াছেন।গিয়ে দেখেন গোটা চারেক মুশকো চেহারার গোঁফগুলো লোক উঠানে হ্যারিকেন আলোয় খেতে … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-প্রথম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই। ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না … বিস্তারিত পড়ুন

নষ্টনীড়-দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাগানের সংকল্প তাহাদের অন্যান্য অনেক সংকল্পের ন্যায় সীমাহীন কল্পনাক্ষেত্রের মধ্যে কখন হারাইয়া গেল তাহা অমল এবং চারু লক্ষও করিতে পারিল না। এখন অমলের লেখাই তাহাদের আলোচনা ও পরামর্শের প্রধান বিষয় হইয়া উঠিল। অমল আসিয়া বলে, “বোঠান, একটা বেশ চমৎকার ভাব মাথায় এসেছে।” চারু উৎসাহিত হইয়া উঠে; বলে, “চলো, আমাদের দক্ষিণের বারান্দায়–– এখানে এখনই মন্দা পান … বিস্তারিত পড়ুন

খসে পড়া শব্দ যত

‘আমরা এখন চলে যাব আমাদের সহকর্মী আহসানের কাছে, যিনি বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। আহসান, আহসান, আপনি শুনতে পারছেন আমার কথা?’ -‘জি মিমি, আমি শুনতে পাচ…পাচ…পাচহি আপনাকে।’ ‘আপনার চারিপাশে কি ঘটছে, বিশেষ কিছু কি দেখতে পেয়েছেন আপনি?’ -‘আসলে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে ঘটনাস-স…ঘটনা…ঘটনাস-হল, মানে জায়গাটা; কাউকে ঢুকতে বা কথা বলতে দিচ…দি-দিচ-হে না…’ তরুণ ফিল্ড রিপোর্টারের বিভ্রান্ত … বিস্তারিত পড়ুন

চক্র

রাত অনেক হলো। অভিজাত পাড়া গুলশান ঘুমিয়ে। তবে ঢাকাতো চব্বিশ ঘন্টার শহর। এখানে চব্বিশ ঘন্টা সব কিছু পাওয়া যায়। ঢাকার মেট্রোপলিটন পরিচয় রক্ষার জন্যই হয়তো রাতের নিস্তব্ধতা চীরে রাস্তা দিয়ে হুস-হাস শব্দে দ্রুত গতির গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। শব্দনিরোধক কামড়ায় বসেও দ্রুত গতির যানের শব্দ পাচ্ছেন ডিআইজি মাসুদ ইব্রাহিম। চিন্তাকিষ্ট মুখে একটু পর পর হুইস্কির গাসে … বিস্তারিত পড়ুন

জলপাইয়ের আঁটি

স্কুলের টিফিনের সময় আজ পকেটে মাত্র দশটা পয়সা আছে। কেউ হয়ত ভাবতে পারে আমি ভুল করে দশ টাকাকে দশ পয়সা বলছি। কিন্তু ভুল আমার হয়নি, পকেটে আসলেই দশ পয়সা আছে। অ্যালুমিনিয়ামের দশ পয়সা, গোল নয়, ধারটা ঢেউ খেলানো। একদিকে শাপলার ছবি আর অন্যদিকে কিসের ছবি তা মনে করতে পারছিনা। স্কুলের বাইরে একটা বুড়ি বসে নানান … বিস্তারিত পড়ুন

টিফিন

‘—- অর্কের বুক ধ্বক্ ধ্বক্ করছে ভয়ে। কারণ স্যার আজকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা গুণতে বলেছেন। এ দায়িত্ব সাধারণত ক্লাস ক্যাপ্টেনের। অর্কের রোল ২, এবছর এখন পর্যন্ত প্রতিদিন ফার্স্ট ব্য উপস্থিত থাকায় অর্ককে আর কোনদিন ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। তবে তার ভয় পাবার কারণটা ভিন্ন, ক্লাসের প্রথমদিকের কয়েকটি ছেলে তাকে বলে দিয়েছে যতজন উপস্থিত হয়েছে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!