বিচারক-প্রথম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল, সেও যখন তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল। তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্কার বোধ হইল। যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর … বিস্তারিত পড়ুন

বিচারক-দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জজ মোহিতমোহন দত্ত স্ট্যাটুটরি সিভিলিয়ান। তাঁহার কঠিন বিচারে ক্ষীরোদার ফাঁসির হুকুম হইল। হতভাগিনীর অবস্থা বিবেচনা করিয়া উকিলগণ তাহাকে বাঁচাইবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য হইলেন না। জজ তাহাকে তিলমাত্র দয়ার পাত্রী বলিয়া মনে করিতে পারিলেন না। না পারিবার কারণ আছে। এক দিকে তিনি হিন্দুমহিলাগণকে দেবী আখ্যা দিয়া থাকেন, অপর দিকে স্ত্রীজাতির প্রতি তাঁহার … বিস্তারিত পড়ুন

বিচারক-তৃতীয় পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মোহিতমোহনের পূর্ব-ইতিহাস হইতে এই একটিমাত্র ঘটনা উল্লেখ করিলাম। রচনা পাছে একঘেয়ে হইয়া উঠে এইজন্য অন্যগুলি বলিলাম না। এখন সে-সকল পুরাতন কথা উত্থাপন করিবার আবশ্যকও নাই। এখন সেই বিনোদচন্দ্র নাম স্মরণ করিয়া রাখে, এমন কোনো লোক জগতে আছে কিনা সন্দেহ। এখন মোহিত শুদ্ধাচারী হইয়াছেন, তিনি আহ্নিকতর্পণ করেন এবং সর্বদাই শাস্ত্রালোচনা করিয়া থাকেন। নিজের ছোটো ছোটো ছেলেদিগকেও … বিস্তারিত পড়ুন

হযবরল || সুকুমার রায় ||

বেজায় গরম। গাছতলায় দিব্যি ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। ঘাসের উপর রুমালটা ছিল, ঘাম মুছবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি অমনি রুমালটা বলল “ম্যাও!” কি আপদ! রুমালটা ম্যাও করে কেন? চেয়ে দেখি রুমাল তো আর রুমাল নেই, দিব্যি মোটা-সোটা লাল টক্টকে একটা বেড়াল গোঁফ ফুলিয়ে প্যাট্ প্যাট্ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! … বিস্তারিত পড়ুন

আরে অর্থাৎ

আমাদের স্কুলের বুড়ো হেড পন্ডিতমহাশয় মরিয়া গেলে যিনি নতুন হেডপন্ডিত নিযুক্ত হইয়া আসিলেন, তাঁহার নামা শ্রীরমানাথ বিদ্যাভূষণ। তিনি সংস্কৃত কলেজ হইতে বি.এ. পাশ করিয়াছিলেন। নূতন পন্ডিত মহাশয়ের বয়স বেশি নহে- বোধ হয়, তেইশ-চব্বিশ বৎসর হইবে। বয়স কম হইলেও তিনি খুব পন্ডিত ছিলেন, পড়াইতেও খুব ভাল পারিতেন। কিন্তু তাঁহার একটা মুদ্রাদোষ বড়োই প্রবল ছিল। তিনি একটা … বিস্তারিত পড়ুন

হাসান ও পবিত্র হাসির গল্প

একশ টাকার ভাংতি নাই।কথাটি বলে শেষ করতে না করতেই লোকটি চোখ গরম করে বলল,একশ টাকার ভাংতি দিতে না পারলে,দোকান দিয়ে রাখছ কেন? লোকটির চেহারায় ভদ্রতার ছাপ সুস্পষ্ট।সুন্দর শার্ট-প্যান্ট পড়ে আছে,উচ্চারণ ভালো,শুধু ব্যবহার খারাপ।আমি চোখে মাসুম বাচ্চাদের মতো হাসি ফুটিয়ে তুললাম।ভাইজান,মাত্র তিন টাকা বিল হয়ছে,এই টাকার জন্য ভাংতি কেমনে দিই?এক কাজ করেন,কার্ড নিয়া যান। ওই ব্যাটা,এত … বিস্তারিত পড়ুন

দুই বেড়ালের গপ্পো

তুমি কি গারফিল্ডকে চেনো? কিম্বা হিথক্লিফকে? ধরে নিলাম চেনো। হয়তো ভালোও বাসো মনে মনে। আমিও খুব ভালোবাসি ওদের। ওদের সব কিছু দৌরাত্মি ধরা পড়ে কমিকসে। আর সেইসব কান্ড আমরা সবাই খুব তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করি টক-মিষ্টি আচার খাবার মতো করে। তাই না? জানো তো গারফিল্ডের নাম গিনেস বুকেও পাওয়া যায়। পৃথিবীর হেন কাগজ নেই যেখানে … বিস্তারিত পড়ুন

পিপীলিকাভূকের পিছনে –জেরাল্ড ডারেল

আমাদের রুপুনুনি যাওয়ার একটা প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো একটা দৈত্য পিপীলিকাভূককে পাকড়াও করা, কারণ শুনেছিলুম এগুলোকে গায়ানার জঙ্গলের থেকে খোলা মাঠে ধরাটা অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই কারানাম্বো পৌঁছোবার পর তিন দিন ধরে আমরা পিঁপড়েখোর ছাড়া আর কিছু নিয়েই হ্যাজাইনি; শেষ অবধি ম্যাকটার্ক ভরসা দিলো যে সে ব্যাপারটা নিয়ে দেখছে। সেইমতো একদিন সকালে ব্রেকফাস্টের পরপর একটি বেঁটেখাটো আমেরিন্ডিয়ানের … বিস্তারিত পড়ুন

প্যাঁচাদের পাড়া –বৈজয়ন্ত চক্রবর্তী

সবাই জানত শুধু ঐ বাড়িটায় কোনো প্যাঁচা থাকে না। বাড়িটার আধোঅন্ধকার চৌহদ্দির বাইরে জড়াজড়ি হয়ে থাকা ঝুপসি আম পেয়ারা আর বেলগাছের সবুজ ডালপালায় সন্ধে নামতে না নামতেই পাটকিলে বুটিবুটি প্যাঁচাদের ঠেক বসে যেত। কিছু প্যাঁচা বসত করত হাড়পাঁজরা বের করে ঠাঠা হাসতে থাকা বাড়িগুলোর ঘুলঘুলিতে, আর ঠাকুরবাড়ির চাতালের ডানদিকে ভেঙে পড়া ঘরগুলোর কুলুঙ্গিতে। আমাদের মতো … বিস্তারিত পড়ুন

সৈয়দ মুজতবা আলী » চাচা কাহিনী » কাফে-দে-জেনি

রাত বারোটায় প্যারিসে থিয়েটার থেকে বেরিয়ে ভাবলুম যাই কোথায়? হোটেলে? তাও কি হয়! খাস প্যারিসের বাসিন্দা ছাড়া আর তো কেউ কখনো তিনটের আগে শুতে যায় না। আমার এক রুশ বন্ধুকে প্যারিসে সকাল হওয়ার আগে কখনও বাড়ি ফিরতে দেখিনি। রাত তিনটে-চারটের সময় যদি বলতুম, “রবের, চল, বাড়ি যাই” সে বেড়ালছানার মত আমার কোটের আস্তিন আঁকড়ে ধরে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!