রক্তাক্ত শৈশব”—শুচিস্মিতা দাস

ছোট্ট চারাগাছ টা ধীরে ধীরে ডাল পালা ছড়িয়ে বেড়ে উঠছে। পাতা গুলো সবুজ, আরও সবুজ হয়ে উঠছে দিনে দিনে। আমার শিশু সন্তানও সেইভাবেই একটু একটু করে বড়ো হয়ে উঠছে। প্রথমে বসতে শিখলো সে, তারপর দাঁড়াতে শিখলো। দেখতে দেখতে হাঁটতেও শিখে গেল একদিন। আমার ছোট্ট ছেলে যত বড় হল আমার মাথার মধ্যে একটাই চিন্তা সারাক্ষণ ঘুরপাক … বিস্তারিত পড়ুন

রাখী — সিক্তা দাস

“দিদি, দাও না বানিয়ে, আর ত মাত্র কয়েকটা দিন” সামনের সোমবারই রাখীপূর্ণিমা। মিমির একটাও রাখী তৈরী হয় নি। অথচ পঁচিশটা রাখী তো বানাতেই হবে কম করে। প্রত্যেকবার মিমির দিদি সুমি অনেক আগে থেকেই রাখী বানানো শুরু করে দেয় বোনের জন্য, ছোট্ট ছোট্ট মিষ্টি রঙিন সব রাখী। মিমি মহানন্দে ছোট্ট ব্যাগে ভরে সব রাখী নিয়ে চলে … বিস্তারিত পড়ুন

ভাইফোঁটা—১ম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরাও নাই। আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত … বিস্তারিত পড়ুন

কূলবধূ

সিরাজবাগের সদাশিব বাবু যেমন ধনী তেমনি মহৎ । নিজের কাজ ছাড়াও অন্য কোন মানুষের দরকারে অদরকারে ঝাঁপিয়ে পড়তে পিছুপা হন না তিনি । সৎ মানুষ হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম আছে,তাঁর নিজস্ব ব্যবসা । চুমকি আর জরির শাড়ির দোকান ।তার দোকানে প্রচুর খদ্দের নিত্যি ভীড় করে থাকে । বিভিন্ন শাড়িতে চুমকির কাজ করার জন্য প্রচুর অর্ডার … বিস্তারিত পড়ুন

হুমায়ুন আহমেদ এর একটি রহস্য গল্প।

রহস্য জাতীয় ব্যাপারগুলিতে আমার তেমন বিশ্বাস নেই। তবু প্রায়ই এ রকম কিছু গল্প-টল্প শুনতে হয়। গত মাসে ঝিকাতলার এক ভদ্রলোক আমাকে এসে বললেন, তার ঘরে একটি তক্ষক আছে – সেটি রোজ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনবার ডাকে। আমি বহু কষ্টে হাসি থামালাম। এ রকম সময়নিষ্ঠ তক্ষক আছে নাকি এ যুগে? ভদ্রলোক আমার নির্বিকার ভঙ্গি দেখে … বিস্তারিত পড়ুন

সেই ছেলেটি -রাকিব উদ্দীন

গ্রামের নাম করুনা নগর। খবুই সুন্দর গ্রাম। দেখতে ছবির মতো। এই গ্রামেরই পূর্ব কোণে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বসবাস। ভালোই জমিজমা আছে তাদের। উত্তরাধিকার সূত্রেই তারা এখানে বসবাস করে। অন্য আট-দশটি পরিবার থেকে ভিন্ন তাদের জীবনযাপন। বাবা এবং মা দু’জনই পেশায় শিক্ষকতা করেন। ১৫ নভেম্বর ১৯৯৫ সাল। রাত ১০টা। আকাশে এক ফালি চাঁদ হেসে আছে। এই … বিস্তারিত পড়ুন

পুত্রযজ্ঞ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে … বিস্তারিত পড়ুন

প্রতিবেশিনী– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা। তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না— পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না। আমার অন্তরঙ্গ … বিস্তারিত পড়ুন

ফেল–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার-বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না। নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও … বিস্তারিত পড়ুন

বিচারক-প্রথম পরিচ্ছেদ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল, সেও যখন তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল। তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্কার বোধ হইল। যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!