গুপ্তধন– ৪র্থ অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  যেমন বলা অমনি সেই ঘরের ভাঙা ভিত্তি হইতে একটা পাথর গড়াইয়া পড়িল আর সেইসঙ্গে আর-একটি কী সচেতন পদার্থ ধপ্‌ করিয়া পড়িয়া চিৎকার করিয়া উঠিল। সন্ন্যাসী এই অকস্মাৎ শব্দে চমকিয়া উঠিতেই তাহার হাত হইতে মশাল পড়িয়া নিবিয়া গেল। ৭ সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কে।” কোনো উত্তর পাইলেন না। তখন অন্ধকারে হাৎড়াইতে গিয়া তাহার হাতে একটি … বিস্তারিত পড়ুন

গুপ্তধন– ৫ম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  এক কালে বহুদিন যাহার সন্ধানে ফিরিয়াছিলাম তাহার যে নাগাল পাওয়া যাইতেছে তাহাতে আমার সন্দেহ রহিল না। আমি কহিলাম, ‘এখানে আর থাকা হইবে না, এ বন ছাড়িয়া চলিলাম।’ ” “কিন্তু ছাড়িয়া যাওয়া ঘটিল না। মনে হইল, দেখাই যাক-না, কী আছে। কৌতূহল একেবারে নিবৃত্ত করিয়া যাওয়াই ভালো। চিহ্নগুলো লইয়া অনেক আলোচনা করিলাম; কোনো ফল হইল না। … বিস্তারিত পড়ুন

গুপ্তধন– ৬ষ্ঠ অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গেলাম।” দেখিতে দেখিতে সন্ন্যাসী বাহির হইয়া আসিলেন, আর এই স্বর্ণভান্ডারের লৌহদ্বারে কপাট পড়িল। মৃত্যুঞ্জয় বারবার করিয়া এই স্বর্ণপুঞ্জ স্পর্শ করিয়া ঘরময় ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। ছোটো ছোটো স্বর্ণখণ্ড টানিয়া মেজের উপর ফেলিতে লাগিল, কোলের উপর তুলিতে লাগিল, একটার উপরে আর-একটা আঘাত করিয়া শব্দ করিতে লাগিল, সর্বাঙ্গের উপর বুলাইয়া তাহার স্পর্শ লইতে লাগিল। অবশেষে শ্রান্ত হইয়া … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–একাদশ পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সতীশ। মা, এখানে আমি যে কত সুখে আছি সে তো আমার কাপড়-চোপড় দেখেই বুঝতে পার। কিন্তু মেসোমশায় যতক্ষণ না আমাকে পোষ্যপুত্র গ্রহণ করেন ততক্ষণ নিশ্চিন্ত হতে পারছি নে। তুমি যে মাসহারা পাও আমার তো তাতে কোনো সাহায্য হবে না। অনেকদিন হতে নেব-নেব করেও আমাকে পোষ্যপুত্র নিচ্ছেন না— বোধ হয় ওঁদের মনে মনে সন্তানলাভের আশা এখনো … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–দ্বাদশ পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুকুমারী। সতীশ । সতীশ। কী মাসিমা । সুকুমারী। কাল যে তোমাকে খোকার কাপড় কিনে আনবার জন্য এত করে বললেম,অপমান বোধ হল বুঝি। সতীশ। অপমান কিসের মাসিমা। কাল ভাদুড়ি-সাহেবের ওখানে আমার নিমন্ত্রণ ছিল তাই— সুকুমারী। ভাদুড়ি-সাহেবের ওখানে তোমার এত ঘন ঘন যাতায়াতের দরকার কী, তা তো ভেবে পাই নে। তারা সাহেব মানুষ, তোমার মতো অবস্থার লোকের … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হরেন। দাদা, তুমি অনেকক্ষণ ধরে ও কী লিখছো, কাকে লিখছ বলো-না। সতীশ। যা যা, তোর সে খবরে কাজ কী, তুই খেলা কর্ গে যা। হরেন। দেখি-না কী লিখছ— আমি আজকাল পড়তে পারি। সতীশ। হরেন, তুই আমাকে বিরক্ত করিস নে বলছি— যা তুই। হরেন। ভয়ে আকার ভা, ল, ভাল, বয়ে আকার বা, সয়ে আকার সা, ভালোবাসা। … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–চতুর্দশ পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সতীশ । আমি তোমার কাছে বিদায় নিতে এসেছি , নেলি। নলিনী । কেন , কোথায় যাবে। সতীশ । জাহান্নমে। নলিনী । সে জায়গায় যাবার জন্য কি বিদায় নেবার দরকার হয়। যে লোক সন্ধান জানে সে তো ঘরে বসেই সেখানে যেতে পারে। আজ তোমার মেজাজটা এমন কেন। কলারটা বুঝি ঠিক হাল ফেশানের হয় নি ! সতীশ … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শশধর । আঃ, কী বল। তুমি কি পাগল হয়েছ নাকি। সুকুমারী । আমি পাগল না তুমি চোখে দেখতে পাও না ! শশধর । কোনোটাই আশ্চর্য নয়, দুটোই সম্ভব । কিন্তু — সুকুমারী । আমাদের হরেনের জন্ম হতেই দেখ নি, ওদের মুখ কেমন হয়ে গেছে। সতীশের ভাবখানা দেখে বুঝতে পার না ! শশধর । আমার অত … বিস্তারিত পড়ুন

একরাত্রি– ২য় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  তৎক্ষণাৎ দুখানি চোখ আমার মনে পড়িয়া গেল — বিশ্বাস , সরলতা এবং শৈশবপ্রীতিতে ঢলঢল দুখানি বড়ো বড়ো চোখ , কালো কালো তারা , ঘনকৃষ্ণ পল্লব , স্থিরস্নিগ্ধ দৃষ্টি । সহসা হৃৎপিণ্ডকে কে যেন একটা কঠিন মুষ্টির দ্বারা চাপিয়া ধরিল এবং বেদনায় ভিতরটা টন টন করিয়া উঠিল । বাসায় ফিরিয়া আসিলাম কিন্তু সেই ব্যথা লাগিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

কর্মফল–প্রথম পরিচ্ছেদ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন— সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। “এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।” শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন। সুকুমারী। তাই বটে, এমন রত্ন ঘরে রেখেও নিশ্চিন্ত … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!