দর্পহরণ– তৃতীয় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  বলা বাহুল্য , স্ত্রীর জ্বরভাব অতি সত্বর ছাড়িয়া গেল । আমার অন্তরাত্মা কহিতে লাগিল , ‘ আর সব ভালো হইল , কিন্তু তোমার বাংলা বিদ্যা সম্বন্ধে তোমার স্ত্রীর মনে এই-যে সংস্কার , এটা ভালো নয় । তিনি নিজেকে মস্ত বিদুষী বলিয়া ঠাওরাইয়াছেন — কোনোদিন-বা মশারির মধ্যে নাইট-স্কুল খুলিয়া তিনি তোমাকে বাংলা পড়াইবার চেষ্টা করিবেন … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– প্রথম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, “এমন স্বামীর মুখে আগুন।” শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল— স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না। অতএব এ সম্বন্ধে তিনি কিঞ্চিৎ সংকোচ প্রকাশ করাতে … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছেলেটির নাম হইল নীলমণি। তাহার বয়স যখন দুই বৎসর তখন তাহার পিতার কঠিন পীড়া হইল। অতি শীঘ্র চলিয়া আসিবার জন্য জয়গোপালের নিকট পত্র গেল। জয়গোপাল যখন বহু চেষ্টায় ছুটি লইয়া আসিয়া পৌঁছিল তখন কালীপ্রসন্নের মৃত্যুকাল উপস্থিত। মৃত্যুর পূর্বে কালীপ্রসন্ন নাবালক ছেলেটির তত্ত্বাবধানের ভার জয়গোপালের প্রতি অর্পণ করিয়া তাঁহার বিষয়ের সিকি অংশ কন্যার নামে লিখিয়া দিলেন। … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নীলমণির সমস্ত শরীরের মধ্যে মাথাটাই সর্বপ্রধান ছিল। দেখিলে মনে হইত, বিধাতা যেন একটা সরু কাঠির মধ্যে ফুঁ দিয়া তাহার ডগার উপরে একটা বড়ো বুদ্‌‌বুদ্ ফুটাইয়া তুলিয়াছেন। ডাক্তাররাও মাঝে মাঝে আশঙ্কা প্রকাশ করিত, ছেলেটি এইরূপ বুদ্‌বুদের মতোই ক্ষণভঙ্গুর ক্ষণস্থায়ী হইবে। অনেকদিন পর্যন্ত সে কথা কহিতে এবং চলিতে শেখে নাই। তাহার বিষন্ন গম্ভীর মুখ দেখিয়া বোধ হইত, … বিস্তারিত পড়ুন

চোরাই ধন– ৩য় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হাওয়ার বেগ বাড়তে চলল , বৃষ্টির বিরাম নেই । সুনেত্রাকে বললেম , “ আলোটা লাগছে চোখে , নিবিয়ে দিই । ” নিবিয়ে দিলেম । বৃষ্টিধারার মধ্যে দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পের ঝাপসা আভা এল অন্ধকার ঘরে । সোফার উপরে সুনেত্রাকে বসালেম আমার পাশে । বললেম , “ সুনি , আমাকে তোমার যথার্থ দোসর বলে মান তুমি ? … বিস্তারিত পড়ুন

ঙানির গল্প

অফিসে যাচ্ছিলাম। গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল ট্রাফিক সিগন্যালে। গাড়ির জানালায় টোকা দিচ্ছিল এক ভিক্ষুক। কাচের গায়ে তার আঙুলের ডগার মৃদু আঘাতের শব্দ নরম: টুক্ টুক্ টুক্। জুলজুলে চোখে সে তাকিয়ে ছিল আমার মুখের দিকে। তার চোখ হলুদ, চোখের কোণে লেগে-থাকা পিঁচুটিও হলদেটে। ঠোঁট ফাটা, বাম গালে বিরাট এক কাটা দাগ, চোয়াল তেড়া, নাক বাঁকা। তার ময়লা … বিস্তারিত পড়ুন

পতিদাহ

একটু আগে শ্রীমতী মৃণালিনী দেবীর আত্মারাম খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে গেল। বেরোনোর আগে তার অবিনশ্বর আত্মাকে নশ্বর দেহের নির্দিষ্ট কোটরে আটকে রাখার জন্য হোমিওপ্যাথ ও অ্যালোপ্যাথ প্রচেষ্টার কোনো ত্রুটি করা হয়নি। ২৬ দিন আগে ২৯ অক্টোবর যখন তার জন্য বেডপ্যান কেনা হয়, তখনই আশঙ্কা জেগেছিল ভব বোধ হয় আর টিকবে না। তার স্বামী রবি কোনো দিনও … বিস্তারিত পড়ুন

বলা গল্প ফিরতি বলা

গল্পটা আষাঢ়ে হলেও ঘটনাটা আষাঢ় মাসের নয়। ঘটেছিল জোষ্ঠি মাসে। যশোরের নাভারন, ঝিকরগাছা ইত্যাদি পেরিয়ে গদখালীর মাঠ—একটা ছোট স্টেশন। ট্রেন দাঁড়ায় কি দাঁড়ায় না। সকালে-বিকেলে দু-চারজন মানুষকে উঠতে-নামতে দেখা গেলেও দুপুরে প্রায়ই অকারণে ট্রেন ক্যাঁচ শব্দে দাঁড়ায়; তারপর ক্যাঁচকোচ শব্দে লোহায় লোহায় ঘষাঘষির আওয়াজ করতে করতে ছাড়ে। ট্রেন চলে গেলে স্টেশনের ভাঙা-ফাটা ইটের ঘরটা নির্জনে … বিস্তারিত পড়ুন

লালু-২ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

তার ডাকনাম ছিল লালু। ভাল নাম অবশ্য একটা ছিলই, কিন্তু মনে নেই। জানো বোধ হয়, হিন্দীতে ‘লাল’ শব্দটার অর্থ হচ্ছে—প্রিয়। এ-নাম কে তারে দিয়েছিল জানিনে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে নামের এমন সঙ্গতি কদাচিৎ মেলে। সে ছিল সকলের প্রিয়। ইস্কুল ছেড়ে আমরা গিয়ে কলেজে ভর্তি হলাম, লালু বললে, সে ব্যবসা করবে। মায়ের কাছে দশ টাকা চেয়ে নিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

লালু-৩ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আমাদের শহরে তখন শীত পড়েছে, হঠাৎ কলেরা দেখা দিলে। তখনকার দিনে ওলাউঠার নামে মানুষে ভয়ে হতজ্ঞান হতো। কারও কলেরা হয়েছে শুনতে পেলে সে-পাড়ায় মানুষ থাকতো না। মারা গেলে দাহ করার লোক মেলা দুর্ঘট হতো। কিন্তু সে দুর্দিনেও আমাদের ওখানে একজন ছিলেন যাঁর কখনো আপত্তি ছিল না। গোপালখুড়ো তাঁর নাম, জীবনের ব্রত ছিল মড়া-পোড়ানো। কারও অসুখ … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!