তপস্বিনী– চতুর্থ অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  হইতেছিল ষোড়শী তাহা পূরণ করিয়া দিল। ষোড়শীর গহনা আর বড়োকিছু বাকি রহিল না, এবং তার মাসহারার টাকা প্রতি মাসে সেই অন্তর্হিত গহনাগুলোর অনুসরণ করিল।বাড়ির ডাক্তার অনাদি আসিয়া মাখনকে কহিলেন, “দাদা, করছ কী। মেয়েটা যে মারা যাবে।” মাখন উদ্‌বিগ্ন মুখে বলিলেন, “তাই তো, কী করি।” ষোড়শীর কাছে তাঁর আর সাহস নাই। এক সময়ে অত্যন্ত মৃদুস্বরে … বিস্তারিত পড়ুন

দর্পহরণ– প্রথম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  কী করিয়া গল্প লিখিতে হয়, তাহা সম্প্রতি শিখিয়াছি । বঙ্কিমবাবু এবং সার ওয়াল্‌টার স্কট পড়িয়া আমার বিশেষ ফল হয় নাই । ফল কোথা হইতে কেমন করিয়া হইল , আমার এই প্রথম গল্পেই সেই কথাটা লিখিতে বসিলাম । আমার পিতার মতামত অনেকরকম ছিল ; কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো মত তিনি কেতাব বা স্বাধীনবুদ্ধি হইতে গড়িয়া … বিস্তারিত পড়ুন

দর্পহরণ– দ্বিতীয় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তাহাকে যথোচিত সংযত করিয়াছি । আমি ইংরাজি বড়ো বড়ো লেখকের লেখা দেখাইয়া তাহাকে অভিভূত করিতে ছাড়ি নাই । সে কোকিলের উপর একটা-কী লিখিয়াছিল , আমি শেলির স্কাইলার্ক্ ও কীট্‌সের নাইটিঙ্গেল শুনাইয়া তাহাকে একপ্রকার নীরব করিয়া দিয়াছিলাম । তখন বিদ্যার জোরে আমিও যেন শেলি ও কীট্‌সের গৌরবের কতকটা ভাগী হইয়া পড়িতাম । আমার স্ত্রীও ইংরেজি সাহিত্য … বিস্তারিত পড়ুন

দর্পহরণ– তৃতীয় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  বলা বাহুল্য , স্ত্রীর জ্বরভাব অতি সত্বর ছাড়িয়া গেল । আমার অন্তরাত্মা কহিতে লাগিল , ‘ আর সব ভালো হইল , কিন্তু তোমার বাংলা বিদ্যা সম্বন্ধে তোমার স্ত্রীর মনে এই-যে সংস্কার , এটা ভালো নয় । তিনি নিজেকে মস্ত বিদুষী বলিয়া ঠাওরাইয়াছেন — কোনোদিন-বা মশারির মধ্যে নাইট-স্কুল খুলিয়া তিনি তোমাকে বাংলা পড়াইবার চেষ্টা করিবেন … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– প্রথম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, “এমন স্বামীর মুখে আগুন।” শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল— স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না। অতএব এ সম্বন্ধে তিনি কিঞ্চিৎ সংকোচ প্রকাশ করাতে … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছেলেটির নাম হইল নীলমণি। তাহার বয়স যখন দুই বৎসর তখন তাহার পিতার কঠিন পীড়া হইল। অতি শীঘ্র চলিয়া আসিবার জন্য জয়গোপালের নিকট পত্র গেল। জয়গোপাল যখন বহু চেষ্টায় ছুটি লইয়া আসিয়া পৌঁছিল তখন কালীপ্রসন্নের মৃত্যুকাল উপস্থিত। মৃত্যুর পূর্বে কালীপ্রসন্ন নাবালক ছেলেটির তত্ত্বাবধানের ভার জয়গোপালের প্রতি অর্পণ করিয়া তাঁহার বিষয়ের সিকি অংশ কন্যার নামে লিখিয়া দিলেন। … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নীলমণির সমস্ত শরীরের মধ্যে মাথাটাই সর্বপ্রধান ছিল। দেখিলে মনে হইত, বিধাতা যেন একটা সরু কাঠির মধ্যে ফুঁ দিয়া তাহার ডগার উপরে একটা বড়ো বুদ্‌‌বুদ্ ফুটাইয়া তুলিয়াছেন। ডাক্তাররাও মাঝে মাঝে আশঙ্কা প্রকাশ করিত, ছেলেটি এইরূপ বুদ্‌বুদের মতোই ক্ষণভঙ্গুর ক্ষণস্থায়ী হইবে। অনেকদিন পর্যন্ত সে কথা কহিতে এবং চলিতে শেখে নাই। তাহার বিষন্ন গম্ভীর মুখ দেখিয়া বোধ হইত, … বিস্তারিত পড়ুন

দিদি– চতুর্থ পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শীতকালে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব মফঃস্বল পর্যবেক্ষণে বাহির হইয়া শিকার সন্ধানে গ্রামের মধ্যে তাঁবু ফেলিয়াছেন। গ্রামের পথে সাহেবের সঙ্গে নীলমণির সাক্ষাৎ হয়। অন্য বালকেরা তাঁহাকে দেখিয়া চাণক্যশ্লোকের কিঞ্চিৎ পরিবর্তনপূর্বক নখী দন্তী শৃঙ্গী প্রভৃতির সহিত সাহেবকেও যোগ করিয়া যথেষ্ট দূরে সরিয়া গেল। কিন্তু, সুগম্ভীরপ্রকৃতি নীলমণি অটল কৌতূহলের সহিত প্রশান্তভাবে সাহেবকে নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিল। সাহেব সকৌতুকে কাছে আসিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

জীবিত ও মৃত–প্রথম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না ; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে । পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই , পতিও নাই পুত্রও নাই । একটি ভাশুরপো , শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি , সেই তাহার চক্ষের মণি । সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল , সেইজন্য এই বিধবা … বিস্তারিত পড়ুন

জীবিত ও মৃত–দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সকলেই জানেন , জীবনের যখন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় না তখনো অনেক সময় জীবন প্রচ্ছন্নভাবে থাকে , এবং সময়মতো পুনর্বার মৃতবৎ দেহে তাহার কার্য আরম্ভ হয় । কাদম্বিনীও মরে নাই — হঠাৎ কী কারণে তাহার জীবনের ক্রিয়া বন্ধ হইয়া গিয়াছিল । যখন সে সচেতন হইয়া উঠিল , দেখিল, চতুর্দিকে নিবিড় অন্ধকার । চিরাভ্যাসমতো যেখানে শয়ন … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!