সাদা লাঠি

প্রতিটা সন্ধ্যায়-এখানে- শুরু হয় নতুন দিন। সাধারণতঃ মানুষের দিনের শুরু হয় ভোরে। পরীক্ষার্থী ছাত্র আর সদ্য দম্পতির জন্যে দিনের আরম্ভ দেরীতে হতে পারে কিছুটা, পত্রিকা হকার আর মসজিদগামী কিছু মানুষের আবার দিনের শুরু হয় খুব ভোরে। বাবা বলতেন- ঈশ্বর বেহেশতের দরজা খুলে রাখেন ঠিক সূর্যোদয়ের মুহুর্তে। বেহেশতের বাতাসে দিন শুরুর লোভে অবশ্য খুব বেশি মানুষ … বিস্তারিত পড়ুন

স্ত্রীর পত্র– চতুর্থ অংশ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্বামী সে রাত্রে ঠাণ্ডা ছিল। কিন্তু , ভয়ে বিন্দুর শরীর যেন কাঠ হয়ে গেল। স্বামী যখন ঘুমিয়েছে অনেক রাত্রে সে অনেক কৌশলে পালিয়ে চলে এসেছে তার বিস্তারিত বিবরণ লেখবার দরকার নেই। ঘৃণায় রাগে আমার সকল শরীর জ্বলতে লাগল। আমি বললুম, “এমন ফাঁকির বিয়ে বিয়েই নয়। বিন্দু, তুই যেমন ছিলি তেমনি আমার কাছে থাক্‌, দেখি তোকে … বিস্তারিত পড়ুন

স্ত্রীর পত্র– পঞ্চম অংশ–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যাক, শান্তি হল। দেশসুদ্ধ লোক চটে উঠল। বলতে লাগল, “মেয়েদের কাপড়ে আগুন লাগিয়ে মরা একটা ফ্যাশান হয়েছে।” তোমরা বললে, “এ-সমস্ত নাটক করা।” তা হবে। কিন্তু নাটকের তামাশাটা কেবল বাঙালি মেয়েদের শাড়ির উপর দিয়েই হয় কেন, আর বাঙালি বীরপুরুষদের কোঁচার উপর দিয়ে হয় না কেন, সেটাও তো ভেবে দেখা উচিত। বিন্দিটার এমনি পোড়া কপাল বটে! যতদিন … বিস্তারিত পড়ুন

হৈমন্তী– প্রথম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই … বিস্তারিত পড়ুন

হৈমন্তী– দ্বিতীয় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যেন ঘুষ দিতেছেন, এমনিভাবে আমার হাতে একখানা একশো টাকার নোট গুঁজিয়া দিয়াই আমার শ্বশুর দ্রুত প্রস্থান করিলেন; আমার প্রণাম লইবার জন্য সবুর করিলেন না। পিছন হইতে দেখিতে পাইলাম , এইবার পকেট হইতে রুমাল বাহির হইল । আমি স্তব্ধ হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম । মনে বুঝিলাম , ইহারা অন্য জাতের মানুষ। বন্ধুদের অনেককেই তো বিবাহ করিতে … বিস্তারিত পড়ুন

হৈমন্তী– তৃতীয় অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হৈম তাহার বাপের কাছ হইতে যত চিঠি পাইত সমস্ত আমাকে পড়িতে দিত। চিঠিগুলি ছোটো কিন্তু রসে ভরা। সেও বাপকে যত চিঠি লিখিত সমস্ত আমাকে দেখাইত। বাপের সঙ্গে তাহার সম্বন্ধটি আমার সঙ্গে ভাগ করিয়া না লইলে তাহার দাম্পত্য যে পূর্ণ হইতে পারিত না। তাহার চিঠিতে শ্বশুরবাড়ি সম্বন্ধে কোনো নালিশের ইশারাটুকুও ছিল না। থাকিলে বিপদ ঘটিতে পারিত। … বিস্তারিত পড়ুন

সমাপ্তি–তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অপূর্ব সমস্তদিন নানা ছুতা করিয়া অন্তঃপুরে মার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেল না। বাহিরে নিমন্ত্রণ ছিল, খাইয়া আসিল। অপূর্বর মতো এমন একজন কৃতবিদ্য গম্ভীর ভাবুক লোক একটি সামান্য অশিক্ষিতা বালিকার কাছে আপনার লুপ্ত গৌরব উদ্ধার করিবার, আপনার আন্তরিক মাহাত্ম্যের পরিপূর্ণ পরিচয় দিবার জন্য কেন যে এতটা বেশি উৎকণ্ঠিত হইয়া উঠিবে তাহা বুঝা কঠিন। একটি পাড়াগাঁয়ের চঞ্চল … বিস্তারিত পড়ুন

সমাপ্তি–চতুর্থ পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কিন্তু তথাপি বিবাহ করিতে হইল। তার পরে শিক্ষা আরম্ভ হইল। একরাত্রির মধ্যে মৃন্ময়ীর সমস্ত পৃথিবী অপূর্ব মার অন্তঃপুরে আসিয়া আবদ্ধ হইয়া গেল। শাশুড়ী সংশোধনকার্যে প্রবৃত্ত হইলেন। অত্যন্ত কঠিন মুখ করিয়া কহিলেন, “দেখো বাছা, তুমি কিছু আর কচি খুকি নও, আমাদের ঘরে অমন বেহায়াপনা করিলে চলিবে না।” শাশুড়ী যে ভাবে বলিলেন মৃন্ময়ী সেভাবে কথাটা গ্রহণ করিল … বিস্তারিত পড়ুন

সমাপ্তি–পঞ্চম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেদিন সমস্তদিন বাহিরে ঝড়বৃষ্টি এবং ঘরের মধ্যেও অনুরূপ দুর্যোগ চলিতে লাগিল। তাহার পরদিন গভীর রাত্রে অপূর্ব মৃন্ময়ীকে ধীরে ধীরে জাগ্রত করিয়া কহিল, “মৃন্ময়ী, তোমার বাবার কাছে যাবে? ” মৃন্ময়ী সবেগে অপূর্বর হাত চাপিয়া ধরিয়া সচকিত হইয়া কহিল, “যাব।” অপূর্ব চুপিচুপি কহিল “তবে এসো, আমরা দুজনে আস্তে আস্তে পালিয়ে যাই। আমি ঘাটে নৌকা ঠিক করে রেখেছি।” … বিস্তারিত পড়ুন

সমাপ্তি–ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই অপরাধিযুগল গৃহে ফিরিয়া আসিলে মা অত্যন্ত গম্ভীরভাবে রহিলেন, কোনো কথা কহিলেন না। কাহারও ব্যবহারের প্রতি এমন কোনো দোষারোপ করিলেন না যাহা সে ক্ষালন করিতে চেষ্টা করিতে পারে। এই নীরব অভিযোগ নিস্তব্ধ অভিমান লৌহভারের মতো সমস্ত ঘরকন্নার উপর অটলভাবে চাপিয়া রহিল। অবশেষে অসহ্য হইয়া উঠিলে অপূর্ব আসিয়া কহিল, “মা, কালেজ খুলেছে, এখন আমাকে আইন পড়তে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!