আরো-সত্য–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দাদামশায়, সেদিন তুমি যে আরো-সত্যির কথা বলছিলে, সে কি কেবল পরীস্থানেই দেখা যায়। আমি বললুম, তা নয় গো, এ পৃথিবীতেও তার অভাব নেই। তাকিয়ে দেখলেই হয়। তবে কিনা সেই দেখার চাউনি থাকা চাই। তা, তুমি দেখতে পাও? আমার ঐ গুণটাই আছে, যা না দেখবার তাই হঠাৎ দেখে ফেলি। তুমি যখন বসে বসে ভূগোল-বিবরণ মুখস্থ কর … বিস্তারিত পড়ুন

পান্নালাল — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের। জান, দিদি? পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই। আমার দলে একজন পাগল ছিল, তার নাম ত্রিলোচন দাস। সে … বিস্তারিত পড়ুন

ভালোমানুষ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ। কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে। এইবার ঠিক প্রশ্নটা এসেছে তোমার মুখে। ভালোমানুষ তাকেই বলে যে অন্যায়ের কাছেও নিজের দখল ছেড়ে দেয়, দরাজ হাতের গুণে নয়, মনের … বিস্তারিত পড়ুন

বিজ্ঞানী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–প্রথম অংশ

দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে। এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক’জন লোকে দিতে পারে। তোমার হেঁয়ালি রাখো। অমন এলোমেলো আলুথালু অগোছালো লোককে মেয়েরা দেখতে পারে না। ওটা তো হল সার্টিফিকেট, অর্থাৎ লোকটা খাঁটি পুরুষমানুষ। জান না তুমি, উনি কথায় কথায় কী রকম হুলুস্থূল বাধিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

বিজ্ঞানী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–দ্বিতীয় অংশ

তা, তোমার নোট-বইটা বের করো-না। মুশকিল হয়েছে যে, তিন দিন ধরে নোট-বইটা খুঁজে পাচ্ছি না। ভাগ্নে বললে, মামা, মনে নেই? সেটা যে তুমি দিদিকে দিয়েছিলে স্কুলের কপি লিখতে। তোর দিদি কোথায় গেল। তিনি তো গেছেন এলাহাবাদে মেসোমশায়ের বাড়িতে। মুশকিলে ফেললি দেখছি। এখন কোথায় খুঁজে পাই, কোন্‌ গলি, কোন্‌ নম্বর। এমন সময়ে এসে পড়ল নিমচাঁদ হালদারের … বিস্তারিত পড়ুন

চণ্ডী– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিদি, তুমি বোধ হয় ও পাড়ার চণ্ডীবাবুকে জান? জানি নে! তিনি যে ডাকসাইটে নিন্দুক। বিধাতার কারখানায় খাঁটি জিনিস তৈরি হয় না, মিশল থাকেই। দৈবাৎ এক-একজন উতরে যায়। চণ্ডী তারই সেরা নমুনা। ওর নিন্দুকতায় ভেজাল নেই। জান তো, আমি আর্টিস্ট-মানুষ। সেইজন্যে এরকম খাঁটি জিনিস আমার দরবারে জুটিয়ে আনি। একেবারে লোকটা জীনিয়স বললেই হয়। একটা এড়িয়ে গেলে … বিস্তারিত পড়ুন

ম্যাজিশিয়ান– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে। জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর। আমার ভালো লাগে না মনে করতে যে, আমি তোমার সময় নষ্ট করে দিচ্ছি। ভাগ্যবান মানুষেরই যোগ্য লোক জোটে সময় নষ্ট করে … বিস্তারিত পড়ুন

ম্যানেজারবাবু — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না। তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন। যে লোকটার কথা বলব সে চিতোর থেকে আসে নি কোনো রানা-মহারানার দল ছেড়ে— চিতোর থেকে না এলে বুঝি গল্প হয় না? হয় বৈকি— সেইটাই তো প্রমাণ করা চাই। এই মানুষটা ছিল সামান্য একজন জমিদারের সামান্য পাইক। এমন-কি, … বিস্তারিত পড়ুন

রাজার বাড়ি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল। ছিল বৈকি, তোর চেয়ে বেশি ছিল। থমকে গেল কুসমি। অল্প একটু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললে, ওঃ, তাই বুঝি তোমাকে এত করে বশ করেছিলেন? তুই যে উল্টো কথা বললি, বুদ্ধি দিয়ে কেউ কাউকে বশ করে? তবে? করে অবুদ্ধি দিয়ে। সকলেরই মধ্যে এক জায়গায় বাসা করে থাকে একটা … বিস্তারিত পড়ুন

চন্দনী — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ করে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!