ধ্বংস — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিদি, তোমাকে একটা হালের খবর বলি। প্যারিস শহরের অল্প একটু দূরে ছিল তাঁর ছোটো বাসাটি। বাড়ির কর্তার নাম পিয়ের শোপ্যাঁ। তাঁর সারা জীবনের শখ ছিল গাছপালার জোড় মিলিয়ে, রেণু মিলিয়ে, তাদের চেহারা, তাদের রঙ, তাদের স্বাদ বদল করে নতুন রকমের সৃষ্টি তৈরি করতে। তাতে কম সময় লাগত না। এক-একটি ফুলের ফলের স্বভাব বদলাতে বছরের পর … বিস্তারিত পড়ুন

বড়ো খবর— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম করে, দাদামশায়। দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ। সেগুলো বাদ দাও-না। বাদ দিলে খুব অল্প একটু বাকি থাকবে, তখন তোমার মনে হবে ছোটো খবর। কিন্তু আসলে সে’ই … বিস্তারিত পড়ুন

মুনশি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন। এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে। ফের অমন কথা যদি তুমি বল, তা হলে তোমার সঙ্গে কথা বন্ধ করব। সর্বনাশ, তার চেয়ে যে মিথ্যে কথা বলাও ভালো। তোমার দাদামশায় যখন স্কুল-পালানে ছেলে ছিল তখন মুনশিজি ছিলেন, ঠিক … বিস্তারিত পড়ুন

আরো-সত্য–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দাদামশায়, সেদিন তুমি যে আরো-সত্যির কথা বলছিলে, সে কি কেবল পরীস্থানেই দেখা যায়। আমি বললুম, তা নয় গো, এ পৃথিবীতেও তার অভাব নেই। তাকিয়ে দেখলেই হয়। তবে কিনা সেই দেখার চাউনি থাকা চাই। তা, তুমি দেখতে পাও? আমার ঐ গুণটাই আছে, যা না দেখবার তাই হঠাৎ দেখে ফেলি। তুমি যখন বসে বসে ভূগোল-বিবরণ মুখস্থ কর … বিস্তারিত পড়ুন

পান্নালাল — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দাদামশায়, তোমার পাগলের দলের মধ্যে পান্নালাল ছিল খুব নতুন রকমের। জান, দিদি? পাগলরা প্রত্যেকেই নতুন, কারও সঙ্গে কারও মিল হয় না। যেমন তোমার দাদামশায়। বিধাতার নতুন পরীক্ষা। ছাঁচ তিনি ভেঙে ফেলেন। সাধারণ লোকের বুদ্ধিতে মিল হয়, অসাধারণ পাগলের মিল হয় না। তোমাকে একটা উদাহরণ দেখাই। আমার দলে একজন পাগল ছিল, তার নাম ত্রিলোচন দাস। সে … বিস্তারিত পড়ুন

ভালোমানুষ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ। কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে। এইবার ঠিক প্রশ্নটা এসেছে তোমার মুখে। ভালোমানুষ তাকেই বলে যে অন্যায়ের কাছেও নিজের দখল ছেড়ে দেয়, দরাজ হাতের গুণে নয়, মনের … বিস্তারিত পড়ুন

বিজ্ঞানী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–প্রথম অংশ

দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে। এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক’জন লোকে দিতে পারে। তোমার হেঁয়ালি রাখো। অমন এলোমেলো আলুথালু অগোছালো লোককে মেয়েরা দেখতে পারে না। ওটা তো হল সার্টিফিকেট, অর্থাৎ লোকটা খাঁটি পুরুষমানুষ। জান না তুমি, উনি কথায় কথায় কী রকম হুলুস্থূল বাধিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

বিজ্ঞানী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–দ্বিতীয় অংশ

তা, তোমার নোট-বইটা বের করো-না। মুশকিল হয়েছে যে, তিন দিন ধরে নোট-বইটা খুঁজে পাচ্ছি না। ভাগ্নে বললে, মামা, মনে নেই? সেটা যে তুমি দিদিকে দিয়েছিলে স্কুলের কপি লিখতে। তোর দিদি কোথায় গেল। তিনি তো গেছেন এলাহাবাদে মেসোমশায়ের বাড়িতে। মুশকিলে ফেললি দেখছি। এখন কোথায় খুঁজে পাই, কোন্‌ গলি, কোন্‌ নম্বর। এমন সময়ে এসে পড়ল নিমচাঁদ হালদারের … বিস্তারিত পড়ুন

চণ্ডী– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিদি, তুমি বোধ হয় ও পাড়ার চণ্ডীবাবুকে জান? জানি নে! তিনি যে ডাকসাইটে নিন্দুক। বিধাতার কারখানায় খাঁটি জিনিস তৈরি হয় না, মিশল থাকেই। দৈবাৎ এক-একজন উতরে যায়। চণ্ডী তারই সেরা নমুনা। ওর নিন্দুকতায় ভেজাল নেই। জান তো, আমি আর্টিস্ট-মানুষ। সেইজন্যে এরকম খাঁটি জিনিস আমার দরবারে জুটিয়ে আনি। একেবারে লোকটা জীনিয়স বললেই হয়। একটা এড়িয়ে গেলে … বিস্তারিত পড়ুন

ম্যাজিশিয়ান– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, শুনেছি এক সময়ে তুমি বড়ো বড়ো কথা নিয়ে খুব বড়ো বড়ো বই লিখেছিলে। জীবনে অনেক দুষ্কর্ম করেছি, তা কবুল করতে হবে। ভারতচন্দ্র বলেছেন, সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর। আমার ভালো লাগে না মনে করতে যে, আমি তোমার সময় নষ্ট করে দিচ্ছি। ভাগ্যবান মানুষেরই যোগ্য লোক জোটে সময় নষ্ট করে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!