প্রথম শোক– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা। সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, “আমাকে চিনতে পার না? ” আমি ফিরে তার মুখের দিকে তাকালেম। বললেম, “মনে পড়ছে, কিন্তু ঠিক নাম করতে পারছি নে।” সে বললে, “আমি তোমার সেই অনেক কালের, সেই পঁচিশ বছর বয়সের শোক।” তার চোখের কোণে একটু ছলছলে আভা … বিস্তারিত পড়ুন

একটি চাউনি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে। এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে। দণ্ড পল মুহূর্ত অহরহ পা ফেলবে না, এমন একটু জায়গা আমি পাই কোথায়। মেঘের সকল সোনার রঙ যে সন্ধ্যায় মিলিয়ে যায় এই চাউনি কি সেই সন্ধ্যায় মিলিয়ে যাবে। নাগকেশরের সকল সোনালি রেণু যে বৃষ্টিতে … বিস্তারিত পড়ুন

কর্তার ভূত– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, “তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।” শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, “আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে?” তা ব’লে মরণ তো এড়াবার জো নেই। তবু দেবতা দয়া করে বললেন, “ভাবনা কী। লোকটা ভূত হয়েই এদের ঘাড়ে চেপে থাক্‌-না। মানুষের মৃত্যু আছে, ভূতের তো মৃত্যু নেই।” ২ দেশের … বিস্তারিত পড়ুন

গলি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি। উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়— ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা। সেই ছাঁটা আকাশটাকে জিজ্ঞাসা … বিস্তারিত পড়ুন

গল্প– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, “গল্প বলো।” দিদিমা বলতে শুরু করলেন, “এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর—” গুরুমশায় হেঁকে বললেন, “তিন-চারে বারো।” কিন্তু তখন তার চেয়ে বড়ো হাঁক দিয়েছে রাক্ষসটা “হাঁউ মাউ খাঁউ” —নামতার হুংকার ছেলেটার কানে পৌঁছয় না। যারা হিতৈষী তারা ছেলেকে ঘরে বন্ধ করে গম্ভীর স্বরে বললে, “তিন-চারে বারো এটা হল … বিস্তারিত পড়ুন

ঘোড়া– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সৃষ্টির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজে ব’লে, হেনকালে ব্রহ্মার মাথায় একটা ভাবোদয় হল। ভাণ্ডারীকে ডেকে বললেন, “ওহে ভাণ্ডারী, আমার কারখানাঘরে কিছু কিছু পঞ্চভূতের জোগাড় করে আনো, আর-একটা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করব।” ভাণ্ডারী হাত জোড় করে বললে, “পিতামহ, আপনি যখন উৎসাহ করে হাতি গড়লেন, তিমি গড়লেন, অজগর সর্প গড়লেন, সিংহ ব্যাঘ্র গড়লেন, তখন … বিস্তারিত পড়ুন

নতুন পুতুল– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে। বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে। যখন তার বয়স হল প্রায় চার কুড়ি, এমন সময় মেলায় এক নতুন কারিগর এল। তার নাম কিষণলাল, বয়স তার নবীন, নতুন তার কায়দা। যে পুতুল সে … বিস্তারিত পড়ুন

নামের খেলা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে। বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ। একে একে লেখাগুলিকে কাগজে পাঠাতে লাগল। কোথাও ছাপা হল না। মনে মনে সে স্থির করলে, যখন হাতে টাকা জমবে তখন নিজে কাগজ … বিস্তারিত পড়ুন

পট– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারও কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যবসা। সে মনে ভাবে, ‘ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।’ এমন সময় দেশের রাজমন্ত্রী মারা গেল। … বিস্তারিত পড়ুন

পরীর পরিচয়– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে। ঘটক বললে, “বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।” রাজপুত্র মুখ ফিরিয়ে থাকে, জবাব করে না। দূত এসে বললে, “গান্ধাররাজের মেয়ের অঙ্গে অঙ্গে লাবণ্য ফেটে পড়ছে, যেন দ্রাক্ষালতায় আঙুরের গুচ্ছ।” রাজপুত্র শিকারের ছলে বনে চলে যায়। দিন যায়, সপ্তাহ যায়, ফিরে আসে না। … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!