প্রশ্ন– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শ্মশান হতে বাপ ফিরে এল। তখন সাত বছরের ছেলেটি— গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ—একলা গলির উপরকার জানলার ধারে। কী ভাবছে তা সে আপনি জানে না। সকালের রৌদ্র সামনের বাড়ির নিম গাছটির আগডালে দেখা দিয়েছে; কাঁচাআমওয়ালা গলির মধ্যে এসে হাঁক দিয়ে দিয়ে ফিরে গেল। বাবা এসে খোকাকে কোলে নিলে; খোকা জিজ্ঞাসা করলে, “মা কোথায়।” বাবা উপরের … বিস্তারিত পড়ুন

প্রাণমন— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– প্রথম অংশ

আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা। ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে। কিন্তু, মানুষের চলাচলের পথে আজ আমার মন নেই। জীবনের যে ভাগটা অস্থির, নানা ভাবনায় উদ‍্‍বিগ্ন, নানা চেষ্টায় চঞ্চল, সেটা আজ ঢাকা পড়ে গেছে। শরীর আজ রুগ‍্‍ণ, মন আজ নিরাসক্ত। ঢেউয়ের … বিস্তারিত পড়ুন

প্রাণমন— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– দ্বিতীয় অংশ

“ওর কালও ঘটনার কাল নয়, বেদনার কাল। তাই সে কাল সংখ্যার অতীত।” “দুই আকাশ দুই কালের জীব তুমি, তুমি অদ্ভুত। তোমার ভিতরের কথা কিচ্ছুই বুঝলেম না।” “নাই বা বুঝলে।” “আমার বাইরের কথা তুমিই কি ঠিক বোঝ।” “তোমার বাইরের কথা আমার ভিতরে এসে যে কথা হয়ে ওঠে তাকে যদি বোঝা বল তো সে বোঝা, যদি গান … বিস্তারিত পড়ুন

বাঁশি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঁশির বাণী চিরদিনের বাণী—শিবের জটা থেকে গঙ্গার ধারা, প্রতি দিনের মাটির বুক বেয়ে চলেছে; অমরাবতীর শিশু নেমে এল মর্তের ধূলি দিয়ে স্বর্গ-স্বর্গ খেলতে। পথের ধারে দাঁড়িয়ে বাঁশি শুনি আর মন যে কেমন করে বুঝতে পারি নে। সেই ব্যথাকে চেনা সুখদুঃখের সঙ্গে মেলাতে যাই, মেলে না। দেখি, চেনা হাসির চেয়ে সে উজ্জ্বল, চেনা চোখের জলের চেয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

বাণী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে বলে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে। তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই— আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী। কিন্তু, কোন্ দেবতার … বিস্তারিত পড়ুন

বিদূষক— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১ কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনা-মানিকে হাতি বোঝাই হল। দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন। পুজো দিয়ে চলে আসছেন— গায়ে রক্তবস্ত্র, গলায় জবার মালা, কপালে রক্তচন্দনের তিলক; সঙ্গে কেবল মন্ত্রী আর বিদূষক। এক জায়গায় দেখলেন, পথের ধারে আমবাগানে ছেলেরা খেলা … বিস্তারিত পড়ুন

ভুল স্বর্গ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লোকটি নেহাত বেকার ছিল। তার কোনো কাজ ছিল না, কেবল শখ ছিল নানা রকমের। ছোটো ছোটো কাঠের চৌকোয় মাটি ঢেলে তার উপরে সে ছোটো ঝিনুক সাজাত। দূর থেকে দেখে মনে হত যেন একটা এলোমেলো ছবি, তার মধ্যে পাখির ঝাঁক; কিংবা এবড়ো-খেবড়ো মাঠ, সেখানে গোরু চরছে; কিংবা উঁচুনিচু পাহাড়, তার গা দিয়ে ওটা বুঝি ঝরনা হবে, … বিস্তারিত পড়ুন

মীনু– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব। বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, “এও বাঁচে কি না-বাঁচে।” তখন তাকে কলকাতায় নিয়ে এল। ওর অল্প বয়েস। কাঁচা ফলটির মতো … বিস্তারিত পড়ুন

কালো

তল্লাবাঁশের ঘনবনের মাঝখান দিয়ে সরু পাহাড়ি পথ। কিছু দূর হাঁটতেই চাকুয়া কড়াই আর নাগেশ্বর গাছের জঙ্গল পড়ল। সে জঙ্গল পেরুতেই চোখে পড়ল বড় একটি টিলা। টিলার পুবপাশে ছোট একটি গুহা। অরু গতকাল বিকেলে আমাকে বলল যে ওই গুহার ভিতরে নাকি এক সন্ন্যাসী আস্তানা গেড়েছে। কথাটা শুনে আমি মোটেও অবাক হইনি। বান্দারবানের পূর্ব দিকে বার্মার বর্ডার। … বিস্তারিত পড়ুন

একটি চাউনি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে। এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে। দণ্ড পল মুহূর্ত অহরহ পা ফেলবে না, এমন একটু জায়গা আমি পাই কোথায়। মেঘের সকল সোনার রঙ যে সন্ধ্যায় মিলিয়ে যায় এই চাউনি কি সেই সন্ধ্যায় মিলিয়ে যাবে। নাগকেশরের সকল সোনালি রেণু যে বৃষ্টিতে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!