সওগাত– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পুজোর পরব কাছে। ভাণ্ডার নানা সামগ্রীতে ভরা। কত বেনারসি কাপড়, কত সোনার অলংকার; আর ভাণ্ড ভ’রে ক্ষীর দই, পাত্র ভ’রে মিষ্টান্ন। মা সওগাত পাঠাচ্ছেন। বড়োছেলে বিদেশে রাজসরকারে কাজ করে; মেজোছেলে সওদাগর, ঘরে থাকে না; আর-কয়টি ছেলে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া ক’রে পৃথক পৃথক বাড়ি করেছে; কুটুম্বরা আছে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে। কোলের ছেলেটি সদর দরজায় দাঁড়িয়ে সারা … বিস্তারিত পড়ুন

সে — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– চতুর্থ অংশ

গল্পের ৩য় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন গেছো বাবা উধো। কী রে, সন্ধান পেলি? গোবরা। আরে ভাই, তোমার কথা শুনে আজ মাসখানেক ধরে বনে – বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে হাড় মাটি হল, টিকিও দেখতে পেলুম না। পঞ্চু। কার সন্ধান করছিস রে। গোবরা। গেছো বাবার। পঞ্চু। গেছো বাবা? সে আবার কে রে। উধো। জানিস নে? বিশ্বসুদ্ধ লোক … বিস্তারিত পড়ুন

সতেরো বছর– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি তার সতেরো বছরের জানা। কত আসাযাওয়া, কত দেখাদেখি, কত বলাবলি, তারই আশেপাশে কত স্বপ্ন, কত অনুমান, কত ইশারা; তারই সঙ্গে সঙ্গে কখনো বা ভোরের ভাঙা ঘুমে শুকতারার আলো, কখনো বা আষাঢ়ের ভরসন্ধ্যায় চামেলিফুলের গন্ধ, কখনো বা বসন্তের শেষ প্রহরে ক্লান্ত নহবতের পিলুবারোয়াঁ; সতেরো বছর ধরে এই-সব গাঁথা পড়েছিল তার মনে। আর, তারই সঙ্গে মিলিয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

সে — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– পঞ্চম অংশ

গল্পের ৪র্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন পুপুদিদি হাততালি দিয়ে বলে উঠল, আঃ, সে কী মজাই হত ! অঙ্কে দিদি এবার একশোর মধ্যে সাড়ে তেরো মার্কা পেয়েছে। স্বপ্ন দেখছি কি জেগে আছি বলতে পারি নে। জানি নে কত রাত। ঘর অন্ধকার, লণ্ঠনটা আছে বারান্দায়, দরজার বাইরে। একটা চামচিকে পোকার লোভে ঘুরপাক খেয়ে বেড়াচ্ছে, গয়ায় – … বিস্তারিত পড়ুন

সন্ধ্যা ও প্রভাত– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্‌ দেশে, কোন্‌ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল। অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা। জাগল কে। নিবিয়ে দিল সন্ধ্যায়-জ্বালানো দীপ, ফেলে দিল রাত্রে-গাঁথা সেঁউতিফুলের মালা। এখানে একে একে দরজায় আগল পড়ল, সেখানে জানলা গেল খুলে। এখানে নৌকো ঘাটে বাঁধা, মাঝি ঘুমিয়ে; সেখানে পালে … বিস্তারিত পড়ুন

সিদ্ধি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্বর্গের অধিকারে মানুষ বাধা পাবে না, এই তার পণ। তাই, কঠিন সন্ধানে অমর হবার মন্ত্র সে শিখে নিয়েছে। এখন একলা বনের মধ্যে সেই মন্ত্র সে সাধনা করে। বনের ধারে ছিল এক কাঠকুড়নি মেয়ে। সে মাঝে মাঝে আঁচলে ক’রে তার জন্যে ফল নিয়ে আসে, আর পাতার পাত্রে আনে ঝরনার জল। ক্রমে তপস্যা এত কঠোর হল যে, … বিস্তারিত পড়ুন

সুয়োরানীর সাধ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুয়োরানীর বুঝি মরণকাল এল। তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে, তার কিছুই ভালো লাগছে না। বদ্দি বড়ি নিয়ে এল। মধু দিয়ে মেড়ে বললে, “খাও।” সে ঠেলে ফেলে দিলে। রাজার কানে খবর গেল। রাজা তাড়াতাড়ি সভা ছেড়ে এল। পাশে বসে জিজ্ঞাসা করলে, “তোমার কী হয়েছে, কী চাই।” সে গুমরে উঠে বললে, “তোমরা সবাই যাও; একবার আমার স্যাঙাৎনিকে ডেকে … বিস্তারিত পড়ুন

স্বর্গ-মর্ত– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইন্দ্র। সুরগুরো, একদিন দৈত্যদের হাতে আমরা স্বর্গ হারিয়েছিলুম। তখন দেবে মানবে মিলে আমরা স্বর্গের জন্যে লড়াই করেছি, এবং স্বর্গকে উদ্ধার করেছি, কিন্তু এখন আমাদের বিপদ তার চেয়ে অনেক বেশি। সে কথা চিন্তা করে দেখবেন। বৃহস্পতি। মহেন্দ্র, আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারছি নে। স্বর্গের কী বিপদ আশঙ্কা করছেন। ইন্দ্র। স্বর্গ নেই। বৃহস্পতি। নেই? সে কী … বিস্তারিত পড়ুন

ললাটের লিখন– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– প্রথম অংশ

(বাঁশরী) ছেলেবেলায় পৃথ্বীশের ডান দিকের কপালে চোট লেগেছিল ভুরুর মাঝখান থেকে উপর পর্যন্ত । সেই আঘাতে ডান চোখটাও সংকুচিত । পৃথ্বীশকে ভালো দেখতে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাটা দাগের অবিচারে সম্পূর্ণ হতে পারল না । অদৃষ্টের এই লাঞ্ছনাকে এত দিন থেকে প্রকাশ্যে পৃথ্বীশ বহন করে আসছে তবুও দাগও যেমন মেলায় নি তেমনি ঘোচে নি … বিস্তারিত পড়ুন

বাণী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে বলে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে। তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই— আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী। কিন্তু, কোন্ দেবতার … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!