ল্যাবরেটরি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –দ্বিতীয় অংশ

নন্দকিশোর মারা গেলেন প্রৌঢ় বয়সে কোন্‌-এক দুঃসাহসিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার অপঘাতে। সোহিনী সমস্ত কারবার বন্ধ করে দিলে। বিধবা মেয়েদের ঠকিয়ে খাবার ব্যাবসাদার এসে পড়ল চার দিক থেকে। মামলার ফাঁদ ফাঁদলে আত্মীয়তার ছিটেফোঁটা আছে যাদের। সোহিনী স্বয়ং সমস্ত আইনের প্যাঁচ নিতে লাগল বুঝে। তার উপরে নারীর মোহজাল বিস্তার করে দিলে স্থান বুঝে উকিলপাড়ায়। সেটাতে তার অসংকোচ নৈপুণ্য … বিস্তারিত পড়ুন

ল্যাবরেটরি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –তৃতীয় অংশ

“না না, আমাকে ভুল কোরো না। আমার কথা যদি বল, সুন্দরী মেয়ে আমি পছন্দই করি। ওটা আমার একটা রোগ বললেই হয়। কিন্তু আত্মীয়েরা বেরসিক, ভয় পেয়ে যাবে।” “ভয় নেই, আমি নিজের জাতেই মেয়ের বিয়ে দেব ঠিক করেছি।” এটা একেবারে বানানো কথা। “তুমি নিজে তো বেজাতে বিয়ে করেছ।” “নাকাল হয়েছি কম নয়। বিষয়ের দখল নিয়ে মামলা … বিস্তারিত পড়ুন

ল্যাবরেটরি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –চতুর্থ অংশ

“দু-চার জন? ” “মন যে লোভী, মাংসমজ্জার নীচে লোভের চাপা আগুন সে লুকিয়ে রেখে দেয়, খোঁচা পেলে জ্বলে ওঠে। আমি তো গোড়াতেই নাম ডুবিয়েছি, সত্যি কথা বলতে আমার বাধে না। আজন্ম তপস্বিনী নই আমরা। ভড়ং করতে করতে প্রাণ বেরিয়ে গেল মেয়েদের। দ্রৌপদীকুন্তীদের সেজে বসতে হয় সীতাসাবিত্রী। একটা কথা বলি আপনাকে চৌধুরীমশায়, মনে রাখবেন, ছেলেবেলা থেকে … বিস্তারিত পড়ুন

ল্যাবরেটরি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –পঞ্চম অংশ

রেবতী চমকে উঠে চোখ তুলে চাইলে। সোহিনী বললে, “দেখো তো ডক্টর অব সায়ান্স, ওর শাড়ির রঙের সঙ্গে পাতার রঙের কী চমৎকার মিল হয়েছে।” রেবতী সসংকোচে বললে, “চমৎকার! ” সোহিনী মনে মনে বললে, ‘নাঃ আর পারা গেল না!’ আবার বললে, “ভিতরে বসন্তী রঙ উঁকি মারছে, উপরে সব্‌জে নীল। কোন্‌ ফুলের সঙ্গে মেলে বলো দেখি।” উৎসাহ পেয়ে … বিস্তারিত পড়ুন

ল্যাবরেটরি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর –ষষ্ঠ অংশ

তার পরদিনে রেবতী ল্যাবরেটরিতে নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত বিশ মিনিট আগে এসেই উপস্থিত। সোহিনী প্রস্তুত ছিল না, আটপৌরে কাপড়েই তাড়াতাড়ি চলে এল ঘরে। রেবতী বুঝতে পারলে গলদ হয়েছে। বললে, “আমার ঘড়িটা ঠিক চলছে না দেখছি।” সোহিনী সংক্ষেপে বললে, “নিশ্চয়।” একসময় একটু কী শব্দ শুনে রেবতী মনে মনে চমকে উঠে দরজার দিকে তাকালে। সুখন বেহারাটা গ্লাসকেসের চাবি … বিস্তারিত পড়ুন

ম্যানেজারবাবু — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ তোমাকে যে গল্পটা বলব মনে করেছি সেটা তোমার ভালো লাগবে না। তুমি বললেও ভালো লাগবে না কেন। যে লোকটার কথা বলব সে চিতোর থেকে আসে নি কোনো রানা-মহারানার দল ছেড়ে— চিতোর থেকে না এলে বুঝি গল্প হয় না? হয় বৈকি— সেইটাই তো প্রমাণ করা চাই। এই মানুষটা ছিল সামান্য একজন জমিদারের সামান্য পাইক। এমন-কি, … বিস্তারিত পড়ুন

রাজার বাড়ি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল। ছিল বৈকি, তোর চেয়ে বেশি ছিল। থমকে গেল কুসমি। অল্প একটু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললে, ওঃ, তাই বুঝি তোমাকে এত করে বশ করেছিলেন? তুই যে উল্টো কথা বললি, বুদ্ধি দিয়ে কেউ কাউকে বশ করে? তবে? করে অবুদ্ধি দিয়ে। সকলেরই মধ্যে এক জায়গায় বাসা করে থাকে একটা … বিস্তারিত পড়ুন

চন্দনী — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জানোই তো সেদিন কী কাণ্ড। একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলেম আর-কি, কিন্তু তলায় কোথায় যে ফুটো হয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় নি। না মাথা ধরা, না মাথা ঘোরা, না গায়ে কোথাও ব্যথা, না পেটের মধ্যে একটুও খোঁচাখুঁচির তাগিদ। যমরাজার চরগুলি খবর আসার সব দরজাগুলো বন্ধ করে ফিস্‌ ফিস্‌ করে মন্ত্রণা করছিল। এমন সুবিধে আর হয় না! … বিস্তারিত পড়ুন

রাজরানী—১ম অংশ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই। আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প। কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই বলো। তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে। একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে … বিস্তারিত পড়ুন

মুক্তকুন্তলা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে। বললে, দাদামশায় তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর। তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি। রূপকথা আমাদের চলবে না, আমাদের বয়েস হয়ে গেছে। আমি বললুম, ভায়া, রূপকথার কথাটা তো কিছুই নয়। ওর রূপটাই হল আসল। সেটা সব বয়েসেই চলে। আচ্ছা, … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!