পায়ে চলার পথ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই তো পায়ে চলার পথ। এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে। এই পথে কত মানুষ … বিস্তারিত পড়ুন

পুনরাবৃত্তি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন। দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে। রাজা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী খেলছ।” তারা বললে, “আমাদের আজকের খেলা রামসীতার বনবাস।” রাজা সেখানে বসে গেলেন। ছেলেটি বললে, “এই আমাদের দণ্ডকবন, এখানে কুটীর বাঁধছি।” সে একরাশ … বিস্তারিত পড়ুন

পুরোনো বাড়ি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১ অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি। দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে। দেয়াল থেকে বালি খসে পড়ে, ভাঙা মেঝে নখ দিয়ে খুঁড়ে চড়ুইপাখি ধুলোয় পাখা ঝাপট দেয়, চণ্ডীমণ্ডপে পায়রাগুলো বাদলের ছিন্ন মেঘের মতো দল বাঁধল। উত্তর দিকের এক-পাল্লা দরজা কবে ভেঙে পড়েছে কেউ খবর নিলে না। বাকি দরজাটা, শোকাতুরা বিধবার … বিস্তারিত পড়ুন

প্রথম চিঠি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বধূর সঙ্গে তার প্রথম মিলন, আর তার পরেই সে এই প্রথম এসেছে প্রবাসে। চলে যখন আসে তখন বধূর লুকিয়ে কান্নাটি ঘরের আয়নার মধ্যে দিয়ে চকিতে ওর চোখে পড়ল। মন বললে, ‘ফিরি, দুটো কথা বলে আসি।’ কিন্তু, সেটুকু সময় ছিল না। সে দূরে আসবে বলে একজনের দুটি চোখ বয়ে জল পড়ে, তার জীবনে এমন সে আর-কখনো … বিস্তারিত পড়ুন

প্রথম শোক– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা। সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, “আমাকে চিনতে পার না? ” আমি ফিরে তার মুখের দিকে তাকালেম। বললেম, “মনে পড়ছে, কিন্তু ঠিক নাম করতে পারছি নে।” সে বললে, “আমি তোমার সেই অনেক কালের, সেই পঁচিশ বছর বয়সের শোক।” তার চোখের কোণে একটু ছলছলে আভা … বিস্তারিত পড়ুন

একটি চাউনি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  গাড়িতে ওঠবার সময় একটুখানি মুখ ফিরিয়ে সে আমাকে তার শেষ চাউনিটি দিয়ে গেছে। এই মস্ত সংসারে ঐটুকুকে আমি রাখি কোন্‌খানে। দণ্ড পল মুহূর্ত অহরহ পা ফেলবে না, এমন একটু জায়গা আমি পাই কোথায়। মেঘের সকল সোনার রঙ যে সন্ধ্যায় মিলিয়ে যায় এই চাউনি কি সেই সন্ধ্যায় মিলিয়ে যাবে। নাগকেশরের সকল সোনালি রেণু যে বৃষ্টিতে … বিস্তারিত পড়ুন

কর্তার ভূত– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, “তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।” শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, “আমি গেলে এদের ঠাণ্ডা রাখবে কে?” তা ব’লে মরণ তো এড়াবার জো নেই। তবু দেবতা দয়া করে বললেন, “ভাবনা কী। লোকটা ভূত হয়েই এদের ঘাড়ে চেপে থাক্‌-না। মানুষের মৃত্যু আছে, ভূতের তো মৃত্যু নেই।” ২ দেশের … বিস্তারিত পড়ুন

গলি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি। উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়— ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা। সেই ছাঁটা আকাশটাকে জিজ্ঞাসা … বিস্তারিত পড়ুন

শেষ কথা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– পঞ্চম অংশ

গল্পের ৪র্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অচিরা বলে উঠল, “দাদু, সাধে তোমাকে বলি ছেলেমানুষ। যখন-তখন নেমন্তন্ন করে তুমি আমাকে মুশকিলে ফেল। এই দণ্ডকারণ্যে ফিরপির দোকান পাব কোথায়। ওঁরা বিলেতের ডিনার খাইয়ে জাতের সর্বগ্রাসী মানুষ,কেন তোমার নাতনির বদনাম করবে। অন্তত ভেটকিমাছ আর ভেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে তো।” “আচ্ছা, আচ্ছা, তা হলে কবে আপনার সুবিধে হবে … বিস্তারিত পড়ুন

শেষ কথা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর– ষষ্ঠ অংশ

গল্পের ৫ম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন অচিরার সঙ্গে স্পষ্ট কথা বলার যুগ এল সংক্ষেপেই। সেদিন চড়িভাতি হয়েছিল তনিকা নদীর তীরে। অধ্যাপক ছেলেমানুষের মতন হঠাৎ আমাকে জিগ্‌গেসা করে বসলেন, “নবীন, তোমার কি বিবাহ হয়েছে।” প্রশ্নটা এতই সুস্পষ্ট ভাবব্যঞ্জক যে, আর কেউ হলে ওটা চেপে যেত। আমি উত্তর করলুম, “না, এখনো তো হয় নি।” অচিরার কাছে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!