বাণী— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে বলে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে। তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই— আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী। কিন্তু, কোন্ দেবতার … বিস্তারিত পড়ুন

বিদূষক— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১ কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনা-মানিকে হাতি বোঝাই হল। দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন। পুজো দিয়ে চলে আসছেন— গায়ে রক্তবস্ত্র, গলায় জবার মালা, কপালে রক্তচন্দনের তিলক; সঙ্গে কেবল মন্ত্রী আর বিদূষক। এক জায়গায় দেখলেন, পথের ধারে আমবাগানে ছেলেরা খেলা … বিস্তারিত পড়ুন

ভুল স্বর্গ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লোকটি নেহাত বেকার ছিল। তার কোনো কাজ ছিল না, কেবল শখ ছিল নানা রকমের। ছোটো ছোটো কাঠের চৌকোয় মাটি ঢেলে তার উপরে সে ছোটো ঝিনুক সাজাত। দূর থেকে দেখে মনে হত যেন একটা এলোমেলো ছবি, তার মধ্যে পাখির ঝাঁক; কিংবা এবড়ো-খেবড়ো মাঠ, সেখানে গোরু চরছে; কিংবা উঁচুনিচু পাহাড়, তার গা দিয়ে ওটা বুঝি ঝরনা হবে, … বিস্তারিত পড়ুন

মীনু– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব। বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, “এও বাঁচে কি না-বাঁচে।” তখন তাকে কলকাতায় নিয়ে এল। ওর অল্প বয়েস। কাঁচা ফলটির মতো … বিস্তারিত পড়ুন

নামের খেলা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে। বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ। একে একে লেখাগুলিকে কাগজে পাঠাতে লাগল। কোথাও ছাপা হল না। মনে মনে সে স্থির করলে, যখন হাতে টাকা জমবে তখন নিজে কাগজ … বিস্তারিত পড়ুন

পট– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে শহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁকে, সেখানে কারও কাছে তার পূর্বপরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যবসা। সে মনে ভাবে, ‘ধনী ছিলেম, ধন গিয়েছে, হয়েছে ভালো। দিনরাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে।’ এমন সময় দেশের রাজমন্ত্রী মারা গেল। … বিস্তারিত পড়ুন

পরীর পরিচয়– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রাজপুত্রের বয়স কুড়ি পার হয়ে যায়, দেশবিদেশ থেকে বিবাহের সম্বন্ধ আসে। ঘটক বললে, “বাহ্লীকরাজের মেয়ে রূপসী বটে, যেন সাদা গোলাপের পুষ্পবৃষ্টি।” রাজপুত্র মুখ ফিরিয়ে থাকে, জবাব করে না। দূত এসে বললে, “গান্ধাররাজের মেয়ের অঙ্গে অঙ্গে লাবণ্য ফেটে পড়ছে, যেন দ্রাক্ষালতায় আঙুরের গুচ্ছ।” রাজপুত্র শিকারের ছলে বনে চলে যায়। দিন যায়, সপ্তাহ যায়, ফিরে আসে না। … বিস্তারিত পড়ুন

পায়ে চলার পথ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই তো পায়ে চলার পথ। এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে। এই পথে কত মানুষ … বিস্তারিত পড়ুন

পুনরাবৃত্তি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন। দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে। রাজা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী খেলছ।” তারা বললে, “আমাদের আজকের খেলা রামসীতার বনবাস।” রাজা সেখানে বসে গেলেন। ছেলেটি বললে, “এই আমাদের দণ্ডকবন, এখানে কুটীর বাঁধছি।” সে একরাশ … বিস্তারিত পড়ুন

পুরোনো বাড়ি– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১ অনেক কালের ধনী গরিব হয়ে গেছে, তাদেরই ঐ বাড়ি। দিনে দিনে ওর উপরে দুঃসময়ের আঁচড় পড়ছে। দেয়াল থেকে বালি খসে পড়ে, ভাঙা মেঝে নখ দিয়ে খুঁড়ে চড়ুইপাখি ধুলোয় পাখা ঝাপট দেয়, চণ্ডীমণ্ডপে পায়রাগুলো বাদলের ছিন্ন মেঘের মতো দল বাঁধল। উত্তর দিকের এক-পাল্লা দরজা কবে ভেঙে পড়েছে কেউ খবর নিলে না। বাকি দরজাটা, শোকাতুরা বিধবার … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!