বউ-ঠাকুরানীর হাট–প্রথম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  রাত্রি অনেক হইয়াছে। গ্রীষ্মকাল। বাতাস বন্ধ হইয়া গিয়াছে। গাছের পাতাটিও নড়িতেছে না। যশোহরের যুবরাজ, প্রতাপাদিত্যের জ্যেষ্ঠ পুত্র, উদয়াদিত্য তাঁহার শয়নগৃহের বাতায়নে বসিয়া আছেন। তাঁহার পার্শ্বে তাঁহার স্ত্রী সুরমা। সুরমা কহিলেন, “প্রিয়তম, সহ্য করিয়া থাকো, ধৈর্য ধরিয়া থাকো। একদিন সুখের দিন আসিবে।” উদয়াদিত্য কহিলেন, “আমি তো আর-কোনো সুখ চাই না। আমি চাই, আমি রাজপ্রাসাদে না … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ, কাজটা কি ভালো হইবে?” প্রতাপাদিত্য জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোন্‌ কাজটা?” মন্ত্রী কহিলেন, “কাল যাহা আদেশ করিয়াছিলেন।” প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “কাল কী আদেশ করিয়াছিলাম?” মন্ত্রী কহিলেন, “আপনার পিতৃব্য সম্বন্ধে।” প্রতাপাদিত্য আরও বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “আমার পিতৃব্য সম্বন্ধে কী?” মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ আদেশ করিয়াছিলেন, যখন বসন্ত রায় যশোহরে আসিবার পথে শিমুলতলির চাটিতে আশ্রয় লইবেন … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিজন পথ দিয়া বিদ্যুদ্‌‍বেগে যুবরাজ অশ্ব ছুটাইয়া চলিয়াছেন। অন্ধকার রাত্রি, কিন্তু পথ দীর্ঘ সরল প্রশস্ত বলিয়া কোনো ভয়ের আশঙ্কা নাই। স্তব্ধ রাত্রে অশ্বের খুরের শব্দে চারিদিক প্রতিধ্বনিত হইতেছে, দুই-একটি কুকুর ঘেউ-ঘেউ করিয়া ডাকিয়া উঠিতেছে, দুই-একটা শৃগাল চকিত হইয়া পথ ছাড়িয়া বাঁশঝাড়ের মধ্যে লুকাইতেছে। আলোকের মধ্যে আকাশের তারা ও পথপ্রান্তস্থিত গাছে জোনাকি; শব্দের মধ্যে ঝিঁঝিঁ পোকার … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–চল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মহেন্দ্র কোথায় নিরুদ্দেশ হইয়া গেল, সেই আশঙ্কায় রাজলক্ষ্মীর আহারনিদ্রা বন্ধ। সাধুচরণ সম্ভব-অসম্ভব সকল স্থানেই তাহাকে খুঁজিয়া বেড়াইতেছে– এমন সময় মহেন্দ্র বিনোদিনীকে লইয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিল। পটলডাঙার বাসায় তাহাকে রাখিয়া রাত্রে মহেন্দ্র তাহার বাড়িতে আসিয়া পৌঁছিল। মাতার ঘরে মহেন্দ্র প্রবেশ করিয়া দেখিল, ঘর অন্ধকারপ্রায়, কেরোসিনের লণ্ঠন আড়াল করিয়া রাখা হইয়াছে। রাজলক্ষ্মী রোগীর ন্যায় বিছানায় শুইয়া আছেন … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–একচল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  প্রথম রাতে বিনোদিনীকে পটলডাঙার বাসায় রাখিয়া মহেন্দ্র যখন তাহার কাপড় ও বই আনিতে বাড়ি গেল, বিনোদিনী তখন কলিকাতার বিশ্রামবিহীন জনতরঙ্গের কোলাহলে একলা বসিয়া নিজের কথা ভাবিতেছিল। পৃথিবীতে তাহার আশ্রয়স্থান কোনোকালেই যথেষ্ট বিস্তীর্ণ ছিল না, তবু তাহার এক পাশ তাতিয়া উঠিলে আর-একপাশে ফিরিয়া শুইবার একটুখানি জায়গা ছিল– আজ তাহার নির্ভরস্থল অত্যন্ত সংকীর্ণ। সে যে নৌকায় … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–বিয়াল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  রাত্রেই মহেন্দ্র শয্যা ছাড়িয়া গেছে শুনিয়া রাজলক্ষ্মী বধূর প্রতি অত্যন্ত রাগ করিলেন। মনে করিলেন, আশার লাঞ্ছনাতেই মহেন্দ্র চলিয়া গেছে। রাজলক্ষ্মী আশাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহেন্দ্র কাল রাত্রে চলিয়া গেল কেন।” আশা মুখ নিচু করিয়া বলিল, “জানি না, মা।” রাজলক্ষ্মী ভাবিলেন, এটাও অভিমানের কথা। বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “তুমি জান না তো কে জানিবে। তাহাকে কিছু বলিয়াছিলে?” … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–তেতাল্লিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  পরদিন প্রাতে মহেন্দ্র মাকে বলিল, “মা, পড়াশুনার জন্য আমার একটি নিরিবিলি স্বতন্ত্র ঘর চাই। কাকীমা যে ঘরে থাকিতেন, সেই ঘরে আমি থাকিব।” মা খুশি হইয়া উঠিলেন– ‘তবে তো মহিন বাড়িতেই থাকিবে। তবে তো বউমার সঙ্গে মিটমাট হইয়া গেছে। আমার এমন সোনার বউকে কি মহিন চিরদিন অনাদর করিতে পারে। এই লক্ষ্মীকে ছাড়িয়া কোথাকার সেই মায়াবিনী … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–চব্বিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  মহেন্দ্র ভাবিতে লাগিল, ‘আমি বলিয়াছি মিথ্যা কথা, আমি বিনোদিনীকে ভালোবাসি না। অত্যন্ত কঠিন করিয়া বলিয়াছি। আমি যে তাহাকে ভালোবাসি তাহা না-ই হইল, কিন্তু ভালোবাসি না, এ কথাটা বড়ো কঠোর। এ কথায় আঘাত না পায় এমন স্ত্রীলোক কে আছে। ইহার প্রতিবাদ করিবার অবসর কবে কোথায় পাইব। ভালোবাসি এ কথা ঠিক বলা যায় না; কিন্তু ভালোবাসি … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–পঁচিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেদিন নূতন ফাল্গুনে প্রথম বসন্তের হাওয়া দিতেই আশা অনেক দিন পরে সন্ধ্যার আরম্ভে ছাদে মাদুর পাতিয়া বসিয়াছে। একখানি মাসিক কাগজ লইয়া খণ্ডশ প্রকাশিত একটা গল্প খুব মনোযোগ দিয়া সেই অল্প আলোকে পড়িতেছিল। গল্পের নায়ক তখন সংবৎসর পরে পূজার ছুটিতে বাড়ি আসিবার সময় ডাকাতের হাতে পড়িয়াছে, আশার হৃদয় উদ্‌‍বেগে কাঁপিতেছিল, এ দিকে হতভাগিনী নায়িকা ঠিক সেই … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–ছাব্বিশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  এক দিকে চন্দ্র অস্ত যায়, আর-এক দিকে সূর্য উঠে। আশা চলিয়া গেল, কিন্তু মহেন্দ্রের ভাগ্যে এখনো বিনোদিনীর দেখা নাই। মহেন্দ্র ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়ায়, মাঝে মাঝে ছুতা করিয়া সময়ে-অসময়ে তাহার মার ঘরে আসিয়া উপস্থিত হয়, বিনোদিনী কেবলই ফাঁকি দিয়া পালায়, ধরা দেয় না। রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রের এইরূপ অত্যন্ত শূন্যভাব দেখিয়া ভাবিলেন, ‘বউ গিয়াছে, তাই এ বাড়িতে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!